শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আন্তর্জাতিক সংবাদ
'চন্দ্রযান-২'-এর অবস্থান শনাক্তের দাবি ভারতের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
Published : Sunday, 8 September, 2019 at 7:31 PM
'চন্দ্রযান-২'-এর অবস্থান শনাক্তের দাবি ভারতেরভারতের সদ্য সমাপ্ত চন্দ্রাভিযান শতভাগ সফল না হলেও দেশটির সকল প্রচেষ্টাই এবার নজরে এসেছে আন্তর্জাতিক মহলের। যদিও এরই মধ্যে 'চন্দ্রযান-২' এর ল্যান্ডার বিক্রমের অবস্থান শনাক্ত করা গেছে বলে দাবি দেশটির মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। সংস্থাটি জানায়, চাঁদের মাটিতে ইতোমধ্যে বিক্রমের অবস্থান শনাক্ত করা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত যানটির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা যায়নি।
রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) ইসরোর চেয়ারম্যান কে শিবান গণমাধ্যম 'এনডিটিভি'কে বলেন, 'আমরা বিক্রমের অবস্থান শনাক্ত করেছি। এখন যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা চলছে। পরবর্তীতে সর্বশেষ তথ্য জানানো হবে।'
এ দিকে ইসরোর বিজ্ঞানীদের মতে, 'চন্দ্রযান-২' এর অর্বিটারকে কাজে লাগিয়েই এবার বিক্রমের সন্ধান পাওয়া গেছে। মূলত অর্বিটের পাঠানো থার্মাল ছবি থেকে তারা এর খোঁজটি পেয়েছেন। 'থার্মাল ইমেজে'র মাধ্যমে প্রধানত যেকোনো ছবির তাপমাত্রাকে বিভিন্ন রঙে চিহ্নিত করা হয়। আর এর মাধ্যম কোনো বস্তুর তাপমাত্রা আলাদা হলে তাকে সহজেই শনাক্ত করা যায়। মূলত এভাবেই চন্দ্রপৃষ্ঠের থার্মাল ছবি ধারণের মাধ্যমে আলাদা রঙে চিহ্নিত করা গেছে ল্যান্ডার বিক্রমের প্রকৃত অবস্থান।
যদিও বিক্রমের সঙ্গে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের যোগাযোগ স্থাপন করা যায়নি। তাই প্রাথমিকভাবে বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা চলছে। যদিও কাজটি সফল হলে খুব শিগগিরই বেশ কিছু জরুরি তথ্য পাওয়া যাবে বলে ধারণা বিজ্ঞানীদের।
অপর দিকে গণমাধ্যমের দাবি, শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় দিবাগত রাত ২টা ২০ মিনিটে চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণের মাত্র কয়েক সেকেন্ড আগেই 'চন্দ্রযান-২' এর ল্যান্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) ইসরোর চেয়ারম্যান কে শিবন বলেছিলেন, 'রাত ১.৩৮ মিনিটে আমাদের অবতরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। চন্দ্রযান চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ২.১ কিলোমিটার পর্যন্ত পুরোপুরি স্বাভাবিকভাবেই চলছিল বিক্রমের অবতরণ প্রক্রিয়া। মূলত এর পরপরই রাত ২টা ২০ মিনিটে যেকোনো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে যানটির সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। যা এখনো স্থাপন করা যায়নি।'
বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম দেশ হিসেবে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণের মাধ্যমে প্রথম দেশের স্বীকৃতি পাওয়ার কথা ছিল ভারতের। যদিও শেষমেশ মিশনকে আর সফলের বার্তা দিতে পারেনি ইসরোর বিজ্ঞানীরা।
ভারতীয় বিজ্ঞানীদের মতে, ইসরো চাঁদে নতুন অভিযানের জন্য সব রকম প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিল। যেখানে অভিযানে ব্যবহার করা হয়েছিল 'চন্দ্রযান-২' নামে নতুন স্যাটেলাইট। এবার যানটি চাঁদে অবতরণ করতে পারলে এটি হতো বিশ্বের চতুর্থ কোনো দেশের সফলভাবে চন্দ্র অভিযান। এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া (সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন) সফলভাবে নিজেদের অভিযানটি সম্পন্ন করেছিল।
ইসরো জানায়, চাঁদ থেকে পানি, খনিজ ও পাথর সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করার জন্য ১৫ কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল এই 'বিক্রম' নামে যানটিকে। চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণের সঙ্গে সঙ্গেই এর ল্যান্ডর থেকে বেরিয়ে আসার কথা ছিল ভীষণ ছোট একটি রোভার 'প্রজ্ঞান'। যার ওজন মাত্র ২০ কিলোগ্রাম। আর 'চন্দ্রযান-২' এর সার্বিক ওজন ৩ হাজার ৮৫০ কিলোগ্রাম। ল্যান্ডরটি নেমে আসার সময় 'চন্দ্রযান-২' এর অরবিটারটি চাঁদের পিঠ (লুনার সারফেস) থেকে মাত্র ১০০ কিলোমিটার ওপরে ছিল।
এর আগে ভারতের প্রথম চন্দ্রাভিযান হয়েছিল ২০০৮ সালে। তখন চাঁদের কক্ষপথে গিয়েছিল 'চন্দ্রযান-১'। চাঁদে পানির অন্যতম উপাদান হাইড্রক্সিল আয়নের খোঁজ দিয়েছিল যানটি।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft