শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
রাবি অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলামের এডিস মশার লার্ভা নিধনে পদ্ধতি আবিস্কার
রাজশাহী ব্যুরো :
Published : Sunday, 8 September, 2019 at 7:31 PM
রাবি অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলামের এডিস মশার লার্ভা নিধনে পদ্ধতি আবিস্কারডেঙ্গুজ্বরের উৎপত্তি এডিস মশা থেকে। এই এডিস মশার লার্ভা নিধনে নতুন এক পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ফার্মেসী বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম। মহামারি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। প্রতিদিনই মারা যাচ্ছে কেউ না কেউ। দীর্ঘ প্রায় দুই মাসেও এই মহামারির কোন সমাধান করতে পারেনি সরকার।এই পদ্ধতিতে তেলাপিয়া মাছকে পানির মধ্যে খাঁচায় আটকে রেখে মশার লার্ভা ধ্বংস করা যাবে। যার ফলে একদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে অপরদিকে ক্ষতিকর এডিস মশার লার্ভা খেয়ে ধ্বংস করবে মাছ।
অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, তেলাপিয়া মাছকে খাঁচায় বন্দী রেখে ড্রেনের পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয়, যাতে তেলাপিয়া মাছকে কোন সাপ, ব্যাঙে না খেয়ে ফেলতে পারে। মাছকে কম খাবার দিতে হয় যাতে মাছ ক্ষুধার্ত অবস্থায় মশার লার্ভা খেয়ে ফেলতে পারে, প্রয়োজন অনুযায়ী এই ফাঁদ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সারানো যাবে।তিনি আরো বলেন, “প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার কারণে যুগে যুগে ভয়াবহ রোগ-ব্যাধির প্রাদুর্ভাবের ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে। বাংলাদেশে ইদানিং যে ডেঙ্গু জ্বরের ভয়াবহ অবস্থা বিরাজমান, আমার মতে এ দেশে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বা এর হুমকির মুখে পড়াটাই তার অন্যতম কারণ। কয়েক বছর আগেও বর্ষা মৌসুমে শহরের ড্রেন, ডোবা যখন পানিতে ভোরে যেত, তখন সেই পানির ভিতরে ছোটবড় অনেক ধরণের মাছের বিচরণ ছিল লক্ষণীয়। মশার ডিম ফুটে বেরোনো লার্ভা হচ্ছে ছোট-ছোট মাছের অত্যন্ত প্রিয় একটি মজাদার খাবার।”গবেষক আনোয়ারুল ইসলাম আরো বলেন, “আমার পর্যবেক্ষণ মতে, নাইলোটিকা জাতীয় মাছ তো মশার লার্ভা পেলে অন্য খাবারের ধারে-কাছেই যেতে চায় না।
তিনি আরো বলেন, “আমার পর্যবেক্ষণমতে, যেহেতু নাইলোটিকা জাতীয় মাছ মশার লার্ভা খেয়ে ফেলার খুব চমৎকার ক্ষমতা রয়েছে। সুতরাং এই জাতীয় মাছকে এডিস মশা সহ সকল জাতীয় মশার লার্ভা নিধনে শিকারী মাছ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা প্রকল্পে এই বিষয় নিয়ে গবেষণা করেছি। গবেষণায় দেখা গেছে, ড্রেনের মধ্যে থাকা মশার লার্ভা খেয়ে ফেলছে নাইলোটিকা জাতীয় মাছ। এভাবেই খাঁচায় আটকে রেখে মশার লার্ভা ধ্বংস করা সম্ভব।
”অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “লার্ভা শিকারের জন্য নাইলোটিকা মাছকে খাঁচার ভিতরে আটকে রাখার বেনিফিটস একাধিক। প্রথমত অন্যান্য রাক্ষস জাতীয় মাছের হাত থেকে শিকারী নাইলোটিকা মাছকে রক্ষা করা; দ্বিতীয়ত, লার্ভা শিকারে অধিকতর দক্ষ হয়ে উঠা এই নাইলোটিকা মাছকে প্রয়োজনে এক ড্রেন থেকে অন্য ড্রেনে স্থানান্তর করে সীমিত সময়ে অধিক কার্যকর ভূমিকা রাখা যায়।”
তিনি বলেন, “ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় এখন ইমারত নির্মাণের কাজ চলছে। ইট ভিজানোর জন্য যে চৌবাচ্চা করা হয়, সেগুলো হতে পারে এডিস মশা বংশ বিস্তারের অন্যতম জায়গা। তবে, এর সমাধান আছে।
আমি দেখেছি নাইলোটিকা বা এরকমের কোন মাছ মশার লার্ভা খেয়ে ফেলার খুব চমৎকার ক্ষমতা রয়েছে। সুতরাং এসব চৌবাচ্চা মাছ চাষের জন্য ব্যবহার করলে এডিস মশার বংশবিস্তার অনেকাংশে লাঘব হবে। আর এডিস মশা যে শুধুমাত্র পরিষ্কার পানিতে জন্মায় এ ধারনাও সত্য নয়। ড্রেনের বা খালের আবদ্ধ নোংরা পানিতেও এ মশা জন্মাতে সক্ষম। তাই এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে বাড়ির আশেপাশের নোংরা পানিও মশামুক্ত রাখতে হবে।”এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এম আব্দুস সোবহানের পরামর্শে এবং উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো জাকারিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিমপাড়া মসজিদের সামনের ড্রেনে এ্যান- ওয়্যার লার্ভাসিডাল ট্রেপ নামক নতুন পদ্ধতির লার্ভা নিধন ফাঁদ স্থাপন করা হয়।
এই পদ্ধতি ব্যবহার সম্পর্কে উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো জাকারিয়া বলেন, “দেশের শহরগুলোতে দিন দিন যে হারে ড্রেনে ময়লা আর্বজনা ফেলা হচ্ছে তাতে এডিস মশার লার্ভা বেড়েই চলেছে। এই নতুন পদ্ধতি শহরের ড্রেনে ব্যবহারের ফলে এডিস মশার বংশবৃদ্ধি কমিয়ে আনা সম্ভব।”এই সময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর, রবিউল ইসলাম রবি, শাহ মখদুম হলের প্রাধ্যক্ষ ড.আরিফুর রহমানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft