মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
ফাঁদে আটকে নিস্ব হচ্ছে এলাকার মানুষ
পুলিশের সহযোগিতায় চৌগাছার মান্দারতলায় জমজমাট জুয়ার আসর
কাগজ সংবাদ :
Published : Sunday, 8 September, 2019 at 6:08 AM
পুলিশের সহযোগিতায় চৌগাছার মান্দারতলায় জমজমাট জুয়ার আসর যশোরের চৌগাছার পুড়াপাড়া মান্দারতলায় চলছে জমজমাট জুয়ার আসর। সেখানে তিন তাস, নয় তাস, কাটাকাটি, নিপুণ, চড়াচড়ি, ডায়েস, রেমিসহ নানা নামের জুয়া খেলায় প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা হাত বদল হচ্ছে। জুয়ার আসর চলছে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত।
অভিযোগ উঠেছে, প্রকাশ্যে টোং ঘর বানিয়ে জুয়ার আসর বসানো হলেও স্থানীয় থানা পুলিশ প্রতিদিন মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, জুয়ার বোর্ড পরিচালনা করছেন মান্দারতলার ঘরজামাই কালাম মিস্ত্রি, স্থানীয় ইউপি সদস্য শরিফুল ইসলাম, যশোর সদরের দোগাছিয়া গ্রামের মান্নান মেম্বার, খিতিবদিয়া শিয়ালদাড়ী গ্রামের সাইফুল ইসলাম, মান্দারতলার ফেন্সি স¤্রাট হিসেবে পরিচিত কনু ও মহিদুল।
এলাকাবাসী অভিযোগে জানা গেছে, পুড়াপাড়া মান্দারতলার রসুলপুর গ্রামের আজিজুল মেম্বারের কলাবাগানে ১৫ দিন ধরে জুয়ার আসর চলছে। যশোর শহরের পালবাড়ি, উপশহর খাজুরা বাসস্ট্যান্ড, শেখহাটি, চুড়ামনকাটি, বারীনগর, ঝিকরগাছা উপজেলা, চৌগাছা উপজেলা, ঝিনাইদহের মহেশপুর, কালীগঞ্জ, বারোবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার জুয়াড়িরা এখানে জুয়া খেলতে আসে। পুড়াপাড়া মোড়ে মোবাইল হাতে বসে থাকে একাধিক ভাড়াটিয়া যুবক। নতুন আসা জুয়াড়িরা তাদের সাথে যোগাযোগ করেন। তারা তাদের আসর চিনিয়ে দেয়।
সূত্র জানায়, জুয়ার আসরের প্রধান কালাম মিস্ত্রি ও মান্নান মেম্বার পুলিশ ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ম্যানেজের কাজে ব্যস্ত থাকে। প্রতিদিন আসর শেষে আয় হওয়া টাকার একটি অংশ থানা পুলিশ ও প্রভাবশালীদের পৌঁছে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া, জুয়াড়িদের নিরাপত্তা দেয়ার জন্যে একদল যুবককে ভাড়া করে রাখা হয়েছে। যাতে করে তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস না পায়। ফলে বাধাহীনভাবে প্রকাশ্যে চলছে জুয়ার আসর। এতে এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তারা বলছেন স্থানীয় থানা পুলিশ বিষয়টি জানলেও টাকার বিনিময়ে না জানার ভান করছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, চৌগাছা থানার এসআই বিকাশ প্রতিদিন খেলা শেষে চুক্তির টাকা বুঝে নেন। তিনি শুধু জুয়ার র্বোড থেকে নয় গোটা উপজেলার সকল মাদক ব্যবসায়ীর নিকট থেকেও টাকা তুলে থাকেন। অবশ্য এসব অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন এসআই বিকাশ।
জুয়ার বোর্ড পরিচালনাকারী দলের একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, থানা পুলিশসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তররের কর্তা ব্যক্তিকে ম্যানেজ করেই খেলা করানো হয়। ফলে পুলিশ এখানে অভিযান চালাবে না।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পুলিশি অভিযানের আগেই জুয়ার বোর্ড পরিচালনাকারী কালামের নিকট আগম খবর পৌঁছে দেন এসআই বিকাশ। ফলে অনেকটা বাধাহীন ভাবেই এখানে চলছে জুয়ার আসর।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় অনেকেই তাদের ফাঁদে পা দিয়ে সর্বশান্ত হয়ে পড়ছে। জানা গেছে, এর আগে কালাম মিস্ত্রির নেতৃত্বে একই স্থানে জুয়ার আসর বসে। ওই সময় থানা পুলিশের কঠোরতায় তারা জুয়ার আসর গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়। কিন্তু, কয়েকদিন যেতে না যেতেই আবারো একই স্থানে জুয়ার আসর বসিয়ে লাখ লাখ টাকার খেলা চলছে। এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, প্রায় এক মাস আগে একদিন পুলিশের পক্ষ থেকে জুয়ার আসরে অভিযান পরিচালনা করা হয়। কিন্তু সেই অভিযান হালে পানি পায় নি। অভিযানের আগেই জুয়াড়িরা সবকিছু গুটিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যায়। পরবর্তীতে পুনরায় চুক্তিভিত্তিক টাকার পরিমাণ বাড়িয়ে আবারও একই স্থানে শুরু হয়েছে জুয়ার আসর।
এই বিষয়ে চৌগাছা থানার ওসি রিফাত খান রাজিবের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে থানার ওসি (তদন্ত) উত্তম কুমার জানান, মাদক ও জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে থানা পুলিশ বরাবরই সোচ্চার রয়েছে। তাদের কাছে কোন অপরাধীর আশ্রয় নেই। মান্দারতলায় যদি পুনরায় জুয়ার আসর বসে তাহলে সেটি উচ্ছেদে ভূমিকা রাখা হবে।
তিনি আরো জানান, জুয়া খেলার ঘটনায় থানা পুলিশ টাকা গ্রহণ করে কিনা সেটি তার জানা নেই। তবে যদি কেউ নিয়ে থাকে তাহলে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft