রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
শার্শায় গৃহবধূ ধর্ষণ তদন্তে পিবিআই মাঠে
ডিএনএ প্রোফাইলের জন্যে ভিকটিমের সোয়াপ সিআইডি হেড কোয়ার্টারে
বিশেষ প্রতিনিধি :
Published : Sunday, 8 September, 2019 at 6:08 AM
ডিএনএ প্রোফাইলের জন্যে ভিকটিমের সোয়াপ সিআইডি হেড কোয়ার্টারে শার্শায় গৃহবধূর ডাক্তারি পরীক্ষায় পাওয়া গণধর্ষণের আলামতের সাথে অভিযুক্তদের ডিএনএ টেস্টের জন্য ভিকটিমের সোয়াপ কালেকশন করে সিআইডি হেড কোয়ার্টারে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশের গঠন করা তদন্ত কমিটি এখনও তাদের রিপোর্ট জমা দেননি। এছাড়া ভয়ে মামলায় দারোগা খায়রুল আলমের নাম দেননি সংক্রান্ত ভুক্তভোগীর ৬ সেপ্টেম্বরের বক্তব্যে গোটা দেশে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার ও মহিলা বিষয়ক বিভিন্ন সংগঠন ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
৩ সেপ্টেম্বর যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের কাছে শার্শার গোড়পাড়া পুলিশ ফাঁড়ির আইসি এসআই খাইয়ুল আলমের বিরুদ্ধে গণধর্ষণের অভিযোগ তোলেন ওই এলাকার মাদক মামলার এক আসামির স্ত্রী। ২ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ২ টার দিকে শার্শার গোড়পাড়া পুলিশ ফাঁড়ির আইসি এসআই খায়রুল আলম ওই এলাকার সোর্স নামধারী চটকাপোতা গ্রামের মৃত হামিজ উদ্দিনের ছেলে কামারুল, লক্ষণপুরের আব্দুল মাজেদের ছেলে আব্দুল লতিফ ও মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে আব্দুল কাদেরকে নিয়ে আসামির স্ত্রীকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। এরপর প্রথমে এসআই খায়রুল আলম ও পরে পুলিশের সোর্স কামারুল তাকে ধর্ষণ করেন।
তবে ওই দিন রাতে শার্শা থানায় ভুক্তভোগী ধর্ষণ মামলা করলেও এসআই খায়রুল আলমের নাম উল্লেখ করেননি। আসামি করেন ওই তিন সোর্সকে। এছাড়া অজ্ঞাত করেন একজনকে। মামলাটি পুলিশ হেড কোয়ার্টার্সের নির্দেশনায় ৬ সেপ্টেম্বর পিবিআই যশোরকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত হন ইন্সপেক্টর শেখ মোনায়েম হোসেন। দায়িত্ব পেয়েই ৬ সেপ্টেম্বর তিনি ওই গৃহবধূর বাড়ি পরিদর্শন ও জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন। তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মোনায়েম হোসেন ৭ সেপ্টেম্বর জানিয়েছেন ভিকটিমের সোয়াপ কালেকশন করে ডিএনএ প্রোফাইলের জন্যে সিআইডি হেড কোয়ার্টারে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে ডাক্তারি পরীক্ষায় পাওয়া ধর্ষণের আলামতের সাথে ৩ জনের ডিএনএ টেস্ট করাতে আদালতে আবেদন করা হয়েছে।
জবানবন্দির তথ্য, মামলায় নাম না থাকলেও ভিকটিমের বর্তমান বক্তব্য ও পুলিশের হেফাজতে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের সামনে এসআই খায়রুলকে ধর্ষণকারী হিসেবে অভিযুক্ত করার বিষয়টি নিয়েও তদন্ত করছে পিবিআই। অভিযুক্ত এসআই খায়রুল আলমের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান, ঘটনাটি এখনও তদন্তাধীন। তদন্তে তার যদি সম্পৃক্ততা থাকে তাহলে পরবর্তীতে জানানো হবে।
গত ৬ সেপ্টেম্বর গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূর সাথে দ্বিতীয় দফায় সাংবাদিকরা কথা বললে তিনি জানিয়েছিলেন, ভয়ে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সামনে স্থানীয় গোড়পাড়া ফাঁড়ির এসআই খায়রুলের নাম প্রকাশ করতে পারেননি তিনি। তিনি এসআই খায়রুলসহ সব আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে জানান, তিনি খায়রুলকে ভালোভাবেই চেনেন। তাদের কাছ থেকে দফায় দফায় ৮ ও ৪ হাজার করে টাকা নিয়েছে। আবার বিনা কারণে তার স্বামীরে ধরেও নিয়ে গেছে।
মামলার বর্তমান তদন্তকারী ইউনিট পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এমকেএইচ জাহাঙ্গীর হোসেন জানিয়েছেন, ৬ সেপ্টেম্বর পুলিশ হেড কোয়ার্টারের এক আদেশে পিবিআইকে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
এছাড়া শার্শার এই গণধর্ষণ ঘটনায় জেলা পুলিশের বিভাগীয় একটি তদন্ত কমিটি কাজ করছে। কমিটি প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অপরাধ সালাউদ্দিন সিকদার গ্রামের কাগজকে জানিয়েছেন এখনও তদন্ত চলছে, রিপোর্ট জমা দেয়া হয়নি। রোববার পর্যন্ত সময় আছে।  



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft