বুধবার, ০৩ জুন, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দেবে আজ
শার্শার সেই মহিলা গণ ধর্ষণের শিকার
দারোগা খাইরুল নির্দোষ ?
বিশেষ প্রতিনিধি :
Published : Friday, 6 September, 2019 at 6:16 AM
শার্শার সেই মহিলা গণ ধর্ষণের শিকারযশোরের শার্শার পল্লীতে মাদক মামলার আসামির স্ত্রীকে গণধর্ষণ করা হয়েছে এমন প্রমাণ মিলেছে ডাক্তারি পরীক্ষায়। ভুক্তভোগী গৃহবধূ সাংবাদিকদের সামনে ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে গোড়পাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খাইরুল আলমের নাম বললেও মামলায় তার  নাম উল্লেখ না করায় গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে। তবে পুলিশের সিনিয়র অফিসারগন যে তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করছেন তাতে ঘটনার সময় দারোগা খাইরুল ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তিনি পুলিশের অন্য একটি ইউনিটকে সহযোগিতা করতে সরকারি কাজে নিয়োজিত ছিলেন। তবে দারোগা খাইরুল সংশ্লিষ্ট কি না আজ তা চুড়ান্ত হবে তদন্ত কমিটির রিপোর্টে।
৩ সেপ্টেম্বার যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের কাছে শার্শার গোড়পাড়া পুলিশ ফাঁড়ির আইসি এসআই খাইরুল আলমের বিরুদ্ধে গণধর্ষণের অভিযোগ তোলেন ওই এলাকার মাদক মামলার এক আসামির স্ত্রী। গত ২ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ২ টার দিকে শার্শার গোড়পাড়া পুলিশ ফাঁড়ির আইসি এস আই খাইরুল আলম  ওই এলাকার সোর্স নামধারী চটকাপোতা গ্রামের কামারুল, লক্ষণপুরের আব্দুল লতিফ ও আব্দুল কাদেরকে  নিয়ে আসামির স্ত্রীকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এসআই খাইরুল তার স্ত্রীর কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে খাইরুল ও কামারুল ক্ষিপ্ত হয়ে বাকবিতন্ডা শুরু করেন। এরপর আসামির স্ত্রীকে প্রথমে এসআই খাইরুল ও পরে পুলিশের সোর্স কামারুল ধর্ষণ করেন। এসময় অপর দু সোর্স লতিফ ও কাদের ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। বিষয়টি কাউকে জানালে তাকেও মামলা দিয়ে জেলে পাঠানোর হুমকি দেয়া হয়।
যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার আবুল কালাম আজাদ লিটুর অফিসে যখন বিষয়টি বর্ননা করতে থাকেন তখন কোতোয়ালি থানার ওসি মনিরুজ্জামান হাসপাতালে যান এবং তত্ত্বাবধায়কের অনুমতি নিয়ে ওই নারীকে পুলিশ সুপারের অফিসে নিয়ে যান।
এরপর ওই দিন রাতে শার্শা থানায় ভুক্তভোগী নারী ধর্ষণ মামলা করলেও এসআই খাইরুল আলমের নাম উল্লেখ করেননি। আসামি করেন চটকাপোতা গ্রামের মৃত হামিজ উদ্দিনের ছেলে কামারুল, লক্ষণপুরের আব্দুল মাজেদের ছেলে আব্দুল লতিফ ও মৃত আব্দুল  মজিদের ছেলে আবদুল কাদেরকে। ওই ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। একইদিন ভুক্তভোগীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এরপর ৫ সেপ্টেম্বার পরীক্ষাগার থেকে জানানো হয়েছে পরীক্ষায় ভুক্তভোগীর (৩২) গণধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে।
যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার আরিফ আহমেদ জানিয়েছেন, ওই গৃহবধূ গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। গণধর্ষণে কে বা কারা জড়িত তা নিশ্চিত করতে ডিএনএ টেস্টের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, ৩ সেপ্টেম্বর গৃহবধূর ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে আলামত সংগ্রহ করে তা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। সেখান থেকে পাওয়া প্রতিবেদনে গণধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়। কিন্তু ওই বীর্য কার বা কাদের তা ডিএনএ টেস্ট ছাড়া বলা যাবেনা। সিআইডির মাধ্যমে ডিএনএ টেস্ট করাতে হবে। সিআইডির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আলামত প্রস্তুত রাখতে। তারা ডিএনএ টেস্ট করাবেন।
ঘটনার ব্যাপারে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অপরাধ ও মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশন্স উইং মূখ্য লিয়াজো অফিসার সালাউদ্দিন সিকদার গ্রামের কাগজকে জানিয়েছেন, নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে এসআই খাইরুল আলমকে গোড়পাড়া পুলিশ ক্যাম্প থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া যশোর জেলায় খাইরুল বা খাইরুল আলম নামে অন্য কোনো পুলিশ সদস্য আছে কিনা সেব্যাপারে খোঁজ নেয়া হয়েছে। দেখা গেছে এসআই শেখ খাইরুল বাসার যিনি শার্শা থনায় কর্মরত। তিনি ২৫ আগস্ট থেকে এক মাসের জন্য বিআইসি প্রশিক্ষণে এসবি ট্রেনিংয়ে আছেন ঢাকায়। অপর এসআই খাইরুল ইসলাম বেনাপোল ইমিগ্রেশনে  কর্মরত আছেন। ঘটনার সময় অন্য কোনো পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়েছিল কিনা এবং অন্য কেউ গিয়ে পুলিশের নাম বলে এসেছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলায় উল্লেখ করা অজ্ঞাত চতুর্থ ব্যক্তি পুলিশ সদস্য কিংবা অন্য যে কেউ হোক তাকে শনাক্ত ও  আটকের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগেই খাইরুল আলমকে প্রত্যাহার করার কারণ জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান যেহেতু এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্তে যেন নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে সে কারণে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
পুলিশের অপর একটি সূত্র দাবি করেছে  মামলায় গৃহবধূ যে সময় উল্লেখ করেছেন সে সময়ে বাইরের জেলা থেকে ওই এলাকায় আসা পুলিশের অন্যএকটি টিমের সাথে ছিলেন এস আই খাইরুল আলম। এছাড়া ওই রাতে উল্লেখিত ঘটনার সময় একজন সিনিয়র অফিসার বিশেষ কারণে ফাঁড়িতে গেলে সেখানে  খাইরুলকে উপস্থিত পান। কাজেই খাইরুল ঘটনায় জড়িত নন এমন তথ্য প্রমাণ পুলিশের হাতে রয়েছে। ওই গৃহবধূকে ব্যবহার করা হতে পারে। যাহোক পুলিশ সুপারের গঠন করে দেয়া  ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি তাদের রিপোর্ট আজ পেশ করতে পারেন। এই রিপোর্ট থেকেই পরিস্কার হবে এসআই খাইরুল জড়িত কি না।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft