শনিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
পরিত্যক্ত ঝিকরগাছার ঝুঁকিপূর্ণ সোনালী মার্কেটের চতুর্থ তলায় নির্মাণ কাজ
কাগজ সংবাদ :
Published : Thursday, 5 September, 2019 at 6:54 AM
পরিত্যক্ত ঝিকরগাছার ঝুঁকিপূর্ণ সোনালী মার্কেটের চতুর্থ তলায় নির্মাণ কাজ পরিত্যক্ত ঘোষিত ঝিকরগাছা বাজারের সেই আলোচিত সোনালী মার্কেটে পৌর কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের চার তলার উপর এবার স্থাপনা নির্মাণ শুরু হয়েছে। অনুমোদন ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের উপর বারবার ভবনের কাজ করতে যাওয়া উক্ত ভবন মালিক মৃত্যুঞ্জয় ও সন্তোষ কুমারের খুঁটির জোর কোথায় এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, ঝিকরগাছা বাজারের উপর যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক এর পাশে অবস্থিত সোনালী মার্কেটটি অনেক পুরাতন। একের পর এক মালিকানা বদলের পর বর্তমানে এ ভবনটির মালিক ঝিকরগাছার সোনা ব্যবসায়ী মৃত্যুঞ্জয় ও সন্তোষ কুমার।
ভবনটি কেনার শুরু থেকেই বিতর্কের জন্ম দেন বর্তমান দুই মালিক। সরকারি কয়েক লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে প্রকৃত ক্রয়মূল্যের চেয়ে ১৪ লাখ টাকা কম মূল্য লিখে দলিল রেজিস্ট্র করায় বিষয়টি ফাঁস হয়ে পড়ে। পরে ওই সম্পত্তি নামজারির সময় উপজেলা ভুমি কর্মকর্তা সাধন কুমার বিশ্বাস সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেয়ায় আটকে দেন সম্পত্তির নামজারী। সেখান থেকে উচ্চ মহলের ‘হ্যালো’র জোরে সে যাত্রা পার পেয়ে যান মালিকদ্বয়। এরপর জরাজীর্ণ মার্কেটটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সম্প্রতি সোনালী ব্যাংক অন্য তাদের শাখা অফিস অন্যত্র স্থানান্তরিত করে।
ভবনটির প্রথম মালিক ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসারা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী আব্দুস সাত্তার। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তিনি বেশ কয়েক বছর পূর্বে ঝিকরগাছা বাজারস্থ আব্দুল আলীমের জামাতার কাছে তিনতলা ভবনসহ ৯ দশমিক ৬ শতক জমি বিক্রি করেন। কিন্তু বিশেষ কারণে তিনি পূণরায় উক্ত পুরাতন ভবনসহ সমুদয় জমি উপজেলার রঘুনাথনগর গ্রামের বাসিন্দা মাসুদ করিম নামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রয় করেন। মাসুদ করিম তা কেনার পর জরাজীর্ণ ভবন ভেঙে ফেলে সম্পূর্ণ নতুন বহুতল ভবন নির্মাণের জন্যে নকশা অনুমোদন করান।
এছাড়া, পুরাতন ভবন ভাঙা, ওই ভবন থেকে সোনালী ব্যাংক অন্য স্থানে স্থানান্তর করানো এবং দোকানপাট অন্যত্র সরানোর জন্যে মাসুদ করিমের পক্ষে (দায়িত্বপ্রাপ্ত তত্বাবধায়ক) ঝিকরগাছা উপজেলা ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ও উপজেলা শ্রমিক লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক তৈয়ব আলী ঝিকরগাছা থানা ও পৌর কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত আবেদন করেছিলেন। তাছাড়া, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন হওয়ায় কয়েকমাস পূর্বে সোনালী ব্যাংক ঝিকরগাছা শাখা ওই ভবন থেকে অন্য ভবনে চলে গেছে। পরবর্তীতে জমি মালিক মাসুদ করিম নতুন ভবন নির্মাণ না করে ঝিকরগাছা বাজারের জুয়েলার্স ব্যাবসায়ী মৃত্যূঞ্জয় ও মুদি ব্যাবসায়ী সন্তোষ ঘোষের কাছে বিক্রি করেন। ভবন ও জমির বর্তমান মালিকদ্বয় ভবনটি অপসারণ না করে সম্প্রতি সংস্কারের নামে কিছু কিছু স্থানে নকশা পরিবর্তনের কাজ করছে।
পূর্বে ভবনটিতে যশোর-বেনাপোল হাইওয়ে অভিমুখে দুটি রাস্তা ও সিনেমা হল রোড অভিমুখে একটি রাস্তা ছিল। বর্তমানে সিনেমা হল রোড অভিমুখে দুটি রাস্তা করা হয়েছে। এছাড়া পাশের বিল্ডিংয়ে হেলেপড়া স্থানটি ভেঙে প্লাস্টার করা হয়েছে। ফলে ভবনটি বর্তমানে পূর্বের চেয়ে অধীক ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ঠরা জানিয়েছেন। ওই সময় পৌর কর্তৃপক্ষ কাজ বন্ধ করে দিলেও আবারও অদৃশ্য শক্তির মদদে অনুমতি ছাড়াই তিনতলা পর্যন্ত কাজ শেষ করেন মালিক পক্ষ।
গত সোমবার থেকে আবারো ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ঘোষিত ওই ভবনের চতুর্থ তলার কাজ করছেন মালিকপক্ষ। স্থানীয়দের ভাষ্য ভবনের একজন মালিক মৃত্যুঞ্জয় সবার সাথে খুব দম্ভের সাথেই বলে বেড়ান ‘আমার মামা শশুর বড় আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর আমার হাতের মুঠোয়, সেখান থেকেও হ্যালো করার লোক আমার আছে’।
এদিকে, পৌর কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ভবনটির নকশা পরিবর্তনসহ সংস্কার কাজ দেখে ঝিকরগাছাবাসীর মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।    
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঝিকরগাছা পৌরসভার মেয়র আলহাজ মোস্তফা আনোয়ার পাশা জামাল ও প্রকৌশলী ইদ্রিস আলী বলেন, এই ভবনের সংস্কারসহ চতুর্থ তলার স্থাপনা নির্মাণ কাজের জন্যে পৌর কর্তৃপক্ষের কোন আবেদন ও অনুমতি নেয়া হয়নি। বিষয়টি জরুরিভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে। 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft