রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
যশোরে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ
১৪৩ কোটি টাকার ভূমি অধিগ্রহণ
ভাঙা-কাশিয়ানি-নড়াইল হয়ে আসবে যশোর
দেওয়ান মোর্শেদ আলম :
Published : Wednesday, 4 September, 2019 at 6:19 AM
১৪৩ কোটি টাকার ভূমি অধিগ্রহণ স্বপ্নের পদ্মা সেতুর সাথে রেল সংযোগ স্থাপনের জন্য যশোর, নড়াইল, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুরে জমি অধিগ্রহণের কাজ এগিয়ে চলেছে। আর দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে একটি নতুন রেল লাইন সংযোজন হতে যাচ্ছে।
ঢাকার কমলাপুর থেকে ফরিদপুরের ভাঙা, গোপালগঞ্জ মকছেদপুর কাশিয়ানি, নড়াইল, বাঘারপাড়ার জামদিয়া হয়ে যশোরের বসুন্দিয়া ও রূপদিয়া পদ্মবিলায় রেল লাইনের সাথে মিশবে এ নতুন লাইনটি। এ লক্ষ্যে যশোর সদর উপজেলার ৩টি ও বাঘারপাড়া উপজেলার ১০টি মৌজা থেকে ১শ’৭০ একর ভূমি অধিগ্রহণ করার সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এর জন্য ইতিমধ্যে ১শ’৪৩ কোটি টাকা ছাড় হয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে চেক বিতরণ করা হবে। সরকারি মৌজা মূল্যে ও বর্তমান রেজিস্ট্রি দলিল মূল্যের কমপক্ষে ৩ গুণ করে পরিশোধ করা হবে টাকা।
তবে, যশোর জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা বিধি মেনে টাকা পরিশোধের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলেও স্থানীয় একটি প্রতারক চক্র বেশি টাকা পাইয়ে দেয়ার নামে মাঠ চষছে বলে তথ্য মিলেছে।
যশোর জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, ঢাকার সাথে যশোর তথা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দুরত্ব কমাতে এবং সময় বাঁচাতে ২০১৪ সালে একটি প্রকল্প দাঁড় করানো হয়। এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংকের সহায়তায় বাংলাদেশ সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানায় পদ্মার এপারের মানুষ। নতুন রেল লাইনের উদ্যোগকে যুগান্তকারী পদক্ষেপ উল্লেখ করে এডিবি ও রেলওয়েসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের প্রস্তাবে অনাপত্তি দেন এ অঞ্চলের লোকজন। এ অনাপত্তির পর একটি পূর্ণাঙ্গ ম্যাপ তৈরী করে জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়।
যশোর জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা জানিয়েছে, যশোর থেকে ভাঙা প্রায় ১শ’ কিলোমিটার রেল লাইনের জন্য জমি অধিগ্রহণ চলছে। আর পদ্মার ওপারে কমলাপুর পর্যন্ত আরও ৭০ কিলোমিটারের মত লাইনের জন্য অধিগ্রহণ কাজ এগিয়ে চলেছে। যশোর-খুলনা রেল লাইনের রুপদিয়া পদ্মবিলা স্টেশন ও বসুন্দিয়া জঙ্গলবাধাল স্টেশন থেকে দুটি লাইন বের হয়ে একটি লাইনে মিশবে এমন নকশা চূড়ান্ত হওয়ায় যশোর সদর উপজেলার ঘুনী বানিয়ারগাতী ও পদ্মবিলা মৌজা থেকে ৪১ একর জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। এছাড়া বাঘারপাড়া উপজেলার ১০ টি মৌজা থেকে ১শ’২৯ একর জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। মৌজাগুলো হচ্ছে করিমপুর, রঘুরামপুর, জামদিয়া, ঘোড়ানাচ, তেঘরি, ভিটাবল্লা, বাসুয়াড়ি, রাধানগর ও জয়রামপুর। এখন জমি অধিগ্রহণ নিয়ে তুমুল হৈচৈ চলছে ওই ১৩টি মৌজা এলাকায় নির্ধারিত ভূমি মালিকদের মধ্যে। স্থানীয় বাজার দরের সাথে সরকারের দেয়া দরের পাথর্ক্য দেখা দিয়েছে। সরকার মৌজা মূল্যের ৩ গুণ বেশী দিলেও বাজারের সাথে সামঞ্জস্য হচ্ছে না।
যশোর সদর সাব রেজিস্টারের কার্যালয় থেকে যে তথ্য পাওয়া গেছে সে অনুযায়ী ২০১৭ ও ২০১৮ সালের শ্রেনি ভিত্তিক মৌজা ভূমি মূল্য (প্রতি শতক) ঘুনীতে বাস্তুভিটা ৬৯ হাজার ১শ’ ১৭ টাকা, ডাঙ্গা পুকুর বাঁশঝাড় ও বাগান ৩৮ হাজার ২শ’২৪ টাকা, ধানী ৫২ হাজার ৫শ’৫৩ টাকা আর বিল ডোবা ১২ হাজার ১শ’৬১ টাকা। এই শ্রেণির জমি পদ্মবিলা মৌজায় যথাক্রমে ৬০ হাজার ৩শ’৭৯ টাকা, ৬৩ হাজার ৫শ’৫৭  টাকা, ২৭ হাজার ৬শ’ ২৬ টাকা, ১১ হাজার ৮শ’৪৬ টাকা। বানিয়ারগাতী মৌজায় ৫৩ হাজার ৯৪ টাকা, ৫২ হাজার ৫৪ টাকা, ৬২ হাজার ৮শ’৫৭ টাকা ৫ হাজার ২২ টাকা। এই মূল্যের কমপক্ষে ৩ গুন অথবা নির্দিষ্ট জমির পাশের জমি বা ওই মৌজার জমি বিক্রির সাম্প্রতিক দলিল সংগ্রহ করে ওই মূল্যের ৩ গুণ দেয়া হচ্ছে।  
এ ব্যাপারে যশোরের ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা রোসলিনা পারভীন গ্রামের কাগজকে জানিয়েছেন, ৩ বছর আগে থেকে মূলত ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এখন প্রায় শেষের পথে। দ্রুততম সময়ে টাকা পরিশোধ করা হবে। এই টাকা পরিশোধে ভূমি অধিগ্রহণ আইন মেনে চলা হবে। অধিগ্রহণ আইনের ৪ ও ৮ ধারা অনুসরণ করা হচ্ছে। অধিগ্রহণ সময়ের পূর্ববর্তী এক বছরের জমি বিক্রির দলিল সংগ্রহ করা হয়েছে সদর রেজিস্ট্রি অফিস থেকে। মৌজা জমি রেজিস্ট্রি মূল্যর কমপক্ষে ৩ গুণ দেয়া হচ্ছে। এর এক টাকা বেশি বা কম দেয়ার ক্ষমতা অফিসারদের নেই। যদি কোনো প্রতারক চক্র ভূমি অধিগ্রহণ শাখার নাম ভাঙিয়ে জমির মালিকদের সাথে প্রতারণার আশ্রয় নেয় তাহলে নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অধিগ্রহণ শাখার  কানুনগো আসলাম আলী ও সার্ভেয়ার দেলোয়ার হোসেন গ্রামের কাগজকে জানিয়েছেন, ১৩ মৌজা থেকে মোট ১৭০.৩১০৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে যশোর সদর উপজেলায় ৪১.৫৫ একর এবং বাকিটা বাঘারপাড়া উপজেলা থেকে। এর জন্য ১শ’৪৩ কোটি টাকা প্রস্তুত রয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে টাকা বিতরণ করা হবে বলেও জানান তারা।   
এদিকে, জেলা প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সড়ক পথের চেয়ে রেল পথে ব্যয় কম। আবার অনেকটা ঝুঁকি মুক্ত এবং আরামদায়কও। সেকারণে বাংলাদেশে রেলওয়ের যাত্রী সেবায় মানুষ সন্তুষ্ট আগে থেকে। কিন্তু দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশপাশি বাড়েনি ট্রেনের সংখ্যা বা রেল পথ। এখন যে কোন রেল স্টেশনে হাজার হাজার যাত্রীকে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে দেখা যায়। এ কারণে পদ্মা সেতু নির্মাণের পাশাপাশি একটি নতুন রেল লাইন স্থাপন সরকারের মহতী উদ্যোগ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাঘারপাড়ার জামাদিয়ায় নতুন স্টেশনটি করা হবে একজন মুক্তিযোদ্ধার নামে। এছাড়া নতুন এ লাইনটি ভূমি থেকে ৫ থেকে ৬ ফিট উঁচু হবে বলেও নকশায় প্রস্তাবনা রাখা হয়েছে।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft