শুক্রবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
চাকরি প্রতারণা নিয়ে আরও তথ্য
কোটি টাকা হাতানো যশোর লন্ড্রি সংশ্লিষ্ট মিথুন দারোগাকেও ভাঙায়
অভিজিৎ ব্যানার্জী :
Published : Sunday, 1 September, 2019 at 8:49 PM
কোটি টাকা হাতানো যশোর লন্ড্রি সংশ্লিষ্ট মিথুন দারোগাকেও ভাঙায়আকিজ জুট মিলসের নাম ভাঙিয়ে ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে কোটি টাকা হাতানো প্রতারক চক্রের হোতা যশোর লন্ড্রি সংশ্লিষ্ট মোস্টওয়ান্টেড মাসুদুর রহমান মিথুনের বিরুদ্ধে আরও তথ্য এসেছে। আগে প্রকাশিত ৪২ জন ভুক্তভোগীর পর আরও ৩জন প্রতারিত হওয়ার তথ্য দিয়েছেন গ্রামের কাগজকে।
৩১ আগস্ট সংবাদ প্রকাশের পর ওই তথ্য আসে। ওই প্রতারক ভুক্তভোগীদের উল্টো শায়েস্তা করতে এক দারোগাকে ব্যবহার করেন। ওই দারোগার নাম ভাঙিয়ে চলে তিনি।
অভিযোগের তথ্যানুযায়ী, আকিজ জুট মিলস্ এন্ড সিরামিকের সাবেক কর্মচারী যশোর উপশহরের ডি ব্লকের ফরহাদ হোসেনের ছেলে মাসুদুর রহমান মিথুনের নিয়োগ প্রতারণা নিয়ে এবার আরও নতুন তথ্য এসেছে। চলতি বছরের গত ছয় মাস জুড়ে নিয়োগ প্রতারণা, কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি না থাকা কিংবা কর্তৃপক্ষ না জানলেও মিলের অভয়নগরের নওয়াপাড়ায় সুপার ভাইজার ও অডিট অফিসার পদে চাকরি পাইয়ে দেয়ার জন্য মাথা প্রতি দু’লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার নানা তথ্য দিয়ে দৈনিক গ্রামের কাগজে সিরিজ সংবাদ প্রকাশিত হয়।  আকিজ জুট মিল থেকে চাকরিচ্যুত হয়ে তা গোপন রেখে বিভিন্ন মহলে চাকরি প্রতারণার এক পর্যায়ে অর্ধশত যুবককে ভুয়া নিয়োগপত্র প্রদান করে কোটি টাকার মত হাতিয়ে নেয়ার বিষয়টি যশোরাঞ্চল জুড়ে হৈচৈ ফেলে দেয়। চাকরি প্রতারণার শিকার বাঘারপাড়ার বসুন্দিয়া আলাদিপুরের বেলায়েত হোসেন মোল্লার ছেলে মামুন রানা আদালতের শরণাপন্ন হয়। একে একে বেরিয়ে আসে ৪২ বেকারের পথে বসার কাহিনী।  আকিজ জুট মিলস্ এন্ড সিরামিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নকল প্যাড ও সীল স্বাক্ষর ব্যবহার করে সুপার ভাইজার ও অডিট অফিসার পদের ভুয়া নিয়োগ পত্র প্রদান করার বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশিত হলে গ্রামের কাগজ দপ্তরে ভুয়া নিয়োগপত্র হাতে নতুন করে আরও কয়েক ভুক্তভোগী আসেন। তাদের কাছ থেকেও একইভাবে দু’লাখ টাকা করে নেয়া হয়। আকিজের সাবেক কর্মচারী মিথুন তাদের ঘোরান মাসের পর মাস। দু’লাখ টাকা করে খোয়ানো যশোরাঞ্চলের ৪২ যুবকের দুর্দশার কথা উল্লেখ করে গ্রামের কাগজে জুলাই মাসে দুটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদ প্রকাশের পর আরও কয়েক যুবক প্রতারক মাসুদুর রহমান মিথুনের ছবি হাতে চলে আসেন পত্রিকা দপ্তরে। ওই ছবিসহ গত ৩১ আগস্ট প্রকাশিত হয় আরও একটি প্রতিবেদন। আর ওই প্রতিবেদনটি ভুয়সী প্রশংসিত হয়। ওইদিনই গ্রামের কাগজে আসেন আরও ৩ ভুক্তভোগী।
এরা হচ্ছেন, যশোরের পালবাড়ির কুদ্দুস খানের ছেলে ইসমাইল খান বিপ্লব, কাঁঠাল তলার আব্দুস সামাদের ছেলে আরিফুল ইসলাম ও আকাশ মাহমুদ নামে আরও এক যুবক। তারা অভিযোগ করেছেন, একইভাবে তাদের সাথেও চাকরি প্রতারণা করা হয়েছে। মিথুনকে কয়েক দফা তারা পাকড়াও করলেও যশোর কোতোয়ালী থানার এএসআই সাইফুল আত্মীয় পরিচয় দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে টাকা দেয়ার তারিখ দিলেও টাকা দেননি। পরে ওই দারোগাকে দিয়ে শায়েস্তা করার হুমকিও দিয়েছেন ওই মিথুন।  এএসআই সাইফুলের নাম ভাঙিয়ে আরও অনেক পাওনাদারকে হুমকি দিয়েছেন। কয়েক জন তার পরিচিত এমন হুমকি দেন এই মিথুন। তারা দ্রুত মিথুনকে আটকের দাবি জানান।
এদিকে, এ ব্যাপারে এএসআই সাইফুলের সাথে কথা বললে তিনি জানান, মিথুনকে তিনি চেনেন একটি মামলা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে। বিদ্যুৎ বিভাগের একটি মামলার আসামি মিথুন। এই মিথুনকে সেইফ করাতে গিয়ে গাঢ় সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। কিন্তু তার চাকরি প্রতারণার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তার নাম ভাঙাতে পারে মিথুন। এছাড়া তিনি এখন যশোর কোতোয়ালীতে নেই, সাতক্ষীরায়  বদলি হয়ে গেছেন বলে জানান।
উল্লেখ্য, এর আগে মিথুনের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে গ্রামের কাগজে অভিযোগ করেন খোলাডাঙ্গার সৌরভ হোসেনের ছেলে মিরাজ হোসেন, শাহাব উদ্দিনের ছেলে আব্দুল আজাদ রানা, আজিজ মোল্লার ছেলে ইসমাইল মোল্লা, নুর মোহাম্মদের ছেলে আক্কাস আলী, সিদ্দিক আলীর ছেলে সোহেল হাসান, মিজানুর রহমানের ছেলে আল ইমরান, সুজলপুরের রশিদ শেখের ছেলে রাফেজ উদ্দিন, খালেকের ছেলে হান্নান হোসেন, ভেকুটিয়ার আজিজুল ইসলামের ছেলে হযরত আলী, পতেঙ্গালীর আহাদ আলীর ছেলে আরিফ হোসাইন, ঝিকরগাছার জাহাতাব আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন, তরফ নওয়াপাড়ার মোসলেম উদ্দিনের ছেলে হাফিজুর রহমান, খড়কীর মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে ওমর আলী, ঝিনাইদহর বিষয়খালীর মৃত সিরাজ উদ্দীন বিশ্বাসের ছেলে মুবাশ্বের, যশোর সদর উপজেলার সতীঘাটার ধীরেন্দ্রনাথের ছেলে হরিদাস সরদার, বাঘারপাড়ার মোহাম্মদ আলীর ছেলে আবু তালেব, নড়াইল মির্জাপুরের আকরামুজ্জামানের ছেলে কাজী হাদিউজ্জামান, মির্জাপুরের শেখ হাফিজুর রহমানের ছেলে সুমন শেখ, ঝিনাইদহের আব্দুল মতিনের ছেলে কামাল হোসেন, আব্দুল ওয়াদুদের ছেলে মাহাবুবুর রহমান ও কুষ্টিয়ার আতিয়ার রহমান। তারা এখনও প্রশাসনের পথ চেয়ে আছেন। 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft