বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৯
ওপার বাংলা
এনআরসিতে বাদ পড়া অধিকাংশই হিন্দু বাঙালি!
কাগজ ডেস্ক :
Published : Saturday, 31 August, 2019 at 3:26 PM
এনআরসিতে বাদ পড়া অধিকাংশই হিন্দু বাঙালি!ভারতীয় আসাম রাজ্য নাগরিক নিবন্ধনের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে। দেড় বছর আগে খসড়া প্রকাশের পর শনিবার সকাল ১০টায় এই চূড়ান্ত তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
তিন কোটি ৩০ লাখ আবেদেনকারীর মধ্যে তিন কোটি ১১ লাখ লোককে চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কাজেই ১৯ লাখ লোক রাষ্ট্রহীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ আশঙ্কায় যুক্ত হয়েছেন সেখানের হিন্দু বাঙালিরা। তালিকা থেকে বাঙালিরাই বেশি বাদ পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাঙালি হিন্দু নেতারা।
শুক্রবার গুয়াহাটি থেকে প্রকাশিত স্থানীয় বাংলা সংবাদমাধ্যম যুগশঙ্খ জানিয়েছে, আসামের হিন্দু বাঙালিদের নথি-সংকট রয়েছে। তাদের অনেকের কাছে নাগরিকত্ব লাভের দালিলিক প্রমাণ নেই।
আর সারা আসাম বাঙালি ঐক্যমঞ্চ, বাঙালি যুব-ছাত্র ফেডারেশ, বেঙ্গলি ইউনাইটেড ফোরাম সেসব নথির ভিত্তিতেই চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা (এনআরসি) প্রকাশ করবে। সে হিসেবে হিন্দু বাঙালিরাই বাদ পড়ার আশঙ্কা বেশি।
এ বিষয়ে রাজ্যের বাঙালি নেতাদের অভিযোগ, শেষ মুহূর্তে শরণার্থীর প্রমাণপত্র, নাগরিক সনদ, রিলিফ ইনজিবিলিটি সার্টিফিকেটের মতো নথি আমলে নেয়া হয়নি। ফলে তালিকা থেকে হিন্দু বাঙালিরাই বেশি বাদ পড়বেন।
বাঙালি নেতাদের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সারা আসাম বাঙালি যুব-ছাত্র ফেডারেশনের সাবেক নেতা চিত্ত পাল বলেন, গরিকত্ব প্রমাণের প্রয়োজনীয় নথিপত্র নেই হিন্দু বাঙালিদের কাছে।
চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়াদের ১৭-১৮ লাখ হিন্দু বাঙালি রয়েছেন বলে অনুমান করছেন তিনি।
আসাম সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাতীয় নাগরিকত্ব নিবন্ধনে(এনআরসি) তিন কোটি ১১ লাখ লোক আবেদন করেছিলেন। সেখান থেকে ১৯ লাখকে বাদ দেয়া হয়েছে।
আসাম সরকার জানায়, ‘অবৈধ বাংলাদেশি’দের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর লক্ষ্যেই জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) চূড়ান্ত করা হচ্ছে।
তালিকায় নাম না-থাকাদের এখনই বের করে দেয়া হবে না বলে কর্মকর্তারা বারবার আশ্বস্ত করলেও এর মাধ্যমে আসামের সংখ্যালঘু বাঙালি বিশেষত মুসলমানদের ‘উইচ হান্টিং’-এর শিকার হতে হবে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সংশোধিত তালিকা থেকে বাদ পড়া আবেদনকারীরা তালিকায় নাম ওঠাতে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আপিল করতে পারবেন বলে আগেই জানিয়েছেন রেজিস্ট্রার জেনারেল অব ইন্ডিয়া শৈলেশ। তিনি বলেন, আপত্তি করার জন্য জনগণকে পর্যাপ্ত এবং যথেষ্ট সুযোগ দেয়া হবে।
প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকের ভয় পাওয়ার কারণ নেই। আসামের করিমগঞ্জের আইনজীবী শিশির দে ডয়চে ভেলেকে জানান, ৩১ আগস্টের তালিকা থেকে যারা বাদ পড়বেন তাদের স্থানীয় এনআরসি অফিস থেকে প্রত্যাখ্যান সংক্রান্ত আদেশের অনুলিপি দেয়া হবে। এটি নিয়ে তারা ১২০ দিনের মধ্যে বিদেশি ট্রাইব্যুনালে আপিল করতে পারবেন।
কিন্তু আশ্বাসের পরও আতঙ্ক কাটছে না লাখ লাখ আসামবাসীর মধ্যে।
তালিকা থেকে বাদ পড়লে কী হবে, তাছাড়া দরিদ্র-নিুবিত্ত মানুষের পক্ষে নাগরিকত্বের লড়াই চালিয়ে যাওয়া কতটা সম্ভব হবে, সেই আশঙ্কাও করছেন অনেকে।
এএফপি বলছে, নাগরিকদের এই তালিকা প্রকাশের আগে আসাম কর্তৃপক্ষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত ১৭ হাজার সদস্য সেখানে মোতায়েন করেছে।
কয়েকটি অঞ্চলে জনগণের একসঙ্গে অবস্থান নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং আসাম পুলিশ তাদের টহলরত কর্মকর্তাদের ছবিও টুইটারে প্রকাশ করেছে।
এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ যাতে গুজব ছড়াতে ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য না দিতে পারে তার জন্য একটি সাইবার সেলও খোলা হয়েছে।
আসামে প্রথম নাগরিকপঞ্জি প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৫১ সালে। তারপর থেকে সংশোধন হতে হতে শেষ পর্যন্ত সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হচ্ছে।
সর্বশেষ খসড়া তালিকা প্রকাশিত হয়েছিল ২০১৮ সালের ৩০ জুলাই। সেই তালিকায় তিন কোটি ২৯ লাখ বাসিন্দার মধ্যে বাদ পড়েন ৪০ লাখ ৭ হাজার ৭০৭ জন।
১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের আগে রাজ্যে আবাস গেড়েছেন এমন প্রমাণ না পাওয়ায় তাদের নাম রাখা হয়নি বলে জানানো হয়।
পর্যাপ্ত নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও নাগরিকপঞ্জিতে নাম ওঠেনি বা প্রকৃত অনেক নাগরিক তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন এমন অনেক খবরও উঠে আসে সংবাদমাধ্যমে। দীর্ঘদিন বিএসএফ বা সরকারি দফতরে চাকরি করার পরও অনেকের নাম বাদ পড়ার ঘটনা ঘটেছে।
সম্প্রতি ভারত সরকার আশ্বস্ত করেছে ঘোষণা করেছে চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়লেও এখনই কাউকে বিদেশি বলে ঘোষণা করা হবে না। ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে আপিলের সুযোগ পাবেন তারা।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft