রবিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৯
শিক্ষা বার্তা
পরীক্ষামূলক সারাদেশে চার জেলা, খুলনা বিভাগে মাগুরা
বদলে যাচ্ছে প্রাথমিকের রুটিন
এম. আইউব :
Published : Saturday, 31 August, 2019 at 6:42 AM

বদলে যাচ্ছে প্রাথমিকের রুটিনবদলে যাচ্ছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস রুটিন। কমানো হচ্ছে বিদ্যালয়ে অবস্থানের সময়। পরীক্ষামূলকভাবে এক ঘণ্টা ৪৫ মিনিট কমিয়ে আনা হচ্ছে। শিশু শিক্ষার্থীদের শারীরিক এবং মানসিক দিক বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রথম অবস্থায় সারাদেশে চারটি স্কুলে চালু হচ্ছে নতুন সময়সূচি। এরমধ্যে খুলনা বিভাগে রয়েছে একটি।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে সময়সূচি পরিবর্তনের চিন্তাভাবনা শুরু করেছে। অভিভাবকদের দাবির মুখে এ চিন্তা শুরু করে মন্ত্রণালয়।
অভিভাবকরা বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে শিশু শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে অবস্থান করতে হয়। এ কারণে অধিকাংশ শিশু ক্লান্ত হয়ে পড়ে। বিশেষ করে গরমের সময় শিশুরা দীর্ঘ সময় না খেয়ে থেকে নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বলে অভিভাবকরা বলছেন।
প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও স্কুলে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, বর্তমানে সকাল ৯টা থেকে শুরু করে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ক্লাস হচ্ছে। যেসব স্কুলে শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষের সংকট রয়েছে, সেখানে দুই শিফটে আর যেখানে এ সংকট নেই সেখানে এক শিফটে ক্লাস হয় বলে একজন শিক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন। দুই শিফটের স্কুলে সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১২ টা পর্যন্ত শিশু হতে দ্বিতীয় শ্রেণি এবং বেলা ১২ টা হতে বিকেল সাড়ে ৪ টা পর্যন্ত তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত  ক্লাস হচ্ছে।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পক্ষে টানা সাড়ে সাত ঘণ্টা স্কুলে থাকা কঠিন। বিশেষ করে অভুক্ত অবস্থায় থাকাটা আরও কঠিন বলে তারা বলছেন। এ ধরনের বক্তব্য অভিভাবকদেরও। এসব দিক বিবেচনা করে সময়সূচি পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে মন্ত্রণালয়। সেই অনুযায়ী, পরীক্ষামূলকভাবে সারাদেশে চারটি স্কুলকে বেছে নেয়া হয়েছে। এরমধ্যে খুলনা বিভাগে রয়েছে একটি। এগুলো হচ্ছে, খুলনা বিভাগের মাগুরা জেলার হাজিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুড়িগ্রাম জেলার ১ নম্বর কুড়িগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রৌমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং নেত্রকোনা সদরের বালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আগামীকাল পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে এই চারটি স্কুলে নতুন সময়সূচি সকাল ১০ টা হতে বিকেল পৌনে চারটা পর্যন্ত সময়ের ক্লাস রুটিন চালু হচ্ছে। উদ্বোধন হবে খুলনা বিভাগ থেকে। মাগুরার হাজিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষামূলক নতুন সময়সূচির উদ্বোধন করবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেন এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. এএফএম মনজুর কাদির।   
বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ক্লাস রুটিন অনুযায়ী, সকাল নয়টা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত ক্লাস হয়। দীর্ঘ সময় ধরে স্কুলে থাকলেও এসব শিশু শিক্ষার্থীর জন্যে কোনো টিফিনের ব্যবস্থা থাকে না। যদিও কোনো কোনো উপজেলায় স্কুল থেকে বিস্কুট সরবরাহ করা হয়ে থাকে। কিন্তু সরবরাহকৃত বিস্কুটের বেশিরভাগ শিশুরা না খেয়ে বাড়িতে নিয়ে যায়। অভিভাবকরা জানিয়েছেন, স্কুল থেকে দেয়া বিস্কুট খেতে অনেক শিশুর ভালো লাগে না। এ কারণে সেগুলো তারা সময়মতো খায় না। আবার অনেক স্কুলে এই বিস্কুট দেয়াই হয় না।
বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিশু শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় ধরে স্কুলে না খেয়ে থাকার কারণে তাদের সন্তানরা প্রায় অসুস্থ হয়ে পড়ে।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, যশোর জেলার আটটি উপজেলায় সর্বমোট ১ হাজার ২শ’৮৯ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৪২ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, যশোর জেলায় প্রথম শ্রেণিতে ৬৩ হাজার ৮শ’৭০ জন, দ্বিতীয় ৬২ হাজার ৫শ’ ৯৭ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ৬২ হাজার ৭শ’ ৪১ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ৬১ হাজার ৩শ’ ৩ জন ও পঞ্চম শ্রেণিতে ৫৩ হাজার ১১ জন। এরমধ্যে অভয়নগরে প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ২৩ হাজার ১শ’ ৮৭, কেশবপুরে ২৩ হাজার ৬শ’ ৪, চৌগাছায় ২২ হাজার ৪শ’ ৫১, ঝিকরগাছায় ৪২ হাজার ৯শ’১৬, বাঘারপাড়ায় ২১ হাজার ৪শ’ ৫৬, মণিরামপুরে ৪৫ হাজার ১শ’ ৬৮,শার্শায় ৪০ হাজার ৫শ’ ৮৭ ও সদরে ৮৪ হাজার ২শ’৭৩ টি শিশু রয়েছে।  
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, যশোরের তিনটি উপজেলায় শিশুদের বিস্কুট সরবরাহ করা হচ্ছে। এ তিনটি উপজেলা হচ্ছে, ঝিকরগাছা, চৌগাছা ও সদর। বাকি পাঁচটি উপজেলায় শিক্ষার্থীদের জন্যে কোনো ধরনের খাদ্য সামগ্রী সরবরাহ করা হয় না।
এসব বিষয়ে যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলম বলেন, সারাদেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সময়সূচি পরিবর্তনের চিন্তাভাবনা চলছে। তারই ধারাবাহিকতায় পরীক্ষামূলকভাবে চারটি বিদ্যালয়ে এটি শুরু হচ্ছে। এ থেকে কী ধরনের ফল পাওয়া যায় তার উপর ভিত্তি করে কয়টা পর্যন্ত ক্লাস চললে ভালো হয় সেই সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে। ২০২০ সালের প্রথম থেকে সকল স্কুলে পরিবর্তিত ক্লাস রুটিন চালু হতে পারে বলে ধারণা করেন তিনি।    



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft