শনিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৯
অর্থকড়ি
সিম চাষে স্বাবলম্বী চুড়ামনকাটি ও হৈবতপুরের কৃষকরা
মিজানুর রহমান, চুড়ামনকাটি (যশোর) থেকে :
Published : Thursday, 29 August, 2019 at 6:51 AM
সিম চাষে স্বাবলম্বী চুড়ামনকাটি ও হৈবতপুরের কৃষকরাসাবলম্বী হয়ে উঠেছেন যশোর সদরের চুড়ামনকাঠি ও হৈবতপুর ইউনিয়নের কৃষকরা। সবুজের সমারহ, খাদ্য শস্য ভান্ডার নামে খ্যাত এই দুই ইউনিয়নের মাঠজুড়ে শুধু সিম আর সিমের বাগান। প্রত্যন্ত অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে বাড়ছে সিমের চাষ। এখানকার আবাদি জমির একটি বড় অংশে গত দুই যুগের মত নিজ উদ্দ্যোগে কৃষকরা নানা পদ্ধতিতে বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ করে আসছে।
গত কয়েক বছর সবজি আবাদের তালিকায় সবচেয়ে বেশি যোগ হয়েছে সিম। এ আবাদ প্রতি বছরই বেড়ে চলছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব মতে ইউনিয়ন দু’টিতে এ বছর প্রায় ৫০০ হেক্টর জমিতে সিম চাষ হয়েছে।
সরেজমিনে চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের চুড়ামনকাটি, আব্দুলপুর, পোলতাডাঙ্গা, বাগডাঙ্গা, সাজিয়ালী, কমলাপুর ও হৈবতপুর ইউনিয়নের হৈবতপুর, তীরেরহাট, মথুরাপুর, শাহাবাজপুর, ডহেরপাড়া, ললিতাদাহ, সমসপুর, নাটুয়াপাড়া এলাকার বিভিন্ন গ্রামের মাঠ ঘুরে দেখা যায় এলাকাগুলো যেন সিম দিয়ে ঘেরা। প্রতিটি  কৃষক পরিবারই তাদের আবাদি জমিতে নানা পদ্ধতিতে সিম চাষ করছেন। মাঠের পর মাঠ ঘিরে রয়েছে সবুজ সিম ক্ষেত।
এলাকাবাসী জানান, এ সব এলাকার অধিকাংশ জমিই সিম চাষের জন্য উপযোগী। মাঠের পর মাঠ এক সময় বিভিন্ন সবজিতে ঠাসা থাকলেও বর্তমানে স্থানীয় কৃষকরা নিজ উদ্যোগে সিম চাষ শুরু করেছেন।  
চুড়ামনকাটি গ্রামের কৃষক আজিজুল ইসলাম বলেন, তিনি এ বছর এক বিঘা জমিতে সাদা জাতের সিম চাষ করেছেন। বর্তমানে তিনি পুরোদমে বিক্রি শুরু করেছেন। এ বছর তিনি ব্যাপক লাভবান হবেন বলে আশাবাদী। তিনি আরো জানান, বিগত বছরগুলোতে তিনি সিম চাষ করে লাভবান হওয়ায় এ বছরও সিম চাষ করেন।
চুড়ামনকাটি গ্রামের সিম চাষী আতিয়ার রহমান জানান, সিম চাষে শারীরিক পরিশ্রম অনেক বেশি। অন্য সবজির চেয়ে এর পরিচর্যা একটু বেশি করতে হয়। তবে তিনি মনে করেন কষ্ট হলেও ফলন ভালো হলে সিম চাষে ব্যাপক লাভবান হওয়া সম্ভব।
কৃষকদের ভাষ্যমতে বিঘাপ্রতি এ বছর পুরো ২০/২৫ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। ফলন ভাল হলে এবং বাজার ভাল থাকলে প্রায় এক লাখ টাকার সিম বিক্রি সম্ভব।
হৈবতপুর গ্রামের সিম চাষী সাত্তার জানান, তিনি এবছর এক বিঘা জমিতে সিমের চাষ করেছেন। তার ক্ষেতের সিম ইতিমধ্যে পুরোদমে বিক্রিও শুরু হয়েছে। তার মতে, বর্তমানের বাজার দর অব্যাহত থাকলে তিনি এবার ব্যাপক লাভবান হবেন।
চুড়ামনকাটি গ্রামের সিম চাষী মিজানুর রহমান জানান, এ বছর তিনি দুই বিঘা জমিতে সিম চাষ করেছেন। বর্তমানে সিম বিক্রি করে তার খরচ প্রায় উঠতে শুরু করেছে।
স্থানীয় বারীনগর কাঁচা বাজারে গিয়ে দেখা গেছে পুরোদমে সিম উঠতে শুরু করছে। এখান থেকে ঢাকা ও বরিশালের পাইকাররা সবচেয়ে বেশি সিম কিনে নিয়ে যায়। প্রতিদিনই ট্রাক লোড হয় এখান থেকে। এখনকার কৃষকরা সিম চাষ করে তাদের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছে। আর্থিক ও সামাজিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে কৃষকরা। সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কোন  সহযোগিতা পায়না এখনকার সিম চাষীরা। বিভিন্ন এনজিও ও সার বিক্রেতাদের নিকট থেকে কিস্তি ও বাকিতে সার ক্রয় করে সিম চাষ করে থাকেন ।
কৃষকদের দাবি, চাহিদা অনুযায়ী স্বল্পসুদে কৃষি ঋণ, আধুনিক প্রশিক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নিয়মিত তদারকি থাকলে কৃষকরা গোটা যশোর জেলার অর্থনীতিকে আরো মজবুত করতে সক্ষম হবে। একইসাথে নিজেদেরও আর্থসামাজিক মর্যাদাও বাড়বে।
এ ব্যাপারে চুড়ামনকাটি উপ-সহকারী কৃষি কর্মকতা জাকির হোসেন জানন, চুড়ামনকাটি ও হৈবতপুর দু’ইউনিয়ন মিলে প্রায় পাঁচশ’ হেক্টর জমিতে এ বছর সিম চাষ হয়েছে। গত বছরও প্রায় এ পরিমাণ সিম চাষ হয়েছিল এই দুই ইউনিয়নে।
তিনি বলেন, এখানে এখন প্রধান অর্থকরী ফসল হিসেবে গন্য হচ্ছে সিম। বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্ব করে কৃষকরা সিম চাষ করে দারুন লাভবান হচ্ছেন। তিনি আরো জানান, ‘এখানে সাধারণত রূপভান ও রহিম সিম চাষ করে থাকেন কৃষকরা। আমাদের পক্ষ থেকে কৃষকদেরকে সাধ্যমত পরামর্শ দেয়ার চেষ্টা করা হয়’।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft