মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
রাজশাহীর ভদ্রা পার্কে চরম সামাজিক অবক্ষয়
রাজশাহী ব্যুরো :
Published : Monday, 26 August, 2019 at 7:24 PM
রাজশাহীর ভদ্রা পার্কে চরম সামাজিক অবক্ষয় রাজশাহীর প্রাণ কেন্দ্র ভদ্রা মধ্যে পার্ক। চারিদিকে নির্মল ছায়াঘেরা সবুজে ভরা পরিবেশ। মাঝখানে রয়েছে একটি বিশাল পুকুর। আর পুকুর পাড়সহ চারিদিকে আম, কাঠাল, মেহেগুনিসহ নানাজাতের গাছগছালিতে ভরা। কিন্তু চারিদিকে যেন শুনশান নিরবতা। পাখিদের কিচির-মিচির শব্দ। একটি বিনোদনকেন্দ্রের জন্য আর কী দরকার? প্রয়োজন শুধু মানসিকতার। আর প্রয়োজন যুগোপযোগী নতুন কিছু উদ্যোগের।
কিন্তু সেদিকে দৃষ্টি না দেওয়ায় বিশালকার ছায়াঘেরা নির্মল পরিবেশে রাজশাহী নগরীর বিনোদন পীপাষু মানুষদের জন্য গড়ে তোলা একটি বিনোদনকেন্দ্রের এখন বেহালদশা। এই বিনোদনকেন্দ্রটির নাম শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী পার্ক। সংক্ষেপে বলা হয় ভদ্রা পার্ক। এটির দখল এখন অশ্লীলতা মেতে ওঠা প্রেমিকযুগলদের কাছে। জুটিবদ্ধ প্রেমিকযুগল ছাড়া এই বিনোদনকেন্দ্রে এখন আর সাধারণ মানুষ চোক্ষুলজ্জায় প্রবেশ করেন না । সেই সুযোগে সম্ভবনায়ময় বিনোদনকেন্দ্রটি এখন সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে অশ্লীলতার আসর।
পার্কের ঝোঁপ-ঝাড়ের মধ্যে প্রেমিক যুগল বসে এখানে মেতে উঠেন অশ্লীলতায়। এর বাইরে আর কিছুই নেই এখানে। সববিনোদনের উৎসগুলো ধংস করা হয়েছে। ভিতরের ঝোঁপ-ঝাড়গুলো এবং বড় বড় আগাছা পরিস্কার না করে যেন ভুতুড়ে অবস্থায় পরিণত করা হয়েছে পার্কটিকে। সেসব স্থানে বসে অশ্লীলতায় মেতে উঠছে প্রেমিকযুগলরা। এমনকি শিশুদের জন্য একটি অংশে বেশকিছু রাইড করা থাকলেও সেগুলোও অযতœ-অবহেলায় বেহালদশায় পরিণত হয়েছে। ফলে এখানে শিশুদেরও আর কোনো স্থান হয় না। যাতায়াত করতে গেলো শুধুমাত্র হাতেগোনা কিছু প্রেমিকযুগলদের। যাদের উদ্দেশ্যই হলো ঝোঁপ-ঝাড়ে বসে বেহায়াপনায় লিপ্ত হওয়া। এদের কয়েকটি জুটিকে ঝোঁপের আড়ালে বসে বেয়াহাপনায় মেতে উঠতেও দেখা যায়। এমন দৃশ্য প্রতিদিনের বলেই জানান পার্কটির কর্মচারীরা।রাজশাহীর ভদ্রা পার্কে চরম সামাজিক অবক্ষয়
পার্কের কয়েকজন কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আরডিএ কর্তৃপক্ষ এই পার্কটিকে নজর না দেওয়ার কারণে একদিকে যেমন সামাজিক অবক্ষয় বাড়ছে, তেমনি স্কুল-কলেজ ফাঁকি দিয়েও অনেকে সেখানে গিয়ে সময় কাটাচ্ছে। কিন্তু এদের সংখ্যাও হাতেগোনা। দিনে বড় জোর ১৫০-২০০ কিশোর-কিশোরী ও যুবক-যুবতি এখানে সময় কাটাতে যায়। কিন্তু একসময় এখানে প্রতিদিন শত শত বিনোদনপীপাষু মানুষ ছুটে যেতেন। কিন্তু এখন তাঁরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। তাঁদের স্থানে যায়গা করে নিয়েছে প্রেমিকযুগলরা। স্থানীয়দের অভিযোগের কারণে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই পার্কটিতে মাঝ-মধ্যেই অভিযানও চালানো হয়।
ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে সময় অশ্লীলতার অভিযোগে আটক করা প্রমিক-মেমিকাসহ ৭২ জনকে। কিন্তু এখনো বন্ধ হয়নি সেসব অপকর্ম। আবার পার্কটি সংস্কার বা এটিকে যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে কোনো ধরনের পদক্ষেপও নিতে দেখা যায়নি রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (আরডিএ)। সর্বশেষ গত  ১৭ আগস্ট এই পার্কটিতে অভিযান চালিয়ে ২৪ জোরা কিশোর-কিশোর ও তরুণ-তরুণীকে আটক করে ভ্রাম্যমান আদালত। তাদের ভবিষতে কথা চিন্তা করে প্রত্যেকে পরিবারের পরিবারের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এর আগেও দফায় দফায় এভাবে অন্তত ২৫০ তরুণ-তরুণীকে আটক করা হয়। কিন্তু তার পরেও প্রমিক প্রমীকা আসছে ভদ্রা পার্কে।
পার্ক এলাকার এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা ওয়াজে আালী বলেন, ‘পার্কটিকে এখন আর আমরা যেতে পারি না। যাওয়ার কোনো পরিবেশও নাই। অথচ কত নির্মল পরিবেশ আছে এই পার্কটিতে। যে পরিবেশের টানে একসময় শতশত মানুষ ছুটে আসত এখানে। এখন সেখানে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীদের আনা-গোনা বেশি। কারণ তারা এখানে আসে অশ্লীলতার জন্য। সে কারণে আমরা আর পার্কটিতে ঢুকতে সাহস পায় না। এলাকার মানুষ এ নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ।
যারা একটু সময় পেলে একসময় এই বিনোদনকেন্দ্রটি গিয়ে বসে থেকে গল্প-গুজবে মেতে উঠে সময় কাটাতেন, একটু প্রাণভরে বিষুদ্ধ বাতাসে ভরা নিঃশ্বাস নেওয়ার সুযোগ পেতেন, তারা বঞ্চিত হচ্ছেন এসব সুবিধা থেকে। এতে করে নগরবাসীর মধ্যে রয়েছে চরম ক্ষোভ। । কিন্তু কোনো লাভ হয় না। আরডিএ কর্তৃপক্ষ পার্কটি রক্ষণাবেক্ষণে কোনো ধরনের কোনো উদ্যোগ নেয় না। কিন্তু পার্কটির দেখভালের দায়িত্বে থাকা রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের যেন এটি নিয়ে মাথাব্যাথা নাই।
আরডিএ সূত্র মতে, রাজশাহী নগরীর অভিযাত পদ্মা আবাসিক এলাকায় ৭ দশমিক ৬ একর এলাকাজুড়ে ১৯৭৮ সাল থেকে এই পার্কটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। যা শেষ হয় ১৯৯৫ সালে। এটির নির্মাণ করতে সেসময় ব্যয় হয় ২৪ লাখ ৪২ হাজার টাকা। এরপর থেকে তেমন বড় কোনো অর্থ এখানে খরচ করা হয়নি সংস্কার বা উন্নয়নকাজের জন্য। কিন্তু বছর বছর এটি লিজ দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা পকেটে পুরেন আরডিএ’র কয়েকজন কর্মকর্তা। যাদের অন্যতম নায়ক হলেন অ্যাস্টেট কর্মকর্তা বদরুজ্জামান।
বদরুজ্জামান অ্যাস্টেট কর্মকর্তা বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় পার্কটির অবস্থা এখন কুবই খারাপ। তবে পুকুরসহ গাছের ফল লিজ দিয়ে আমরা বছরে আট লাখ টাকা পাই। আর প্রবেশ টিকিট নিজেদের কর্মচারীদের দিয়েই বিক্রি করানো হয়। তবে লিজ দেওয়ার নামে কোনো অনিয়ম হয় না।’ আরেক প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘কারা সেখানে যায় আমরা কিভাবে বলবো। দর্শনার্থীরা যেতেই পারে। তারা কিভাবে সময় কাটাবে, সেটি তাদের নিজস্ব ব্যাপার।’




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft