শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৯
সারাদেশ
লালপুরে রোপা আমন ধান চাষে ব্যাস্ত কৃষককুল
মোঃ আশিকুর রহমান টুটুল, নাটোর জেলা প্রতিনিধি :
Published : Wednesday, 21 August, 2019 at 8:53 PM
লালপুরে রোপা আমন ধান চাষে ব্যাস্ত কৃষককুলনাটোরের লালপুরে রোপা আমন ধান চাষে ব্যাস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। শ্রাবণের শেষে বৃষ্টিতে জমি তৈরী, বীজতলা থেকে চারা সংগ্রহ ও জমিতে ধান রোপনে ব্যাস্ত এই উপজেলার কৃষকরা। প্রকৃতির উপর নির্ভর করে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানিতে এই অঞ্চলের কৃষকরা রোপা আমন ধান চাষ করে থাকেন।
স্থানীয়সূত্রে জানাগেছে, ‘আষাঢ়ের শেষে শ্রাবণের প্রথম থেকে রোপা আমন ধানের চাষ শুরু হলেও এ বছর মৌসুমের শুরু দিকে কাঙ্খিত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ধান চাষের পূর্বপস্তুতি হিসেবে বীজতলা তৈরী করতে পরেনি এখানকার কৃষকরা। ফলে এবছর রোপা আমন চাষে অনেকটা বিলম্ব হয়েছে বলে জানিয়েছেন লালপুর উপজেলার কৃষকরা।’
বুধবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, দেরি হলেও মাঠ জুড়ে চলছে রোপা আমন ধান রোপানের প্রতিযোগিতা। শতব্যাস্ত দেখেও কয়েকজন চাষীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মৌসুমের শুরুতে কাঙ্খিত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় রোপা আমন ধান চাষ নিয়ে হতাশায় থাকলেও ঈদের দিন থেকে ৫দিনের টানা বৃষ্টিতে সে হতাশা অনেকটাই কেটে গেছে।
লালপুর উপজেলার ধান চাষী মজনু আলী বলছেন, মৌসুম শুরুর দিকে ধান চাষ নিয়ে হতাশায় থাকলেও শেষ সময়ে একটু বৃষ্টিপাত হওয়ায় এখন অনেকটাই স্বস্তি তবে অন্যান্য বছরের চেয়ে এবছর ধান চাষে খরচে বেশি হওয়ায় অনেক কৃষকই তাদের লক্ষমাত্রা অনুযায়ী ধান চাষ করতে পারছেন না।’
ধান চাষী শফিউল আলম বলছেন, ‘এবছর চারা সঙ্কট ও সময়মত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ধানের চাষের খরচ গত বছরের চেয়ে অনেক বেশি হচ্ছে। যদি শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকুলে না থাকে তবে এবছর ধান চাষীদের  লোকসন গুনতে হবে।
ওয়ালিয়া গ্রামের ধান চাষী হাসিবুল ইসলামসহ স্থানীয় কৃষকরা জানান, ‘গত ৩ বছর যাবত আশানুরূপ বৃষ্টিপাত ও আবহাওয়া অনুকুলে না থাকায় এবং উৎপাদিত ধানের নায্য মূল্য না পাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে আখ ও ভুট্টাচাষ করেছেন।’
চলতি মৌসুমে এই উপজেলার প্রায় কৃষকরাই দেশীয় জাতের পরিবর্তে (বিনা ধান-১৭, ৭, ২০, ব্রি-ধান ৪৯, ৬৬, ৭২, হাইব্রিড ধানী গোল্ড ও কেয়া) জাতের উচ্চ ফলনশীল ধানের চাষ করছেন। বিজ্ঞানের যুগেও অনেক কৃষক প্রয়োজনের তাগিদে গরু ও মহিষের নাঙ্গল ব্যবহার করছেন।’
ওয়ালিয়া গ্রামের রোপা আমন ধান চাষী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এবছর আমি দুই বিঘা জমিতে ধানের চাষ করেছি যাতে পানি সেচ, জমি চাষ, বীজ, শ্রমিক, সারবাবদ প্রথম অবস্থায় খরচ হয়েছে ১২ হাজার টাকা।’
এছাড়া পানি সেচ, নিড়ানী, কিটনাশক, ধান কাটা ও মাড়াই বাবদ আরও প্রায় ৭-৮ হাজার টাকা প্রয়োজন হবে জানান তিনি।’
লালপুর উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ‘এবছর লালপুর উপজেলায় ৫ হাজার ৭শত হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।’
এ ব্যাপারে লালপুর উপজেলা কৃষি অফিসার রফিকুল ইসলাম বলেন,‘ধান রোপনে দেরি হলেও আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এবছর উপজেলায় ধান চাষের নির্ধারিত লক্ষমাত্রা অর্জিত হবে বলে মনে করছেন তিনি।’




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft