বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল, ২০২০
সারাদেশ
মিরসরাইয়ের ঝরনাগুলোতে বাড়ছে দুর্ঘটনা
মুহাম্মদ দিদারুল আলম, চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি :
Published : Wednesday, 21 August, 2019 at 3:15 PM
মিরসরাইয়ের ঝরনাগুলোতে বাড়ছে দুর্ঘটনাপ্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠা চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের ঝরনাগুলোতে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঘটনা। ঝরনায় গোসল করতে গিয়ে কিংবা পাহাড়ের চূড়া থেকে পড়ে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটলেও ঝরনাগুলোতে প্রশাসনের নেই কোনো প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ।
মিরসরাই উপজেলার কয়েকটি ঝর্ণা আর মহামায়া লেক ইতিমধ্যে ভ্রমণ পিপাসুদের প্রিয় হয়ে উঠেছে। খৈয়াছরা ঝর্ণা, বোয়ালিয়া ঝর্ণা আর রূপসী ঝর্ণা এখানকার বর্ষার প্রধান আকর্ষন এখন। মিরসরাইয়ের সংবাদ কর্মীরা বিভিন্ন সময় ঝর্ণাগুলো নিয়ে সংবাদ প্রচার করলে দূর দূরান্ত থেকে পর্যটক আসতে শুরু করে।
জানা গেছে, ঝর্ণা পরিদর্শনের এসে অনেকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে সেলফি তুলতে গিয়ে দূর্ঘনায় পতিত হচ্ছে। অনেকে সাঁতার না জেনে পানিতে নেমে ডুবে যাচ্ছে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে নেই সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড কিংবা ব্যানার। এদিকে ঝর্ণা দেখতে এসে বারবার দূর্ঘটনায় পড়ছে পর্যটকরা।
গত কয়েক বছরে কমপক্ষে ৫ জন নিহত হয়েছে। সর্বশেষ গত ১৫ আগস্ট চট্টগ্রাম থেকে আসা মেহেদী হাসান (২২) নামে একজন প্রকৌশল ছাত্র রূপসী ঝর্ণায় মৃত্যুবরণ করে।
গত ২৬ জুলাই ঢাকা থেকে আসা প্রকৌশলী আবু আলী আল হোসাই মেমোরী (৩০) নামের প্রকৌশলী ঝর্ণায় অসতর্কভাবে ছবি তুলতে গিয়ে পিছলে পড়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে খৈয়াছরা ঝর্ণায়।
গত ১২ জুলাই বোয়ালিয়া ঝর্ণা দেখতে আসা ১৫ ছাত্রছাত্রী অসতর্কতার জন্য ঝর্ণার পথে ছরায় পানি বেড়ে যাওয়ায় সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় আটকা পড়ে। ফায়ার সার্ভিস গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।
এছাড়া গত কয়েক বছরে এভাবে অন্তত ৫ তরুণ প্রাণ হারায় এই ঝর্ণা দেখতে এসে। কিন্তু তবুও দর্শনার্থীদের প্রবল আকর্ষণ এই জলপ্রপাতসম সৌন্দর্য্যমন্ডিত ঝর্ণাগুলো। এইসব ঝর্ণা দেখতে আসা দর্শনার্থীরা সতর্ক না হলে আগামীদিনে আরও দুর্ঘটনার আশংকা থেকেই যাচ্ছে।
এবিষয়ে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান রুহেল জানান, তিনি সর্বপ্রথম খৈয়াছরা ঝর্ণায় খুঁজে বের করেন। তবে মিরসরাইয়ের ঝর্ণাগুলো যারা পরিদর্শন করেন তাদের অনেকের অভিজ্ঞতা নেই। স্থানীয় চেয়ারম্যানদের সাথে আলাপ করে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গাইড দিয়ে ঝর্ণাগুলো পরিচালনা করা হবে।
এ বিষয়ে মিরসরাইয়ের ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি প্রফেসর ডা. জামশেদ আলম বলেন, ঝর্ণার এলাকাগুলোতে বনবিভাগের উদ্যোগে সতর্কতাসম্বলিত বিভিন্ন ফেস্টুন, সাইনবোর্ড, সতর্কবার্তা সকল ঝুঁকিপূর্ণ স্থানের আশেপাশে লাগানোর ব্যবস্থা করা জরুরি।
এই বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, অনেক তরুণ-যুবক সাঁতার না জেনেই ঝর্ণার কূপে ডুব দিতে যাচ্ছে। এতে সে তলিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে স্ব স্ব পরিবার ও দর্শনার্থীদের ভাবা উচিত। তিনি আরো বলেন, আমরা শীঘ্রই বন বিভাগের মাধ্যমে প্রচারণা ব্যবস্থার উদ্যোগ গ্রহণ করবো।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft