রবিবার, ০৫ এপ্রিল, ২০২০
সারাদেশ
কুয়াকাটা সৈকত রক্ষা বাধঁ
কাজ শেষ হওয়ার আগেই জিও টিউব বিলিন
এইচ,এম, হুমায়ুন কবির, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) :
Published : Wednesday, 21 August, 2019 at 3:15 PM
কাজ শেষ হওয়ার আগেই জিও টিউব বিলিনসমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা ভাঙ্গনরোধ থেকে রক্ষায় পানি উন্নয়ন র্বোডের (পাউবো) অর্থায়নে জিও ব্যাগ দিয়ে পরিক্ষামুলক সুরক্ষা বাধেঁর কাজ শেষ না হতেই জিও উিউবের বালু বেড়য়ে গিয়ে মাটির সাথে মিশে গেছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নব্বই ভাগ কাজ শেষ হওয়ার দাবী করলেও বাস্তবতবে তা দেখা যায়নি। সৈকতের জিরো পয়েন্টের পুর্বাংশে জিও ব্যাগ ও টিউব নির্মানে ৬০ভাগ কাজ সিডিউল মোতাবেক হলেও পশ্চিম পাশে কোন সিডিউলই মানা হয়নি। জিও টিউবে সমুদ্রের বালু দিয়ে ভরা হয়েছে। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার কারনে অসমাপ্ত কাজ করেই বুঝিয়ে দেয়ার তোরজোর চলছে।
কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সুত্রে জানা গেছে, সমুদ্রে সৈকত ভাঙ্গনরোধে ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৫৬০ মিটার দৈর্ঘ্য মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণের জন্য ১৫ এপ্রিল কার্য্যাদেশ দেওয়া হয় বি.জে. জিও টেক্্রটাইল লিমিটেডকে। যা চলতি বছরের ৩০ জুন শেষ হবার কথা ছিল। সৈকতের জিরো পয়েন্ট এলাকার পিকনিক স্পট থেকে শুরু করে কুয়াকাটা দাখিল মাদ্রাসা পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার জিও বাগে এ মেরিন ড্রাইভ রাস্তা তৈরীর কাজ চলছে। এ রাস্তায়  ৫৬টি জিও টিউব ও ৮হাজার পিচ জিও বস্তা দেয়ার কথা রয়েছে। প্রতিটি জিও টিউবের দৈর্ঘ্য হবে ৩০ মিটার এবং প্রস্থ হবে ৪ মিটার। প্রতিটি জিও বস্তার সাইজ হবে পিপি সাইজ। প্রতিটি জিও টিউবের  রিভার সাইডে দুটি করে জিও বস্তা ২.৭৪ মিটার প্রস্থ এবং কান্টি সাইডে দুটি করে জিও বস্তা ২.৭৪ মিটার উচু ব্যাগ দিয়ে এ মেরিন ড্রাইভ রাস্তা বা সৈকত সুরক্ষা বাঁধ নির্মান করার এমন নির্দেশনা কোটেশনে রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে,ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করা থেকে এ পর্যন্ত ৪০টির মত টিউব তৈরী করতে পেরেছেন। যেসব টিউব তৈরী করা হয়েছে বেশিরভাগ টিউবের বালু বের হয়ে যাওয়ার কারনে নাজুক হয়ে গেছে। ২.৭৪ মিটার উচু স্থলে পশ্চিমাংশের টিউব গুলো অধিকাংশই ২মিটারেরও কম উচু করা হয়েছে। ৮ হাজার জিও ব্যাগের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি জিও বস্তা তৈরী করলেও তাও আবার সমুদ্রের বালু ভরার কারনে বস্তা থেকে বালু বের হয়ে গেছে এমনটাই দেখা গেছে। পাউবো’র অর্থায়নে জিও ব্যাগ দিয়ে সুরক্ষা বাধ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে কাজের শুরু থেকেই। এমন অভিযোগ আমলে না নিয়ে পাউবো কর্তৃপক্ষ সঠিক ভাবে কাজ হচ্ছে বলে দাবী করায় ট্যুরিজম ব্যবসায়ীরা বিষ্ময় প্রকাশ করেছে। কাজ শেষ হওয়ার আগেই জিও টিউব বিলিন
জিও টিউব ও ব্যাগে ২শ’ নম্বর সিপি বালু ভরে সৈকত রক্ষা বাধ দেওয়ার নিয়ম থাকলেও সেখানে বেশির ভাগই দেয়া হয়েছে সৈকতের বালু। কাজের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তরিগড়ি করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি দিনে ও রাতের আধারে সমুদ্রের বালু দিয়ে সুরক্ষা বাধের কাজ চালিয়ে আসলেও পাউবো কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে সৈকত প্রেমীরা হতাশ হয়েছেন। সৈকত সুরক্ষার পাশাপাশি মেরিন ড্রাইভ রাস্তা নির্মাণের কথা থাকলেও যেমন খুশি তেমন কাজ করা হয়েছে। এলোমেলো ভাবে জিও টিউব বসানোর কারনে সৈকতের সৌন্দর্য হারিয়ে গিয়ে ভূতুরে সৈকতের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। জিও ব্যাগ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বি.জে. জিও টেক্্রটাইল লিমিটেড কোম্পানী  এ কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি এমন অনিয়ম করলেও পাউবো বলছে নিয়ম মতই হচ্ছে কাজ।
ট্যুরিজম ব্যবসায়ী হোসাইন আমির বলেন. সৌন্দর্য বিহীন এমন সুরক্ষা বাঁধে নির্মান কাজ শেষ হওয়ার আগেই টিউবের বালু বের হয়ে গেছে এমন সুরক্ষাবাধ তারা আশা করেনি। কাজের শুরু থেকেই অনিয়ম করা হয়েছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের এমন অনিয়মকে সমর্থন দিয়ে গেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কুয়াকাটা পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোঃ শাহ আলম হাওলাদার অভিযোগ করেন, বেঁিরবাধের সাথে গর্ত করে মোটা বালুর পরিবর্তে জিও টিউবে লোকাল বালু ভরা হচ্ছে এর প্রতিবাদ করার কারনে পাউবো কলাপাড়া কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে সরকারী কাজে বাধাদানের অভিযোগ এনে নোটিশ দিয়েছে। সঠিক ভাবে কাজ না করে উল্টো তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়া হয়েছে বলে জানান।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.মুনিবুর রহমান বলেন,আমি নিজে গিয়ে দেখেছি সুরক্ষা বাঁধে অনিয়ম করা হয়েছে। নি¤œমানের কাপড় ও লোকাল বালু ভরার কারনে অনেক টিউব থেকে বালু বের হয়ে গিয়ে মাটির সাথে মিশে গেছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে সঠিক ভাবে কাজ করার জন্য সতর্ক করে দিয়েছেন। কাজে অনিয়মের বিষয়ে তিনি পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলীকে বলেছেন বলে জানান।
পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়া সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলী খাঁন মোহাম্মাদ অলিউজ্জামান অনিয়মের কথা স্বীকার করে বলেন, পাইপ দিয়ে বালু ভরার সময় কিছু লোকাল বালু পানির সাথে টিউবে পরেছে । জিও টিউব থেকে বালু বের হয়ে যাওয়া প্রসংগে তিনি বলেন, পর্যটকরা টিউব কেটে ফেলার কারনে বালু বের হয়ে গেছে।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft