বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৯
জাতীয়
১ লাখ ৩০ হাজার লোকের আবাসন প্রস্তুত
ভাসানচরে রোহিঙ্গা স্থানান্তরে অনিশ্চয়তা
কাগজ ডেস্ক :
Published : Friday, 16 August, 2019 at 5:26 PM
ভাসানচরে রোহিঙ্গা স্থানান্তরে অনিশ্চয়তাসম্পূর্ণ বসবাসের উপযোগী করে ভাসানচর প্রস্তুত করা হলেও রোহিঙ্গাদের অনাগ্রহ ও দাতা সংস্থাগুলোর আপত্তির মুখে অনিশ্চয়তায় পড়েছে সেখানে রোহিঙ্গা স্থানান্তর কার্যক্রম।
মিয়ানমার থেকে পলিয়ে আসা প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার কেউই আপাতত কক্সবাজার ছাড়তে চাইছে না। আর নিরাপত্তা ঝুঁকির অজুহাত তুলে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরে মত দিচ্ছে না কিছু এনজিওসহ জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কমিশন (ইউএনএইচসিআর)।
ফলে আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ভাসানচর সম্পূর্ণ বসবাসের উপযোগী করার কাজ শেষ হলেও রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে। এ বছরের এপ্রিলেই রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর শুরুর কথা থাকলেও এখনও তা আলোর মুখ দেখেনি। কবে নাগাদ শুরু হবে সে বিষয়েও কিছু জানাতে পারেনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. শাহ কামাল যুগান্তরকে বলেন, রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের বিষয়ে কোনো অগ্রগতি নেই। অগ্রগতি হলে আপনাদের জানানো হবে।
২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযান শুরু হলে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশের কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ায় পালিয়ে আসেন। আর আগে থেকে এখানে অবস্থান করা প্রায় চার লাখসহ ১২ লাখ বাড়তি মানুষ এখন উপজেলা দুটির শরণার্থী শিবিরে অস্বাস্থ্যকর ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করছেন।
কক্সবাজারের ওপর চাপ কমাতে এক লাখের মতো রোহিঙ্গা স্থানান্তরের পরিকল্পনা নিয়ে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে নোয়াখালীর ভাসানচরে ৪৫০ একর জমির ওপর আশ্রয় শিবির নির্মাণের প্রকল্প নেয় সরকার, যা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেয়া হয় বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে।
সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ২ হাজার ৩১২ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়, যেখানে ১ লাখ ৩০ হাজারের মতো রোহিঙ্গা বাস করতে পারবেন। নিরাপত্তার জন্য ভাসানচরে পুলিশ ক্যাম্প, নৌবাহিনীর একটি দফতর ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যদের জন্য ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।
রোহিঙ্গাদের জন্য ১ হাজার ৪৪০টি ব্যারাক হাউস, ১২০টি গুচ্ছগ্রাম, ১২০টি সাইক্লোন শেল্টার তৈরি করা হয়েছে। সুপেয় পানি, পয়ঃনিষ্কাশন, বিদ্যুৎ, পুকুর খনন, স্কুল ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
আয়ের ক্ষেত্র তৈরিতে ছোট দোকান, বিক্রয় কেন্দ্র পরিচালনার পাশাপাশি মহিষ, হাঁস-মুরগি পালন, কুটিরশিল্প, অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে মাছ চাষের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নির্মাণ করা হয়েছে দুটি হেলিপ্যাডও।
সবমিলে সম্পূর্ণ বসবাসের উপযোগী করে প্রস্তুত করা হলেও ভাসানচরে যেতে আপত্তি তুলেছেন রোহিঙ্গারা। এ বছরের ১৫ এপ্রিল থেকে ১ লাখ রোহিঙ্গাকে সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল।
এ বছরের ২৫ জানুয়ারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন জানিয়েছিলেন, ভাসানচরে অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শেষ হলে শিগগিরই রোহিঙ্গাদের সেখানে স্থানান্তর করা হবে। একইদিন মিয়ানমারে মানবাধিকার বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াংগি লি বলেন, ভাসানচরে সাইক্লোন হলে কি পরিস্থিতি হবে সেটা না দেখে এবং দ্বীপটির সুযোগ-সুবিধা পর্যাপ্ত যাচাই না করে কোনোভাবেই তাড়াহুড়ো করে রোহিঙ্গাদের সেখানে পাঠানো উচিত হবে না।
এটা করা হলে মিয়ানমারের কাছে ভুল বার্তা দেয়া হবে। তারা মনে করবে বাংলাদেশেই রোহিঙ্গাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা হয়ে যাচ্ছে, তাদের ফেরত না নিলেও চলবে। এরপর ১৩ মার্চ সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক রোহিঙ্গাদের পেছনে বিদেশি এনজিওগুলোর খরচ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প শুরু থেকে এ পর্যন্ত বিদেশি এনজিওগুলো চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে শুধু হোটেল ভাড়ায় ব্যয় করেছে ১৫০ কোটি টাকা।
তারা অর্থের মাত্র ২৫ ভাগ ব্যয় করে রোহিঙ্গাদের সহায়তায়। এটা খুবই দুঃখজনক। রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরে ইউএনএইচসিআরের আপত্তির বিষয়ে তিনি বলেন, আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ কোথায় রাখবে, এটা আমাদের নিজস্ব ব্যাপার। এক্ষেত্রে ইউএন বডির বলার কিছু নেই। তারা দেখবেন রোহিঙ্গাদের আমরা কোনো অমানবিক পরিবেশে রাখছি কিনা।
এরপরই বাংলাদেশ সফরে আসেন জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সুরক্ষাবিষয়ক সহকারী হাইকমিশনার ভলকার ক্রুক। ২১ মার্চ তিনি বলেন, কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলো অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ। এজন্য বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের বসবাসের জন্য যে বিকল্প ব্যবস্থা করছে তাতে আমরা সাধুবাদ জানাই।
প্রথমে যেটি নিশ্চিত করতে হবে তা হচ্ছে, যে কোনো জায়গায় রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর স্বেচ্ছায় হতে হবে। রোহিঙ্গারা যদি যেতে চায়, সেখানে তাদের জীবিকার ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে হবে। তবে অভিযোগ উঠেছে, একশ্রেণির এনজিও স্থানান্তর প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরগুলোকে অশান্ত করতে ইন্ধন জোগাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে যে তাদের দ্বীপান্তর করা হচ্ছে। ফলে কক্সবাজারের ক্যাম্প ছাড়তে চাচ্ছেন না রোহিঙ্গারা।
বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা। এক কর্মকর্তা বলেন, সরকার রোহিঙ্গাদের নিয়ে বড় ধরনের ফ্যাসাদে পড়েছে। ভাসানচরে স্থানান্তর নিয়ে পড়েছে উভয় সংকটে।
কারণ রোহিঙ্গাদের খাবারসহ সব ধরনের খরচের জোগান দিচ্ছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দাতা সংস্থা। ভৌগোলিক আর যোগাযোগ যে কারণেই হোক তারা চান না রোহিঙ্গারা কোনো দ্বীপে যাক।
কারণ রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর করা হলে এনজিও ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দফতরও সেখানে নিতে হবে। কর্মকর্তাদের ওই চরে থাকতে হবে। তাদের ছাড়তে হবে কক্সবাজারের বিলাসবহুল হোটেল-মোটেল।
ঢাকা ও চট্টগ্রামের হুটহাট বিমানযাত্রাও বন্ধ হয়ে যাবে। মূলত এসব কারণেই বিদেশি এনজিওরা রোহিঙ্গা ক্যাম্প স্থানান্তরের বিরোধিতা করছে বলে স্থানীয়দের ধারণা।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft