সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯
আন্তর্জাতিক সংবাদ
কাশ্মীর এখন ‘খাঁচাবন্দি’
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
Published : Thursday, 15 August, 2019 at 4:12 PM
কাশ্মীর এখন ‘খাঁচাবন্দি’ভারত অধিকৃত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদাদানকারী ৩৭০ ধারা তুলে নেবার পর সেখানে নানা উন্নয়নের প্রলোভন দেখাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও তার দলের লোকজন। এই পরিবর্তনের ফলে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের মানুষ কি কি সুযোগ সুবিধা পাবেন তার বিস্তারিত ফিরিস্তি তুলে ধরেছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি কোবিন্দ-ও। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ভারতের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছেন জম্মু-কাশ্মীরের লোকজন। কিন্তু তারা তাদের সেই ক্ষোভ প্রকাশ করার কোনো সুযোগই পাচ্ছেন না। কেননা তাদের অবস্থা যে এখন খাঁচাবন্দি বাঘের মত।
গত পাঁচ দিন ধরে কাশ্মীরের নানা প্রান্ত ঘুরে সেই ক্ষোভের আঁচ পেয়েছেন ভারতের কয়েকজন রাজনৈতিক আর সামাজিক কর্মী। তাদের দাবি, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার মতো পরিস্থিতি নেই সেখানে। সেই ক্ষোভ যাতে সামনে না আসে, তার জন্য একদিকে রয়েছে কঠোর নিষেধাজ্ঞা, অন্যদিকে চলছে সংবাদমাধ্যমের ওপরে অঘোষিত নিয়ন্ত্রণ। সেখানে নামমাত্র কিছু পত্রিকা বের হচ্ছে। বন্ধ রয়েছে টেলিফোন, ইন্টারনেটসহ সকল প্রকার যোগাযোগ ব্যবস্থা। তাই এসব কর্মীরা তাদের প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম দিয়েছেন ‘খাঁচাবন্দি কাশ্মীর’ (কাশ্মীর কেজড)।
এসব রাজনৈতিক আর সামাজিক কর্মীরা রাজধানী শ্রীনগরসহ রাজ্যের নানা প্রান্তে ঘুরে বেরিয়েছেন। কথা বলেছেন উপত্যকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে। এইসব লোকজনের মধ্যে সংবিধান থেকে ৩৭০ ধারা বিলোপ এবং মোদি সরকার যেভাবে গোটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে, তা নিয়ে একটা ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে। কিন্তু তারা তাদের সেই ক্ষোভ প্রকাশ করার কোনো সুযোগ পাচ্ছেন না। তাই তো খাঁচাবন্দি বাঘের মতই তারা কেবল ফুঁসছেন।
সম্প্রতি কাশ্মীর পরিদর্শনে যাওয়া ওই দলেরই এক সদস্য অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রঁজ। তিনি বিবিসিকে বলেন, ‘শ্রীনগর থেকে শুরু করে কাশ্মীরের সব স্থানের মানুষ ক্ষুব্ধ। তারা বলছেন, যেন একটা জেলখানায় তাদের রেখে দেয়া হয়েছে। খুব বেশি প্রতিবাদ করতে পারছেন না মানুষ। সরকার নিষেধাজ্ঞা একটু শিথিল করলেই মানুষ প্রতিবাদ জানাতে বেরিয়ে পড়ছেন। তাই আবারও নিষেধাজ্ঞা বলবৎ করছে প্রসাশন। সৌরার মতো যেখানে কিছুটা প্রতিবাদ হয়েছে, সেখানেই ছররা গুলি চালাচ্ছে সেনারা।’
হাসপাতালগুলোতে ছররা গুলিতে আহত এরকম বেশ কয়েকজনকে তারা দেখতে পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন দ্রঁজ।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৬০০ রাজনৈতিক নেতা-কর্মীকে আটক করে রাখা হয়েছে। এছাড়াও শহরে বা গ্রামে যেখানেই তারা গেছেন, সেখানেই দেখেছেন তরুণ বা যুবক, এমনকি স্কুল ছাত্রদেরও আটক করে রাখা হয়েছে।
অনেক ক্ষেত্রে নিরাপত্তাবাহিনী মাঝরাতেও বাড়িতে ঢুকে তল্লাশি চালিয়ে আটক করছে। এক বৃদ্ধকে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই কেন রাস্তায় যেতে দিতে অনুরোধ করেছিলেন নিরাপত্তা বাহিনীকে, এই অভিযোগে ছররা গুলি ছোঁড়া হয়েছে এক যুবকের দিকে।
প্রতিনিধিদলটির আরেক সদস্য সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির নেত্রী মইমুনা মোল্লা জানান, ‘মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর সর্বোচ্চ আর দ্বিতীয় পর্যায়ের নেতাদের তো আটক করা হয়েছেই। এমনকি প্রায় প্রতিটা গ্রাম থেকেও অনেক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।’
প্রতিবাদ বা বিক্ষোভ সংগঠিত করার দক্ষতা আছে, এমন লোকদেরই আটক করা হয়েছে। কত লোক যে জেলে আছে, কেউ জানে না, বলছিলেন মইমুনা মোল্লা।
অর্থনীতিবিদ অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রঁজ আরও জানালেন, সেখানে সংবাদমাধ্যমের ওপরে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। ‘কাশ্মীরের সংবাদমাধ্যম তো কোনো কাজই করতে পারছে না। তাদের কাছে কোনও সংবাদ পৌঁছুচ্ছে না। তাদেরও খবর যোগাড় করার কোনও উপায় নেই। একটা দুটো খবরের কাগজ হয়তো কোনোভাবে বেরচ্ছে। কখনও দু'পাতা, চার পাতার কাগজ ছাপছে। তাও সেই কাগজ বিক্রি করার সুযোগ বিশেষ নেই। তাদের ওপরেও খবরদারি চলছে। আর ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে হাতে গোনা কয়েকজন সাংবাদিকই আছেন, যারা সত্য চিত্রটা তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।’
তবে আন্তর্জাতিক মাধ্যমগুলো অনেকটা আসল ছবি তুলে ধরতে পারছে বলে মন্তব্য করেন দ্রঁজ। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বেশিরভাগ ভারতীয় সাংবাদিকই শ্রীনগরের যে অংশ থেকে কাজ চালাচ্ছেন সেখানে কখনও কখনও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। কিন্তু এটা গোটা কাশ্মীরের ছবি নয়। তাই এসব সাংবাদিকরা কাশ্মীরের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়ে আসছে বলে যে খবর পাঠাচ্ছে তা মোটেও সত্যি নয়, সম্পূর্ণ মিথ্যা।
আসল সত্যি হচ্ছে গোটা কাশ্মীরের মানুষ আজ ‘খাঁচাবন্দি’ হয়ে আছেন। কিন্তু সেই সংবাদ প্রকাশ করার মতো সৎসাহস কোনো ভারতীয় সাংবাদিকদের নেই। তাই তারা কেবল ‘ফ্রেব্রিকেটেড সংবাদ’ পরিবেশন করে চলেছেন। সূত্র: বিবিসি বাংলা




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft