শনিবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৯
অর্থকড়ি
যশোরের হাটগুলোতে ছোট এবং মাঝারি গরুর চাহিদা ও দাম বেশি
বিক্রি হবে ৩শ’ কোটি টাকার পশু
এম. আইউব :
Published : Saturday, 10 August, 2019 at 6:05 AM
বিক্রি হবে ৩শ’ কোটি টাকার পশু যশোরে এ বছর তিনশ’ কোটি টাকার কোরবানির পশু বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জেলার ১০ হাজার খামারির ঘরে পালিত ৭০ হাজার পশু বিক্রি হবে এ টাকায়। এদিকে, এ বছর পশুহাটগুলোতে ছোট এবং মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা অনেক বেশি। বড় গরুর ক্রেতা নেই বললেই চলে। রূপদিয়া, উপশহরসহ বিভিন্ন পশুহাটে খোঁজ নিয়ে এ তথ্য জানাগেছে।
কোরবানির বাকি মাত্র একদিন। আগামী সোমবার বাংলাদেশে ঈদুল আযহা উদযাপিত হবে। ঈদ একেবারেই হাতের মুটোয় আসায় ক্রেতারা এখন পশুহাটমুখী। যশোরের হাটগুলো জমজমাট হতে শুরু করেছে। সকাল থেকে রাত অবধি চলছে পশু বেচাকেনা। ভারতীয় গরু তেমন না আসায় ক্রেতাদের চাহিদা বেড়েছে দেশি গরুর প্রতি। আর এ কারণেই বেড়েছে দাম-এমন দাবি ব্যাপারী ও ক্রেতাদের।
কথা হয় রূপদিয়া পশুহাটে আসা গরুর ব্যাপারী কেরানিগঞ্জের আবুল বাশার ও ফয়জুল্লাহর সাথে। তারা বলেন, এ বছর ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি। ক্রেতারা বড় গরুর দিকে এগুচ্ছেন না। এ কারণে তারাও বিভিন্ন হাট থেকে মাঝারি গরু কিনছেন। আর চাহিদা বেশি থাকায় দামও বেশি। আলতাফ মাহমুদ নামে একজন ক্রেতা বলেন, ৯৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি মাঝারি গরু কিনেছি। বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখেছি দাম হাটের তুলনায় বেশি। এ কারণে অগত্যা হাটে এসে গরু কিনতে হলো। গ্রামের চেয়ে হাটে গরুর দাম অপেক্ষাকৃত কম বলে জানান তিনি। গরুর দাম বেশি হওয়ায় খুশি যশোরের খামারিরা। আব্দুল মান্নান নামে একজন খামারি বলেন, ভারতীয় গরু তেমন একটা না আসায় দেশি গরুর বিক্রি ভালো। তবে, বড় গরুর ক্রেতা কম।  
এ বছর যশোর জেলায় কোরবানির পশু বিক্রি করবে ১০ হাজার খামারি। তারা বিক্রির উপযোগী করেছেন ৭০ হাজার কোরবানিযোগ্য পশু। এসব পশু বিক্রি শুরু হয়েছে আরো এক মাস আগে থেকে। তবে, সেই বিক্রির পরিমাণ ছিল তুলনামূলক কম। বর্তমানে বিক্রি রমরমা। জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে পাওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যশোরের আট উপজেলায় ১০ হাজার ৮শ’ ২৭ জন খামারি ৭০ হাজার ৬শ’ ৪৭ টি কোরবানিযোগ্য পশু পালন করেছেন। এরমধ্যে গরু রয়েছে ৩১ হাজার ৯শ’৬ টি। ৩৮ হাজার ৭শ’ ৪১ টি রয়েছে ছাগল-ভেড়া মিলে।
যশোর সদর উপজেলার ১ হাজার ২শ’ ১০ জন খামারি ৩ হাজার ১শ’ ১২ টি গরু ও ৩ হাজার ৩শ’ ৪২ টি ছাগল-ভেড়া, ঝিকরগাছার ১ হাজার ৩শ’ খামারি ২ হাজার ৮শ’ ৫০ টি গরু ও ৩ হাজার ৬শ’ ৪০ টি ছাগল, শার্শার ১ হাজার ৫শ’ ৪ জন খামারি ৪ হাজার ৭শ’ ৮৫ টি গরু ও ৭ হাজার ৯শ’ ৯১ টি ছাগল-ভেড়া, মণিরামপুরের ২ হাজার ২৭ জন খামারি ৬ হাজার ৭শ’ ৬৫ টি গরু ও ৮ হাজার ৫শ’ ৩১ টি ছাগল, কেশবপুরের ১ হাজার ৫শ’ ৮০ জন খামারি ২ হাজার ৪শ’ ২২ টি গরু ও ২ হাজার ৫শ’ ৩৮ টি ছাগল, অভয়নগরে ১ হাজার ৫০ জন খামারি ৪ হাজার ৫শ’ ৬৯ টি গরু ও ৩ হাজার ৫শ’ ১২ টি ছাগল, বাঘারপাড়ার ৭শ’ ৯৪ জন খামারি ৩ হাজার ৪শ’ ৮৬ টি গরু ও ২ হাজার ৮শ’ ৩৭ টি ছাগল এবং চৌগাছার ১ হাজার ৩শ’ ৬২ জন খামারি ৩ হাজার ৮শ’ ১৭ টি গরু ও ৬ হাজার ৩শ’ ৫০ টি ছাগল পালন করেছেন। যশোরে এবার ভেড়া পালিত হয়েছে ৮শ’ ৪৩ টি। এগুলোর মধ্যে সদরে ১শ’ ২৩, শার্শায় ৫শ’ ৬৯, বাঘারপাড়ায় ৩২ ও চৌগাছায় ১শ’ ১৯ টি রয়েছে। জেলার আট উপজেলার মধ্যে সর্বাধিক পশু পালিত হয়েছে মণিরামপুরে ১৫ হাজার ২শ’ ৯৬ টি। আর সর্বনি¤œ কেশবপুরে ৪ হাজার ৯শ’ ৬০ টি।
প্রতিটি গরু গড়ে ৭৫ হাজার টাকায় বিক্রি হলে যশোরে পালিত ৩১ হাজার ৯শ’ ৬ টি গরু বিক্রি হবে ২শ’ ৩৯ কোটি ২৯ লাখ ৫০ হাজার টাকায়। একইভাবে প্রতিটি ছাগল-ভেড়া গড়ে ৮ হাজার টাকা করে বিক্রি হলে ১০ হাজার খামারির ঘরে পালিত ৩৮ হাজার ৭শ’ ৪১ টি ছাগল-ভেড়া বিক্রি হবে ৩০ কেটি ৯৯ লাখ ২৮ হাজার টাকায়। সব মিলিয়ে প্রায় ৩শ’ কোটি টাকার কোরবানির পশু বিক্রি হবে যশোর থেকে। জেলার ২৪ টি স্থায়ী এবং অস্থায়ী হাটে বিক্রি হচ্ছে এসব পশু।
এবারের কোরবানিতে জেলায় মোট ৬৩ হাজার গরু-ছাগলের চাহিদা রয়েছে। এরমধ্যে গরু রয়েছে ২৮ হাজার এবং ছাগল ভেড়া ৩৫ হাজার। এ জেলায় কোনো মহিষ পালিত হয়নি বলে প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে। যশোরের যে ২৪ টি হাটে কোরবানির পশু বিক্রি হচ্ছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো চৌগাছা, সাতমাইল, উপশহর, ঝিকরগাছা, মণিরামপুর, কেশবপুর, খেদাপাড়া, নাভারণ, বাগআঁচড়া, ছুটিপুর, খাজুরা, চাড়াভিটা, নারিকেলবাড়িয়া, রূপদিয়া ও পুড়োপাড়া। এই হাটগুলোতে ক্রেতার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি থাকে। পশুও পাওয়া যায় ব্যাপকভাবে। এ কারণে ক্রেতারা উল্লেখিত হাটগুলোতে ছুটছেন।
এসব বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ভবতোষ কান্তি সরকার বলেন, প্রতিনিয়ত কোরবানির পশুর বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। প্রত্যেকটি হাটে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে। কোনো পশুতে আপত্তিকর কিছু পরিলক্ষিত হলে সেই বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে, যশোর সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস শুক্রবার রূপদিয়া পশুহাটে বিক্রিযোগ্য পশু পর্যবেক্ষণ করে। হাটে আনা পশুতে কোনো রকম ত্রুটি আছে কিনা সেটি নিশ্চিত করে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম। এ টিমের নেতৃত্ব দেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তপনেশ্বর রায়। উপস্থিত ছিলেন উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এসএম জাহিদ হোসেন। সদর উপজেলার পশুহাটগুলো তদারকির জন্যে ভেটেরিনারি টিম গঠন করা হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, এবার গবাদী পশুর হাটে ভারতীয় কোনো গরু না থাকায় খামারিরা লাভবান হবেন। উপকৃত হবে যশোরবাসী। 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft