শনিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন হাজার স্কুল-কলেজে পত্র
কাজ করবে ১০ লাখ শিক্ষার্থী
ঈদের ছুটিতেও খোলা রাখতে হবে অফিস, গঠন করতে হবে ১০ সদস্যের টিম
এম. আইউব :
Published : Friday, 9 August, 2019 at 6:01 AM
কাজ করবে ১০ লাখ শিক্ষার্থীডেঙ্গু নিয়ে যখন চারদিকে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, তখন প্রতিরোধে মাঠে নামছে খুলনা বিভাগের ১০ লাখ শিক্ষার্থী। এসব শিক্ষার্থী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের। ইতোমধ্যে যশোর শিক্ষাবোর্ডের অধীন ১০ জেলার আড়াই হাজার মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পত্র দেয়া হয়েছে। কেবল তাই না, ঈদের ছুটিতেও থাকতে হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। ১০ সদস্যের টিম করে একদিন পরপর সবকিছু পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে নতুন করে।
সারাদেশে ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে রীতিমত আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এ আতঙ্ক থেকে মুক্তি দিতে নানা পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। তারই অংশ হিসেবে পদক্ষেপ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে মন্ত্রণালয় দেশের সবক’টি শিক্ষাবোর্ডকে পত্র দিয়েছে তাদের অধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্যে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সোহরাব হোসাইন স্বাক্ষরিত পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দিয়েছে। বহু মানুষ এতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সতর্কতা অবলম্বন করলে এ রোগ থেকে নিস্তার পাওয়া সম্ভব। ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহ সকল প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। ডেঙ্গু এডিস মশা বাহিত একটি রোগ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের খেলার মাঠ এবং ভবনসমূহের মাঝে পানি জমে থাকে এমন জায়গা, ফুলের টবে জমে থাকা পানি এডিস মশার উপযুক্ত প্রজনন কেন্দ্র। ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এ লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নি¤েœাক্ত ব্যবস্থাসমূহ গ্রহণ করতে হবে। ১.১ খেলার মাঠ ও ভবনসমূহ নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। ১.২ মাঠ কিংবা ভবনে জমে থাকা পানি দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে। ১.৩ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে সৌন্দর্য্য বর্ধনের জন্য যে সকল ফুলের টব রাখা হয়েছে তা নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। ১.৪ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ডেঙ্গু প্রতিরোধের উপায়সমূহ প্রত্যহ শিক্ষার্থীদের অবহিত করতে হবে।’ সিনিয়র সচিব স্বাক্ষরিত এ পত্রের স্মারক নম্বর ৩৭.০০.০০০০.০৭২.৪৪.০১০.১৩-২৩৬।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ পত্রের আলোকে যশোর শিক্ষাবোর্ড তাদের অধীন ২৫শ’১২ টি স্কুলের প্রধান শিক্ষককে পৃথক আরেকটি পত্র দিয়েছে। বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক ড. বিশ্বাস শাহিন আহম্মদ স্বাক্ষরিত পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘উপর্যুক্ত বিষয় ও সূূত্রের প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে জানানো যাচ্ছে যে, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড যশোরের আওতাধীন সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানকে ডেঙ্গুর বিস্তার প্রতিরোধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র (সংযুক্ত) অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।’ এই পত্রের স্মারক নম্বর হচ্ছে বিঅ-৬/১১৭৮, তারিখ-০৪/০৮/২০১৯।
স্কুল পরিদর্শক ড. বিশ্বাস শাহিন আহম্মদ জানিয়েছেন, সকল বিদ্যালয় প্রধানকে ইতোমধ্যে পত্র দেয়া হয়েছে। তারা কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে মনে করেন তিনি।
শিক্ষাবোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গড়ে তিনশ’ করে শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করলে বোর্ডের অধীন ২৫শ’১২ টি মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুলে মোট ৭ লাখ ৫৩ হাজার ৬শ’ শিক্ষার্থী রয়েছে। যাদেরকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজে লাগানো যাবে। আর বিপুল সংখ্যক এ শিক্ষার্থী পরিচ্ছন্নতার কাজ করলে অন্তত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ডেঙ্গুর বিস্তার থেকে রেহাই পাবে। ঝুঁকিমুক্ত থাকবে লাখ লাখ মানুষ। কেবল স্কুল পর্যায়ে পত্র দেয়া না, কলেজগুলোকেও পত্র দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন যশোর বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক কেএম রব্বানী। ৫শ’ ৮৬ কলেজকে পত্র দেয়ায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজে যোগ হয়েছে আরো ১ লাখ ৭৫ হাজার শিক্ষার্থী। ফলে, এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ২৮ হাজারে।
ঈদ উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ১২ দিন ছুটি থাকবে। এই ছুটির দিনের করণীয় সম্পর্কে নতুন করে নির্দেশনা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওই পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘স্বভাবত ছুটির দিনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক কর্মচারীরা উপস্থিত থাকবেন না। এ সময়ে খেলার মাঠ, ফুলের টব, পানি জমে এমন যে কোনো পাত্রে এডিস মশার প্রজনন প্রক্রিয়া আরো বেগবান হয়ে উঠতে পারে। এতে সরকার কর্তৃক গৃহীত ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত ও ডেঙ্গুর আরো বিস্তার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’ এ কারণে নতুন করে ছয়টি নির্দেশনা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এসব নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে ২.১ ঈদ-উল-আযহার ছুটির সময় একজন শিক্ষকের নেতৃত্বে কর্মচারী, স্কাউটস, বিএনসিসি, শিক্ষার্থী সমন্বয়ে ছয় থেকে ১০ জনের টিম গঠন করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও এর আশপাশে যেসব জায়গায় স্বচ্ছ পানি জমার সম্ভাবনা থাকে সেসব জায়গা চিহ্নিত করে একদিন অন্তর অন্তর পরিষ্কার করতে হবে। ২.২ বাথরুমের বদনা ও বালতি পানি শূন্য করে উল্টিয়ে রাখতে হবে। হাইকমোডে হারপিক দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। বাথরুমের প্যানে হারপিক ঢেলে বস্তা বা অন্য কিছু দিয়ে মুখ বন্ধ করে রাখতে হবে। ২.৩ কোনো জায়গায় পানি জমাটবদ্ধ থাকলে লার্ভিসাইড স্প্রে করতে হবে অথবা জমাটবদ্ধ পানি নিষ্কাশন করতে হবে। ২.৪ আগামী ১২-১৩ আগস্ট ব্যতীত প্রত্যহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অফিস কক্ষ খোলা রাখতে হবে। ২.৫ রোস্টার ডিউটির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে ও ২.৬ ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমে সিটি কর্পোরেশন/পৌরসভার এ সংক্রান্ত টিমে নিয়োজিত শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কেউ ঈদের ছুটিতে গেলে তদস্থলে উপযুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এসব নির্দেশনা সংক্রান্ত পরিপত্রের স্মারক নম্বর হচ্ছে  ৩৭.০০.০০০০.০৭২.৪৪.০১০.১৩-২৪২।
কর্মকর্তারা বলছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকলে কেবল সেগুলোর শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নিরাপদ থাকবে না, নিরাপদ থাকবে এর আশপাশের অনেক মানুষ।
এসব বিষয়ে যশোর শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মাদ আব্দুল আলীম বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পত্র দেয়া হয়েছে। লাখ লাখ শিক্ষার্থী পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কাজে অংশ নিলে তা সকলের জন্যে মঙ্গল হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে এভাবে সবাই যার যার অবস্থান থেকে কাজ করলে উপকৃত হবে দেশবাসী।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft