বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৯
অর্থকড়ি
সঞ্চয়পত্রের লভ্যাংশ থেকে কাটা হচ্ছে ১০ ভাগ উৎসকর
যশোর ডাকঘরে ১২শ’ কোটি টাকা আমানতকারীরা হতাশ
জাহিদ আহমেদ লিটন :
Published : Thursday, 8 August, 2019 at 6:14 AM
যশোর ডাকঘরে ১২শ’ কোটি টাকা আমানতকারীরা হতাশ যশোর প্রধান ডাকঘরে প্রায় ১২শ’ কোটি টাকা আমানতকারীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। কোন ঘোষণা ছাড়াই তাদের লভ্যাংশ থেকে কেটে নেয়া হচ্ছে শতকরা ১০ ভাগ উৎস কর। বাজেট ঘোষণার পরে গত ১ জুলাই থেকে এ পদ্ধতি কার্যকর হয়েছে। এ নিয়ে প্রতিদিনই প্রধান ডাকঘরে আমানতকারীদের হট্টগোল লেগেই রয়েছে। এ কাজে তারা দূষছে ডাকঘর কর্তৃপক্ষকে।
সূত্র জানায়, দেশের বৃহৎ একটি অংশের মানুষ ডাকঘর ব্যাংকিংয়ের সাখে জড়িত। তারা তাদের শেষ জীবনের আয়ের টাকা ডাকঘরে আমানত রেখে মাসিক লভ্যাংশ উত্তোলনের মাধ্যমে খরচ চালিয়ে থাকেন। দেশের বিভিন্ন অফিস বা সংস্থার অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী ও বয়স্ক প্রবীণ ব্যক্তিরাই সাধারণত ডাকঘরে আমানত করে থাকেন। তারা ডাকঘরে সঞ্চয়পত্র, ডাকজীবন বীমা, এফডিআরসহ নানা আমানত করে থাকেন। যশোরের বিভিন্ন ডাকঘরে গত অর্থ বছরে এ আমানতের পরিমান প্রায় ১২শ’ কোটি টাকা বলে ডাকঘর সূত্রে জানা যায়। আর ডাকঘরে টাকার লভ্যাংশ নিয়ে বিপুল সংখ্যক আমানতকারীরা বর্তমানে হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন। সঞ্চয়পত্র বিক্রির আধুনিকায়ন ও বাজেটে কর দ্বিগুন বৃদ্ধি করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে। আর সর্বশেষ পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়েছে অর্থমন্ত্রীর এ সংক্রান্ত বক্তব্যে।
সূত্র জানায়, চলতি অর্থ বছরের বাজেটে দেশের ডাকঘরে সঞ্চয়পত্রে আমানতকারীদের লভ্যাংশের ওপর শতকরা ১০ ভাগ উৎসকর আরোপ করা হয়। যা গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। অখচ গত ২০১৮ সালে এ কর ছিল শতকরা ৫ ভাগ। এদিকে, উৎসকরের হার দ্বিগুন করায় যশোরের আমানতকারীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। কোন ঘোষণা ছাড়াই সরকার এ কর আরোপ করায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আমানতকারীরা জুলাই মাসে তাদের সঞ্চয়পত্রের লভ্যাংশ তুলতে গিয়ে জানতে পারেন, তাদের কাছ থেকে ১০ ভাগ হারে উৎসকর কর্তন করা হচ্ছে। যা গত পাঁচ বছর আগের লভ্যাংশ হলেও এ হারে টাকা কাটা হচ্ছে। এ নিয়ে যশোরের ডাকঘরগুলোতে জুলাই মাস থেকে প্রতিদিনই গ্রাহকদের সাথে হট্টগোল হচ্ছে।
যশোর প্রধান ডাকঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ বিষয়ে তাদের কিছুই করার নেই। সরকারি নিদের্শনা ছাড়া তারা আমানতকারীদের কোন টাকা কাটতে পারেন না। বাজেটে লভ্যাংশের উৎসকর ১০ ভাগ করার পর তা গেজেট অনুয়ায়ী তাদের কাছে পাঠানো হলে নিদের্শনা মোতাবেক তারা কর্তন করছে। এ নিদের্শনায় বলা হয়েছে, ১ জুলাই থেকে সঞ্চয়পত্রের আমানতকারীরা তাদের লভ্যাংশের টাকা তুলতে গেলে তা থেকে ১০ ভাগ হারে উৎসকর কাটা হবে। সে লভ্যাংশের টাকা ২০১৫ সালের বা যত পুরনোই হোক না কেন। আর এটা বুঝতে না পেরে আমানতকারীরা তাদের সাথে বিতর্কে জড়িয়ে পড়ছেন। গ্রাহকরা ভাবছেন পুরনো বছরের লভ্যাংশ তুলতে গেলে তাদেরকে শতকরা ৫ ভাগ হারে উৎসকর প্রদান করতে হবে। কিন্তু এটি সঠিক নয়। পুরনো বছরের লভ্যাংশ তারা ৩০ জুনের মধ্যে তুলে নিলে তাদেরকে ৫ ভাগ হারেই উৎসকর প্রদান করতে হতো। কিন্তু ১ জুলাই থেকে এ কর দ্বিগুন করা হয়েছে। এ কারণে গ্রাহক যে সময়ের লভ্যাংশ তুলুন না কেন তাকে ১০ ভাগ উৎসকর দিতে হবে।
এদিকে, গত ২৯ জুলাই সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, বাজেট পাসের পর সঞ্চয়পত্র নিয়ে অনেক বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। তাই সঞ্চয়পত্রে যাদের ৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ আছে, তাদের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ কর দিতে হবে। এ টাকার বেশি যারা কিনবেন, তাদের দিতে হবে ১০ শতাংশ। অর্থমন্ত্রীর এ বক্তব্য গত ৩০ জুলাই দৈনিক সমকাল পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। আর অর্থমন্ত্রীর এ কথায় আশস্ত হয়ে আমানতকারীরা ডাকঘরে গিয়ে লভ্যাংশ তুলতে গিয়ে হতাশ হচ্ছেন ও কর্মকর্তাদের সাথে বিতর্কে জড়িয়ে পড়ছেন। অথচ মন্ত্রীর এ নিদের্শনা গেজেট আকারে ডাকঘরে না আসায় কর্মকর্তারা ১০ ভাগ হারেই উৎসকর কাটছেন।
যশোর উপশহর এলাকার এক গৃহবধূ জানান, বুধবার বেলা ১১টায় তিনি যশোর প্রধান ডাকঘরে তার সঞ্চয়পত্রের লভ্যাংশ তুলতে আসেন। এসময় দু’ঘন্টা তিনি লাইনে দাড়িয়ে থেকে যখন টাকা হাতে পেলেন, তখন দেখেন তার ১০ ভাগ হারে উৎসকর কাটা হয়েছে। এ নিয়ে তিনি কর্মকর্তাদের সাথে বির্তকে জড়িয়ে পড়েন ও অর্থমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দেন। কিন্তু তার কোন কথাই গুরুত্ব দেননি ডাকঘর কর্তৃপক্ষ। কারণ ভীষণ ভিড়ের লাইনে দাড়িয়ে থাকাদের কাজ করতে গিয়ে কর্মকর্তাদের কোন কথা বলার সময় নেই।
এ ব্যাপারে যশোর প্রধান ডাকঘরের এসিসটেন্ট পোস্ট মাস্টার জেনারেল মিরাজুল হক বলেন, যশোরের পোস্ট অফিসগুলোতে গ্রাহকদের গত বছরের আমানত রয়েছে প্রায় ১২শ’ কোটি টাকা। এ কারণে বিপুল সংখ্যক গ্রাহক প্রয়োজনীয় কাজে প্রতিদিনই ডাকঘরে আসেন। আর সঞ্চয়পত্রের লভ্যাংশ নিয়ে তাদের সাথে প্রতিদিনই আমানতকারীরা বিতর্কে জড়িয়ে পড়ছেন। কিন্তু এ বিষয়ে তাদের কিছুই করার নেই। সরকারি লিখিত নিদের্শনা বা গেজেট ছাড়া তারা কিছুই করতে পারবেন না। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী ৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্রের লভ্যাংশের উৎসকর ৫ ভাগ করার গেজেট তাদের হাতে আসলে তারা সাথে সাথেই তা বাস্তবায়ন করবেন বলে জানান। এ সংক্রান্ত বিষয় তারা লিখে ডাকঘরের কাউন্টারে টাঙিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু তারপরও বিতর্ক থামছে না। এছাড়া ডাকঘরে লোকবল সংকট ও ম্যানুয়াল (সাবেকি) পদ্ধতির কারণে লেনদেনে সময় লাগছে বলে তিনি জানান।   




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft