রবিবার, ৩১ মে, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
যশোর কালেক্টরেট ক্যাম্পাস পরিষ্কার হবে কবে?
কাগজ সংবাদ :
Published : Wednesday, 7 August, 2019 at 6:24 AM
যশোর কালেক্টরেট ক্যাম্পাস পরিষ্কার হবে কবে?ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতায় সামাজিক আন্দোলনে নেমেছে যশোর জেলা প্রশাসন। বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষকে সাথে নিয়ে চলছে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। অথচ খোদ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের চত্বরেই আবর্জনার স্তুপ! বিষয়টি অনেকের কাছে তাই আলোর নিচে অন্ধকারের মতো। ময়লা আর্বজনা আর পরিত্যক্ত গাড়ির ভাগাড়ের অপবাদ থেকে এখনও মুক্ত হতে পারলো না কালেক্টরেট চত্বর। ভাগাড় অপসারণের উদ্যোগটি ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে শুরু হয়েও আবার বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রক্রিয়াটি ফের সচল করে যশোরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত কালেক্টরেট চত্বর পরিচ্ছন্ন করার দাবি যশোরবাসীর।
শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী যশোর কালেক্টরেট ভবনের সৌন্দর্য্য ম্লান হয়ে আছে জেলা তথ্য অফিস পার্শ্ববর্তী ও ট্রেজারি শাখার পূর্বপাশের প্রবেশ পথে ময়লা আবর্জনার স্তুপ, অযতœ অবহেলায় পড়ে থাকা জব্দ করা বিভিন্ন মামলার আলামত পুরান গাড়ি। দীর্ঘদিন ধরে এসব ভাংড়ি মটরযান খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকায় কালেক্টরেট চত্বরের সৌন্দর্য্যহানির সাথে হচ্চিল পরিবেশ নষ্ট। দুর্গন্ধের সাথে এখন বৃষ্টির পানি জমে মশার প্রজনন ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। মামলার দীর্ঘসূত্রিতায় কালেক্টরেট ভবন ও চত্বরে রক্ষিত বিভিন্ন আলামত দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে সরিয়ে নিতে ২০১৭ সালের ১৮ জুলাই জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয় থেকে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ বরাবর পত্র প্রেরণ করা হয়। পত্রে উল্লেখ করা হয়েছিল কালেক্টরেট চত্বরের পূর্বপাশে বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন বিভিন্ন মামলার আলামত হিসেবে রাখা অসংখ্য প্রাইভেট কার, মটরসাইকেল, মটরযান  খোলা আকাশের নিচে পড়ে রয়েছে বছরের পর বছর। দীর্ঘদিন যাবৎ এসব মটরযান খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকায় কালেক্টরেট চত্বরের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং বিষাক্ত সাপসহ পোকামাকড়ের উপদ্রব বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া, সরকারের উন্নয়নের জন্যে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করায় জেলা প্রশাসনের কাজের পরিধি অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে, কালেক্টরেট ভবনে কক্ষের সংকুলান হচ্ছে না। এ যশোর কালেক্টরেট ক্যাম্পাস পরিষ্কার হবে কবে?ভবনের মালখানা হিসেবে ব্যবহৃত কক্ষের মালামালগুলো ধ্বংস অথবা নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হলে খালি করা সম্ভব হতো। এতে ঐতিহ্যবাহী কালেক্টরেট ভবনের আদি  সৌন্দর্য্য  যেমন ফিরে আসবে, তেমনি ভবনের কক্ষ সংকটের সমাধান হবে।
জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রেরিত পত্রের প্রেক্ষিতে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ নান্দনিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ভাগাড়ের অপবাদমুক্ত করতে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটগণের উপস্থিতি ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে পড়ে থাকা মটরসাইকেল ও ছোটবড় গাড়ির দু’দফা নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। সমুদয় জঞ্জাল অপসারণের প্রত্যাশা করলেও সেই সময় জেলা প্রশাসকের রদবদলের পর এ কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। এরপর ভাগাড় অপসারণের কাজ আর এগোয়নি।
সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) যশোরের সভাপতি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক সুকুমার দাস বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতায় যশোর জেলা প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ সময়োপযোগী ও সাধুবাদযোগ্য। তবে, কালেক্টরেট চত্বরের পরিত্যক্ত গাড়ির ময়লার ভাগাড় যেন আলোর নিচে অন্ধকারের সামিল। যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব জঞ্জাল অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল বন্ধ হয়ে থাকা সে প্রক্রিয়া আবার সচল করা যশোরবাসীর প্রাণের দাবি। যশোর জেলা প্রশাসন এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ জানান, কালেক্টরেট চত্বরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে। কিছু অংশ পরিষ্কার করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব ময়লা জঞ্জাল অপসারণ করা হবে।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft