শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
জাতীয়
হলি আর্টিজানে হত্যাকাণ্ডে ৩ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ
কাগজ ডেস্ক :
Published : Tuesday, 6 August, 2019 at 9:00 PM

হলি আর্টিজানে হত্যাকাণ্ডে ৩ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ আলোচিত গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় মঙ্গলবার ৩ জনের স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামি ২০ আগস্ট ধার্য করা হয়েছে।
ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান আদালতে মঙ্গলবার স্বাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য্য ছিল। এদিন ট্রাইব্যুনালে ৩ জন পুলিশ সাক্ষী উপস্থিত হয়। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান এমামলায় এপর্যন্ত ৮৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সমাপ্ত হয়েছে। সাক্ষ্য শেষে তাদের জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। আদালত পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ২০ আগস্ট দিন ধার্য করেন।
মঙ্গলবার এআদালতে সাক্ষীদেন খিলগাঁও থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হুমায়ুন কবীর, উত্তরা পূর্ব থানার উপ-পরিদর্শক জয়নুল আবেদিন ও পুলিশ কনস্টেবল আশরাফুল আলম।
গত ২০১৮ সালের ২৬ নভেম্বর ৮ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার বিচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
গত ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট ঢাকার সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান আট আসামির বিরুদ্ধে দেয়া চার্জশিট গ্রহণ করে আলোচিত এ মামলার দায় থেকে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিমকে অব্যাহতি দিয়ে পলাতক দুই আসামি মো. শহীদুল ইসলাম খালেদ ও মামুনুর রশিদ রিপনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল ।এদিন জেল হাজতে থাকা আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়।
গত ২০১৮ সালের ২৬ জুলাই ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) মো. সাইফুজ্জামার হিরো এমামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলির এআদেশ প্রদান করেন।
আগে ২০১৮ সালের ২৩ জুলাই ৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক মো. হুমায়ুন কবীর। আসামিদের মধ্যে ৬ জন কারাগারে ও দুই জন পলাতক রয়েছে। মামলার অভিযোগপএে ২১১জন স্বাক্ষী রয়েছে।
এর আগে ২০১৮ সালের ২৩ জুলাই পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এমামলার , চার্জশিটে ২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৮ জন বিভিন্ন অভিযানে ও ৫ জন হলি আর্টিসানেই নিহত হয়েছেন। এছাড়া জীবিত ৮ জনের মধ্যে ৬ জন কারাগারে ও বাকি দুইজন পলাতক রয়েছেন। আসামিদের মধ্যে গুলশানে হলি আর্টিসানে সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন থান্ডারবোল্টে’ নিহত পাঁচজন হলেন, রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, মীর সামেহ মোবাশ্বের, নিবরাস ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল ও খায়রুল ইসলাম ওরফে পায়েল।
আসামিদের মধ্যে বিভিন্ন ‘জঙ্গি আস্তানায়’ অভিযানে নিহত আটজন হলেন, তামীম আহমেদ চৌধুরী, নুরুল ইসলাম মারজান, তানভীর কাদেরী, মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম ওরফে মুরাদ, রায়হান কবির তারেক, সারোয়ান জাহান মানিক, বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট ও মিজানুর রহমান ওরফে ছোট মিজান।
এমামলায় কারাগারে থাকা ছয় আসামি হলেন, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী, রাকিবুল হাসান রিগান, রাশেদুল ইসলাম ওরফে র‌্যাশ, সোহেল মাহফুজ, মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান এবং হাদিসুর রহমান সাগর।
এ মামলায় চার্জসিটে পলাতক দুই আসামি হলেন.শহীদুল ইসলাম খালেদ ও মামুনুর রশিদ রিপন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৯ সালের ১৯ জানুয়ারি পলাতক মামুনুর রশিদ রিপনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। হাসনাত করিমকে এ মামলার চার্জশীট থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে ।
গত ২০১৮ সালের ২৬ নভেম্বর ৮ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার বিচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
উলেখ্য, গত ২০১৬ সালের ২২ আগষ্ট এ মামলায় গ্রেফতার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিমকে গুলশানের হলি আটিসান রেস্তোরাঁয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় রিমান্ডে শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
গেল ২০১৬ সালের ১৩ আগস্ট হাসনাতকে আদালতে হাজির করে গুলশানের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মো. এমদাদুল হক আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় হাসনাতকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন কাউন্টার টেরোরিজমের পরিদর্শক মো. হুমায়ুন কবীর। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম নূর নাহার ইয়াসমীন আটদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
উলেখ্য, গত ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিসান রেস্তোরাঁয় হামলা চালিয়ে বিদেশিসহ ২০ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। এ সময় পাঁচ জঙ্গি অভিযানে নিহত হয়। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হাসনাত করিম ও কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তাহমিদ হাসিব খানকে নজরে রাখে এবং তাহমিদের বিরুদ্বে পুলিশকে সহযোগিতা না করার অভিযোগে মামলা করে। ওইমামলায় গত ২০১৭ সালের ১৬ এপ্রিল আদালত তাকে খালাশ দেয়। গত গত ২০১৬ সালের ২ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গুলশান এলাকা থেকে হাসনাত করিমকে গ্রেফতার করে ছিল পুলিশ।তাং০৬-০৮-২০১৯ইং।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft