রবিবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২০
সারাদেশ
বান্দরবানে বন্যায় কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
বান্দরবান সংবাদদাতা :
Published : Monday, 5 August, 2019 at 6:49 PM
বান্দরবানে বন্যায় কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিগেল কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কৃষকরা অনেকেই বেশি লাভের আশায় বাগান থেকে বিক্রি করেনি অনেক ফল। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় নষ্ট হয়ে গেছে জেলার বেশির ভাগ আবাদি জমি, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে এখন কষ্টে দিনযাপন করছে জেলার কৃষকরা।
কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, এবারের বন্যায় নষ্ট হয়েছে জেলার পেঁপে, বেগুন, পান, বরবটি, শসা, আমন বীজতলাসহ বেশিভাগ জমির ফসল। সরকারি হিসাবে জেলা সদরে কৃষি খাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় এক কোটি ২৬ লাখ টাকা। সম্প্রতি বন্যায় তিনদিন পানির নিচে ছিল বান্দরবানের রেইচা এলাকার বেশিরভাগ আবাদি জমি। ফলে কৃষকের পেঁপে বাগান, বেগুন বাগান, বরবটি বাগান, ঝিঙ্গা বাগানসহ বেশিরভাগ আবাদি জমি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বান্দরবান সদর উপজেলার রেইচা, গোয়ালিয়া খোলা, সুয়ালক, মাঝের পাড়াসহ রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি, লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা গুলোতে বেশিরভাগ ফসলি জমি এখন নষ্ট হয়ে গেছে। টানা বৃষ্টি আর বন্যায় কৃষি জমিতে সপ্তাহ ব্যাপী পানি জমে থাকায় কৃষকরা এখন মরণদশায় পড়েছে। এক দিকে বেশি সুদে লোন নিয়ে জমি চাষ করা আর অন্যদিকে বন্যার পানিতে সব ফসল নষ্ট হওয়ায় কৃষকরা এখন পরিবার পরিজন নিয়ে অনাহারে দিনযাপন করছে।
এ বিষয়ে বান্দরবানের রেইচা গোয়ালিয়াখোলা ২ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক মো. রুস্তম আলী জানিয়েছেন, এ বছর ৮ খানি পেঁপে বাগান করেছি, কিন্তু বন্যার পানিতে সব নষ্ট হয়ে গেছে। টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় আমার প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়ে গেল।
তিনি বলেন, শুধু পেঁপে বাগানই নয় আমার অনেক আবাদি জমি নষ্ট হয়ে গেছে, এখন সরকারিভাবে যদি আমাদের সহযোগিতা করা হয় তবে আমরা আবার কৃষি কাজ করতে পারবো।
রেইচা গোয়ালিয়াখোলা ২ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক মো. কবির আহম্মদ বলেন, টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমার ২ খানি পেঁপে বাগান মরে শেষ। ঘরবাড়ি নষ্ট হয়ে গেছে, আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে তিন দিন পানির মধ্যে বসবাস করেছি।
বান্দরবান সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক বলেন, এবারের বন্যার কারণে বান্দরবানে কৃষকদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। কৃষকরা অনেকেই নিঃস্ব হয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, সদর উপজেলায় পাঁচ হাজার ৫৮ হেক্টর আবাদি জমি রয়েছে এবং এবারের বন্যার পর আমরা ক্ষতির পরিমাণ বের করেছি যা সরকারি হিসেবে আনুমানিক প্রায় এক কোটি ২৬ লাখ টাকা। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করেছি এবং এই তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করেছি, আশা করি তারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা করবেন।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft