বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৯
জাতীয়
হারপিকের গুজব থেকে সাবধান
ভুলেও এটা কেউ করবেন না
কাগজ ডেস্ক :
Published : Tuesday, 30 July, 2019 at 4:39 PM
ভুলেও এটা কেউ করবেন নাডেঙ্গু প্রতিরোধে হারপিক এবং ব্লিচিং পাউডার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি গুজব ছড়ানো হয়েছে। এর বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন এবং সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি গুজব ছড়ানো বার্তা ঘুরতে দেখা গেছে। সেখানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে আগামী শুক্রবার সবাইকে একযোগে বেসিনে ৫০০ এমএল হারপিক এবং ৫০০ জিএম ব্লিচিং পাউডার ঢেলে দেয়ার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আহবান জানাচ্ছে একটি চক্র। তাদের দাবি এতে সুয়ারেজে থাকা সকল ডেঙ্গুর লার্ভা ধ্বংস হয়ে যাবে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি সম্পূর্ণ একটি মিথ্যা তথ্য এবং ভয়াবহ গুজব। যদি হারপিক এবং ব্লিচিং পাউডার কেউ একসাথে মেশায় তবে সেটি হবে খুবই বিপজ্জনক। হারপিকে হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) থাকে, আর ব্লিচিং পাউডারে থাকে সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইট (NaClO)। এই দুটো একসাথে মিক্স করলে বিষাক্ত ক্লোরিন গ্যাস তৈরি হবে, যা মাত্র ৩০ সেকেন্ডেই চোখ, ন্যাজাল প্যাসাজ এবং ফুসফুসকে মারত্মক ক্ষতিগ্রস্ত করবে। কেউ যদি মাত্র ৩০ সেকেন্ডও এই গ্যাস নিশ্বাসের সাথে গ্রহণ করে তবে তার ফুসফুস স্বাভাবিক হতে ৭-৮ ঘন্টা সময় লাগবে। এই বিষাক্ত গ্যাস ফুসফুসে ঢোকার সাথে ফুসফুস মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং অক্সিজেন নেয়া বন্ধ করে দিবে।
তারা এ ব্যাপারে সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, গুজবে কান দিয়ে এমন মারাত্মক ভুল করতে যাবেন না।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাহ আলী ফরহাদ বলেন, আমি দুইজন পাবলিক হেলথ বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছি এ ধরণের কাজে কোন উপকার ত হবেই না, বরং ক্ষতির পরিমাণ হবে দ্বিগুণ। এডিস মশা শুধুমাত্র পরিষ্কার ও জমা পানিতেই বংশ বিস্তার করে। তাই ড্রেনে ব্লিচিং পাউডার ও হারপিক ঢেলে এডিস মশা থেকে বাঁচা যাবে না। বরং একযোগে হারপিক ও ব্লিচ ঢালা মানে হচ্ছে আমাদের সুয়ারেজ ব্যাবস্থায় অতিমাত্রায় ক্ষতিকর পদার্থ ঢুকিয়ে দেয়ার মাধ্যমে নতুন বিপদ ডেকে আনা। এই গুজবে কান দিবেন না, যারা এই গুজব ছড়াবে তাদের চ্যালেঞ্জ করুন।
বিষয়টি সম্পর্কে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ড. উত্তম কুমার বড়ুয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ ভুয়া ও ডাহা মিথ্যা কথা। যাদের বিষয়গুলো সম্পর্কে জানা নেই তারা এটি সহজে বিশ্বাস করতে পারে। কিন্তু আপনার জানা উচিত, সোয়ারেজ লাইনে কোন এডিস মশা থাকে না। সেখানে থাকে কিউলেট মশা। আর এই মশা আমাদের কোন বড় ক্ষতি বা মহামারি ছড়াচ্ছে না।
ঢাকার সকল বাসিন্দা একসাথে নর্দমায় হারপিক বা ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করলে তার ফল কি হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি খুব সামান্য মনে হলেও এর ফল হবে খুব ভয়ানক। সামান্য হারপিক বা ব্লিচিং পাউডার হাতে লাগলেই আমাদের চামড়া খুলে আসতে থাকে। সেখানে কোটি কোটি ব্লিচিং পাউডারের প্যাকেট এবং হারপিকের কথা বলা হচ্ছে। এটি নর্দমায় ফেলা হলে তার রাসায়নিক ক্ষতি পরিবেশে কতটা মারাত্মক হতে পারে তা কল্পনাতীত। একজন বক্ষ বিশেষজ্ঞ হিসেবে আমি জানি দীর্ঘ সময় হারপিক বা ব্লিচিং পাউডারে থাকা ক্যামিকেলের গন্ধ নিলে তা মানুষের ফুসফুসের প্রচণ্ড ক্ষতি করে। সেই সাথে মানুষের ডাইজেস্ট ব্যবস্থাপনারও ক্ষতি করে এই গন্ধ। সব মিলিয়ে বড় ধরণের পরিবেশ বিপর্যয় হতে পারে যদি আসলের ঢাকার সকল মানুষ একযোগে হারপিক বা ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করে।
এ সময় ডেঙ্গু মশাকে এলিট বা ভদ্র মশা হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। ডেঙ্গুর আবাসস্থল ও বংশবৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ডেঙ্গু মশার বংশবৃদ্ধির ক্ষেত্রে চারটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম হলো এরা ভদ্র পরিবেশে থাকতে চায় যেখানে স্বচ্ছ পানি ও কোন স্রোত নেই। অতিরিক্ত বাতাস এসে ঢেউ তৈরি করতে পারে এমন স্থানেও তারা থাকে না। সরাসরি সূর্যের আলো যেখানে পরে সেখানেও তারা থাকতে পারে না। কিন্তু বংশবৃদ্ধির জন্য তাদের প্রয়োজন ৩০/৩৪ ডিগ্রি তাপমাত্রা। সুতরাং তাদের বংশ বিস্তারের ব্যবস্থা মানুষই তৈরি করে দেয়।
মশা যেন বংশ বৃদ্ধি করতে না পারে সে জন্য তিনি পরামর্শ প্রদান করে বলেন, স্বচ্ছ পানি যেন ৩ দিনের বেশি কোথাও আটকে না থাকে। আর আটকে রাখতে বাধ্য হলে তাতে যেন কেরোসিন ঢেলে দেয়া হয়। এতে মশার বংশ বিস্তার বাঁধাগ্রস্ত হবে। এটি ভদ্র মশা, যে সবচাইতে অভদ্র কাজগুলো করে।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft