দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
এহসান এসের একটি চক্রের নয়া প্রতারণা
গ্রাহকদের ১০ কোটি টাকা এসেছে বলে মাইকিং
হয়রানীর শিকার ভূক্তভোগীরা
দেওয়ান মোর্শেদ আলম :
Published : Thursday, 14 September, 2017 at 12:53 AM
গ্রাহকদের ১০ কোটি টাকা এসেছে বলে মাইকিংদু’হাজার কোটি টাকা হাতানো এহসান ইসলামী মাল্টিপারপাসের প্রতারকদের কাছে ধর্ণা দিতে দিতে যশোরাঞ্চলের কয়েক হাজার গ্রাহক যখন ক্লান্ত, তখন নতুন প্রতারণায় লিপ্ত হয়েছে একটি চক্র। ঢাকায় অবস্থান করা পরিচালনা বোর্ডের কর্মকর্তারা যশোরের গ্রাহকদের জন্য ১০ কোটি টাকা পাঠিয়েছে বলে শহরে প্রতারণামূলক মাইকিং করেছে চক্রটি।
উপশহর খাজুরা বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি ঠিকানা উল্লেখ ও পাওনা টাকা আদায় সংগ্রাম কমিটির কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে ওই মাইকিং করা হয়েছে। আর প্রতারণামূলক ওই মাইকিংয়ে শত শত গ্রাহক টাকা আনতে সেখানে গিয়ে ফিরে এসেছেন। ওই প্রতারণামূলক মাইকিংয়ে গণধোলাই খাওয়ার উপক্রম হয়েছেন মাঠ কর্মীরা।
মূলতঃ ঢাকার প্রতারক চক্র একটি টাকাও যশোরে পাঠায়নি, এহসান এস-এর প্রতারকদের মধ্যে প্রতিপক্ষ প্রতারক চক্র এই মাইকিং করেছে বলে তথ্য মিলেছে।
২০১২ সালের দিকে দেশের বিভিন্ন স্থানসহ যশোরে এহসান এস মাল্টিপারপাস কোঅপারেটিভ সোসাইটি এবং এহসান ইসলামী রিয়েল এস্টেট লিমিটেড খুলে প্রতারণায় লিপ্ত হয় ইসলামী লেবাসধারী অসাধু চক্র। ২০১৪ সালের আগস্ট থেকে কখনও বন্ধ, কখনও খোলা অবস্থায় রেখে একে একে গা ঢাকা দেয় ওই প্রতিষ্ঠানের এমডি পর্যায়ের পাঁচজন। গ্রাহকদের টাকা আজ দেব কাল দেব বলে তালবাহানা শুরু করলে নানা বিপাকে পড়েন লগ্নিকারীরা। এক পর্যায়ে সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে গা ঢাকা দেয় অর্ধশত কর্মচারীসহ ওই পাঁচ এমডি। এ ঘটনায় রাস্তায় নেমে পড়েন বিশাল অংকের টাকা লগ্নিকারীরা। যশোরাঞ্চলের আট হাজার লগ্নিকারীর মাথায় হাত ওঠে। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগে তথ্য মেলে, এহসান এস বাংলাদেশ, এহসান রিয়েল এস্টেট এবং এহসান মাল্টিপারপাস শরিয়া মতে ব্যবসা করে মাসে এক লাখে ১৬শ’ টাকা মুনাফার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা জমা নিতে থাকে। এ কাজে অধিকাংশ এলাকার মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের মাধ্যমে প্রচারণা চালায়। সংস্থাটি প্রথম ক’মাস লভ্যাংশের টাকা দিলেও পরবর্তীতে না দিয়ে গ্রাহকের ও লগ্নিকারীদের হুমকি ধামকি দেয়া হয়। সেই থেকে টাকা আদায় আন্দোলন কমিটি করে ঢাকায় আসা যাওয়া করেও টাকা ফেরত আনা সম্ভব হয়নি। আর গ্রাহকদের টাকা দিতে না পারায় প্রতারকদের নিয়োগ দেয়া যশোরের ১০৮ মাঠকর্মী পড়ে বিপাকে। তারা মাঠ পর্যায়ে এহসানের নামে টাকা তুলে জমা দিয়েছিল। কোম্পানির এমডি নামধারী জুনায়েদ আলী, রবিউল ইসলাম, ম্যানেজার নামধারী আতাউল্লাহসহ চক্রের সাঙ্গপাঙ্গ ওই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা ডজন খানেক প্রতারকের দখলে সব অর্থ ও সম্পত্তি। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহলে অভিযোগ দেয়া হয়। কিন্তু আইনের ফাঁক ফোঁকর দিয়ে তাদের অনেকে জামিন পেয়ে যায়।
এদিকে যশোরে ১০৮ জন মাঠকর্মীর সমন্বয়ে টাকা আদায় আন্দোলন কমিটি করা হয়। সে কমিটিতে ডজনখানেক এফও রাখা হয়। এদের মধ্যে আতাউল্লাহ, বাবর আলী, সেলিম আজম, আব্দুল হক ও কাজী মিজানুরকে ঢাকার সাথে সমন্বয়ক করা হয়। ওই পাঁচজন ঢাকায় দৌঁড়ঝাঁপ করলে এমডি জুনায়েদ, অপর এমডি রবিউল যশোরের গ্রাহকদের জন্য আশুলিয়ায় ১শ’৫৭ শতক জমি দিতে চান। এছাড়া ঢাকার প্রতারক চক্র যশোরের জন্য ২১ কোটি টাকা ফেরত দেয়ার আশ্বাস দেন। শেষমেশ প্রতারণা করা হয়। আর এহসানের তৃনমূলের আট হাজার গ্রাহক ক্লান্ত হয়ে ধুকে ধুকে মরবার পথে।
তারা যখন চরম হতাশা আর উৎকণ্ঠায় জীবনযাপন করছেন, ঠিক তখন যশোর শহরের এহসান এসএর প্রতারক চক্রের এক হোতা ভুয়া তথ্য দিয়ে মাইকিং করিয়েছে। “যশোরে ১০ কোটি টাকা এসেছে গ্রাহকদের জন্য” এমন ঘোষণা দিয়ে টাকা আনতে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে গত ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর এ মাইকিং করা হয়। আর ওই প্রতারণামূলক মাইকিংয়ে হন্যে হয়ে টাকার জন্য উপশহর এলাকায় অপর একটি চক্রের ডেরায় হুমড়ি খেয়ে পড়েন শতশত গ্রাহক। কিন্তু সেখানে গিয়ে জানতে পারেন মাইকিং তারা করেনি। এহসান এস সংশ্লিষ্ট অপর এক প্রতারক উপশহর কেন্দ্রিক চক্রটিকে বিপদে ফেলতে এই মাইকিং করেছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন এফও রয়েছেন। তাদের অনেকে আবার টাকা আদায় সংগ্রাম কমিটির সদস্য।
এদিকে, মিথ্যা মাইকিংয়ের ঘটনায় গণধোলাই খাওয়ার উপক্রম হয়েছেন অনেকে। তাদের কেউ কেউ পালিয়ে গা বাঁচিয়েছেন। তাদের কয়েকজন গ্রামের কাগজকে জানিয়েছেন, তাদের নাম ব্যবহার করে ও তাদের ঠিকানা দিয়ে মাইকিং করেছে অসাধু চক্র। মূলতঃ কোন টাকা ঢাকা থেকে আসেনি।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft