সারাদেশ
পলাশবাড়ীর কৃষক সাজু মিয়ার স্বপ্ন ভঙ্গে হতাশায় ভুগছেন
ছাদেকুল ইসলাম রুবেল, গাইবান্ধা :
Published : Wednesday, 13 September, 2017 at 5:08 PM
গাইবান্ধার পলাশবাডী উপজেলার আন্দুয়া গ্রামের সফল কৃষক হিসাবে পুরস্কার প্রাপ্ত পেঁপেঁ চাষি সাজু মিয়ার এ বছর বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ৷ ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক কোন প্রকার কৃষি সহায়তা না পাওয়া হতাশায় পড়েছেন।
২য় দফা বন্যায় মরে গেছে তার বাগানের শত শত পেঁপেঁ গাছ৷ তিন লক্ষ্য টাকা ব্যায়ে ১৪ শত পেপে চারা রোপন করে ছিলেন তিনি ৷ এর মধ্যে পেঁপেঁ গাছ গুলো বড় হওয়া বাশঁ ব্যবহার করেছেন প্রায় দেড় লক্ষ টাকা এ বাগান নিয়ে বুক ভরা স্বপ্ব ছিল তার ৷
বাগানের পরিচর্যায় করে কিটনাশকমুক্ত ফলনে তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন। সারাদেশ জুড়ে শ্রেষ্ট চাষি হিসাবে সুনাম অর্জন করবেন। কিন্ত ভেঙ্গে গেল তার সব স্বপ্ব ৷
টানা বর্ষণে বাগানের সব পেঁপেঁ গাছ মরে যাওয়ায় যেমন অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে তেমন খেয়ে না খেয়ে তিলে তিলে গড়া ফসলের বাগান নষ্ট হওয়ায় স্বপ্ন ভঙ্গ হয়ে চরম হতাশায় দিনাতিপাত করছেন সাজু মিয়া ।
উল্লেখ্য, এক জমি একাধিক ফসল চাষাবাদে গতবছর সফল চাষী হিসাবে সাজু মিয়া উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সুনাম অর্জন করেছেন। তার এ বাগানে বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা,উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমিসহ একাধিক সরকারি কর্মকর্তাগণ গত বছর গুলোতে এ জমির ফসল পরিদর্শন করেছেন একাধিকবার।
কৃষক সাজু মিয়া এ বছরে কয়েক লক্ষ্য টাকা ব্যয় করে আরো জমি লীজ নিয়ে পেঁপেঁ, আদা,হলুদ চাষ করেছিলেন। এ জমির ফসল গুলো মধ্যে কাংখিত ফসল পেঁপেঁ গাছ গুলো। সেগুলো নষ্ট হওয়ায় চরম হতাশায় পড়েছে এ কৃষক পরিবারটি।
এদিকে এ বছরে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পর হতে এ পর্যন্ত তার ক্ষেতে ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণে বা কোন প্রকার সহায়তা প্রদানে সরকারি কোন কর্মকর্তাকে দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার আজিজুল বারী জানান, কৃষক সাজু মিয়ার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কয়েক লক্ষ্য টাকা তাকে সহায়তা করার মতো বরাদ্দ উপজেলা কৃষি অফিসারের নেই। বন্যায় ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্য হতে স্বল্প কিছু কৃষককে যতসামান্য সহায়তা প্রদানে উপজেলা কৃষি কমিটি ইউনিয়ন কৃষি কমিটির মাঝে ভাগ করে দেন। অত্র ইউনিয়ন কৃষি কমিটির মনোনীত তালিকা অনুযায়ী স্বল্প কিছু কৃষককে সঠিকভাবে যতসামান্য কৃষি সহায়তা প্রদান করা সম্ভব হয়।
তিনি জানান,ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সাজু মিয়ার আবাদী জমি গুলোতে একাধিকবার আমরা পরিদর্শন করেছি। এবছর সে আরো অনেক জমি লীজ নিয়ে ফসল লাগিয়েছিলেন। তার ক্ষয়ক্ষতি ধরণ দেখে ও শুনে আমরা তাকে শান্তনা দেওয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি।বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সহায়তা যে পরিমান অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গিয়েছে এ জমির একদিনের শ্রমিকের শ্রমের মজুরীর টাকার সমানো নয়। অন্য দিকে বাগানে যেতে রাস্তার অবস্থা ভালো না থাকা বর্ষা কালিন সময়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।
একই গ্রামের অপর কৃষকরা জানান, এতো ক্ষয়ক্ষতি হওয়া পরে যদি কোন সহায়তা না মিলে তবে কোন সাহসে আমরা চাষাবাদ করবো।
কৃষি অফিস সূত্র জানা যায়, এবছর বন্যায় ও টানা বর্ষণে পলাশবাড়ী উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের সংখ্যা প্রায় (২৩০০০) তেইশ হাজার, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৮ কোটি টাকা।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft