সারাদেশ
পারাপারের নামে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা
রাণীনগর-আত্রাই সড়কে চলাচলের প্রধান ভরসা এখন বাঁশের ফারাশ
কাজী আনিছুর রহমান, রাণীনগর (নওগাঁ) :
Published : Monday, 11 September, 2017 at 5:34 PM
রাণীনগর-আত্রাই সড়কে চলাচলের প্রধান ভরসা এখন বাঁশের ফারাশনওগাঁর রাণীনগরে সম্প্রতি বন্যায় নওগাঁ-রাণীনগর-আত্রাই আঞ্চলিক সড়কটি ভেঙ্গে যাওয়ায় জেলা সদরের সাথে সরাসরি যোগাযোগসহ দুই উপজেলার এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার বসবাসরত প্রায় দুই লক্ষাধিক জনসাধারণের চলাচলের প্রধান ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে বাঁশের ফারাশ। উজান থেকে ধেয়ে আসা মধ্য আগষ্টের বন্যার পানির প্রবল চাপে রাণীনগর-আত্রাই সড়কের গোনা ইউনিয়নের ঘোষগ্রাম নামক স্থান থেকে প্রেমতলি পর্যন্ত চার জায়গায় ভেঙ্গে যাওয়ায় রাণীনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাতœক ভাবে ভেঙ্গে পড়ে।
ঈদে ঘর মুখি মানুষগুলো যাওয়া-আসার জন্য চরম ভোগান্তির কবলে পড়তে হয়। ভাঙ্গন কবলিত স্থানে ব্যক্তিগত উদ্দ্যোগে চার জায়গায় বাঁশের ফারাশ স্থাপন করা হলেও সর্বসাধারণের কাছ থেকে ফারাশ পাড় হওয়ার নামে স্থানীয় কিছু উঠতি বয়সের ছেলেরা প্রতিদিন ওই সড়কে চলাচলরত জনসাধারণের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। টাকা দিতে একটু গরমসি করলে ওই চক্রের হাতে অনেক লোকজন লাঞ্চিত হয়েছে এমনও অভিযোগ উঠেছে। তবে স্থানীয় চেয়ারম্যান আবুল হাসনাত খানের হস্তক্ষেপে স্থানীয়রা কিছুটা রেহাই পেলেও দূর-দূরান্ত থেকে আসা-যাওয়া করে এমন লোকজন ওই চক্রের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। যে যার মত প্রভাব খাটিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা।
জানা গেছে, সম্প্রতি স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় উত্তর জনপদের খাদ্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত নওগাঁ জেলার রানীনগর উপজেলা অন্যান্য উপজেলার চেয়ে বেশি ক্ষতি হয়। বন্যার কারণে নওগাঁর রাণীনগর-আত্রাই আঞ্চলিক সড়কটির বিশেষ করে ত্রিমোহনী হতে আত্রাই উপজেলার সদর পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার সড়ক নওগাঁর ছোট যুমনা নদীর পানি সেই সময় বিপদসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারণে সড়কের অধিকাংশ জায়গায় মারাতœক ঝুকিপূর্ণ হয়ে উঠে। রাণীনগর-আত্রাই সড়কে চলাচলের প্রধান ভরসা এখন বাঁশের ফারাশ
স্থানীয় সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলমের নির্দেশে উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় চেয়ারম্যান ও এলাকাবাসি একযোগে রাত দিন পরিশ্রম করে বেশ কয়েক জায়গায় ভাঙ্গন রোধ করা গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি রাণীনগর উপজেলার ঘোষগ্রাম থেকে প্রেমতলি পর্যন্ত সড়কের চার জায়গা। এই সব জায়গায় ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে সরাসরি আত্রাই থেকে রাণীনগর হয়ে নওগাঁ জেলা সদরের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিছিন্ন হয়ে পড়ে। ভাঙ্গনের কারণে রাণীনগরে চলতি মৌসুমে রোপা-আমন ও আউশ জাতের ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়। কৃষকদের ক্ষতি পুশিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই কৃষি বিভাগ বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে আগাম জাতের সরিষা ও ভুট্টা বপনের পরামর্শ দিচ্ছে। ভাঙ্গনের প্রায় ২৫ দিন অতিবাহিত হলেও বন্যার পানি কমতে থাকায় ক্ষত স্থানগুলো মেরামতের কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ এখনো গ্রহণ করা হয়নি। তবে বালু ভরাটের জন্য ঢিমেতালে প্রস্ততি চলছে এমনটায় জানা গেলেও দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি চোখে পড়ছে না।
বাঁশের ফারাশের উপর দিয়ে সরাসরি মাঝারি আকারের যানবাহন চলাচল করতে না পারাই পায়ে হেঁটেই চলছে এই সড়কের চলাচলকারি লোকজন। ফলে তাদের দূর্ভোগ দিনদিন বেড়েই চলছে। এছাড়াও চলাচলরত সাধারণ মানুষ ভাঙ্গন কবলিত স্থানে ব্যক্তিগত উদ্দ্যোগে চার জায়গায় বাঁশের ফারাশ স্থাপন করলেও নতুন করে ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে সর্বসাধারণের। ওই এলাকার উঠতি বয়সের ছেলেরা প্রতিদিন ওই সড়কে চলাচলরত জনসাধারণের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। টাকা দিতে একটু গরমসি করলে ওই চক্রের হাতে অনেক লোকজন লাঞ্চিত হয়েছে এমনও অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসির দাবি যত তারাতারি সম্ভব ভাঙ্গন কবলিত স্থান মেরামত করে জনসাধারণের সুবিধার্থে উম্মুক্ত করে দেওয়া হোক।
নওগাঁ সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: হামিদুল হক জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলমের প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় এলাকাবাসির দূর্ভোগ লাঘবের লক্ষ্যে খুব দ্রুত রাণীনগর-আত্রাই সড়কের ভাঙ্গন কবলিত স্থানে ইতিমধ্যেই বালু ভরাটের কাজ শুরু হয়েছে। ভরাটের কাজ শেষ হলে ইট দিয়ে এইচবিবি করে আপাতত এই আঞ্চলিক সড়কটি সরাসরি চলাচলের জন্য জনসাধারণের জন্য উম্মুক্ত করে দেওয়া হবে। আশা করছি আগামি সপ্তাহ খানিকের মধ্যেই এই সড়কের মেরামতের কাজ সম্পূর্ণ করা হবে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে রাতদিন ২৪ ঘন্টা কাজ চলছে।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft