শিক্ষা বার্তা
প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের বিনামূল্যের বই ছাপা নিয়ে নানামুখী জটিলতা
কাগজ ডেস্ক :
Published : Sunday, 10 September, 2017 at 8:28 PM
প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের বিনামূল্যের বই ছাপা নিয়ে নানামুখী জটিলতাপ্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের ২০১৮ সালের বিনামূল্যের বই ছাপা নিয়ে নানামুখী জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে যথাসময়ে সব বই পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মূলত পাঠ্যবই তদারকির দায়িত্বে থাকা জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অদক্ষতা, এক শ্রেণির টেওস মালিকদের সিন্ডিকেট ও অসাধুতার কারণে পাঠ্যবই নিয়ে এ অবস্থা তৈরি হয়েছে। অথচ আগামী শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য ৩৫ কোটি ১৩ লাখ ২৬ হাজার ২০৭টি বই বিতরণের কথা রয়েছে। কিন্তু বই ছাপা এবং মাঠপর্যায়ে বিতরণের ক্ষেত্রে গতবছরের তুলনায় এবার অনেক পিছিয়ে রয়েছে। এনসিটিবি সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, চলতি বছর দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে নবম ও দশম শ্রেণির ১২টি পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জন করে সুখপাঠ্য, আকর্ষণীয় ও সহজবোধ্য করা হয়। ওই বইয়ের টেন্ডার দেয়া হলেও কোন প্রতিষ্ঠান বই ছাপার কাজ পাবে সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি এনসিটিবি।  ফলে যথাসময়ে ওসব বই নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে এনসিটিবি থেকে প্রেস মালিকদের জানানো হয়েছে দ্রুতই কার্যাদেশ দেয়া হবে। আর প্রেস মালিকরা জানিয়েছে, প্রাথমিকের বই কার্যাদেশ আগে পেলেও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের গাফলতির কারণে বই ছাপার কাজ শুরু করা যায়নি। কারণ, বই ছাপার পূর্বে কাগজের মান দেখার নিয়ম রয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) নিয়োগ করা একটি মান যাচাই প্রতিষ্ঠানের। কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর মান যাচাইয়ের ওই প্রতিষ্ঠান নিয়োগে বিলম্ব করে। এভাবে ডিপিই এক মাস সময় নষ্ট করেছে। যে কারণে যথাসময়ে বই ছাপা যাচ্ছে না।
সূত্র জানায়, মাধ্যমিক স্তরের বই ছাপা নিয়ে কাগজ নিয়ে কিছুটা সঙ্কট রয়েছে। প্রেস মালিকরা চাহিদা অনুযায়ী কাগজ পাচ্ছে না। মূলত কাগজ মিলগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা কম থাকায় এই সমস্যা হয়েচ্ছে। তাছাড়া কিছু প্রতিষ্ঠান প্রতিবছরই নিম্নমানের বই ছাপে। কালো তালিকাভুক্ত হয়। আবার তারা পরবর্তীতে বিনামূল্যে পাঠ্যবই ছাপার কাজও পায়। এনসিটিবির সাথে অনৈতিক লেনদের কারণে ওসব সুবিধা পেয়ে থাকে তারা। ওসব প্রেস মালিক এনসিটিবিকে বইয়ের দরপত্র প্রকাশে বিলম্ব, কার্যাদেশে বিলম্ব করার ক্ষেত্রে পরামর্শ দিয়ে থাকে। তার কারণে হিসেবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বই ছাপার জন্য প্রেস মালিকদের কম সময় দেয়া হলে কম সময় থাকার অজুুহাতে নিম্নমানের বই ছাপলেও তা যাচাইয়ের সময় পায় না এনসিটিবি। ওই কারণে নিম্নমানের বই ছাপলেও পার পেয়ে যান তারা।
সূত্র আরো জানায়, গত বছর সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে প্রাথমিক স্তরের প্রায় আড়াই কোটি বই মাঠপর্যায়ের পৌঁছে। কিন্তু এবার এখন পর্যন্ত কাজই শুরু করেনি প্রেস মালিকরা। নবম ও ১০ শ্রেণির ১২টি পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জন করে সুখপাঠ্য, আকর্ষণীয় ও সহজবোধ্য করা বইগুলোর কার্যাদেশ প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। তাছাড়া প্রেস থেকে চাহিদা অনুযায়ী কাগজ না পাওয়ায় মাধ্যমিকের বই ছাপার কাজও বিলম্ব হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তিতে বই বাঁধাই নিয়েও সংকট তৈরি হয়েছে। যথাসময়ে কভারের কাগজ না পাওয়ায় ছাপার কাজ শেষ হলেও বই বিতরণ করা যায়নি।
এ প্রসঙ্গে এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা জানান, মাধ্যমিকের বই ২০ শতাংশ মাঠপর্যায়ে পৌঁছে গেছে। প্রাথমিকের বইও যথাসময়ে পৌঁছে যাবে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে শতভাগ বই পৌঁছে যাবে।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft