সম্পাদকীয়
এক হাজার মানুষ নিহত হওয়ার পরও নীরব বিশ্ব বিবেক
Published : Sunday, 10 September, 2017 at 12:49 AM
মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সে দেশের সেনাবাহিনীর দমন পীড়ন শুরুর পর গত দু’সপ্তাহে বাংলাদেশে প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনের দেয়া তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা এখন ২ লাখ ৭০ হাজারের বেশি। জাতিসংঘের এক কর্মকর্তার বরাতে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, সেনা অভিযান শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত মিয়ানমারে ১ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে আন্তর্জাতিক মহল এই গণহত্যা নিয়ে বিস্ময়কর নীরব রয়েছে। বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলো মিয়ানমারের এই গণহত্যা নিয়ে টুঁ শব্দটি করছে না। এমনকি জাতিসংঘের উদ্যোগে তেমন কোন তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। চলমান অভিযানে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সংখ্যা রাতারাতি দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে জানিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। এই প্রতিবেদন অনুযায়ী কেবল কক্সবাজারে দু’টি শরণার্থী শিবিরে এখন রোহিঙ্গাদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭০ হাজারের বেশি। মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সেনাবাহিনীর বহুদিন ধরে চলমান সংঘর্ষ-সহিংসতা সঙ্কট সমাধানে ২০১৬ সালের আগস্টে গঠিত হয় অ্যাডভাইজরি কমিশন অন রাখাইন স্টেট। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে ওই কমিশন এক বছরের তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের প্রধান অং সান সু চির কাছে জমা দেয় চলতি বছরের ২৪ অগাস্ট। ৬৩ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদন জমা দেয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই ২৪ আগস্ট দিবাগত রাতে ত্রিশটি পুলিশ ও সেনাচৌকিতে রহস্যজনক হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় নিহত হয় নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ সদস্য। তারপরই হামলার জন্য রোহিঙ্গা ‘জঙ্গি’দের দায়ী করে জবাব হিসেবে সেনাবাহিনী পুরো অঞ্চলে হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের সীমান্ত থাকায় প্রতিদিন এই সীমান্ত দিয়ে নির্যাতিত রোহিঙ্গারা ঢুকে পড়ছে। বাংলাদেশ এমনিতেই জনসংখ্যা সমস্যায় জর্জরিত একটি দেশ। আগে থেকেই এখানে অবস্থান করা ৫ লাখ রোহিঙ্গার সঙ্গে নতুন ৩ লাখ শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়ার মত দুঃসাধ্য কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তুরস্ক-মালয়েশিয়া বাংলাদেশের পাশে সাহায্য নিয়ে দাঁড়ালেও এই শরণার্থীদের ভবিষ্যত কী হবে সেটা নিয়ে গোটা বিশ্ব নির্বাক। মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিকভাবে চাপ না দিলে এই রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকবে যার ভার বহন এক সময় বাংলাদেশের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়বে।  মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন বন্ধের লক্ষ্যে এখনি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ প্রয়োজন। নতুবা এটি শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, গোটা বিশ্বের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে। আমরা আন্তর্জাতিক উদ্যোগের পাশাপাশি মিয়ানমার সরকারের শুভ বুদ্ধি উদয় হোক এই আশা ব্যাক্ত করি।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft