জাতীয়
সমালোচনা না করে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সহযোগিতা করুন : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
কাগজ ডেস্ক :
Published : Saturday, 9 September, 2017 at 7:16 PM
সমালোচনা না করে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সহযোগিতা করুন : স্বাস্থ্যমন্ত্রীসমালোচনা না করে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সরকারকে সহযোগিতা করতে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। শনিবার ঢাকার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৪ দলের এক বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে এই আহ্বান জানান জোটের সমন্বয়ক নাসিম। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সহিংসতা শুরুর পর গত দুই সপ্তাহে তিন লাখের মতো রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে বলে জাতিসংঘের হিসাব। দশকের পর দশক ধরে ৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গার ভার বহন করে আসা বাংলাদেশের পক্ষে নতুন করে শরণার্থী নেওয়া দুষ্কর বলে আন্তর্জাতিক স¤প্রদায়ও স্বীকার করছে। রোহিঙ্গাদের প্রতি সদয় হতে আহ্বান জানানোর পাশাপাশি বিএনপি নেতারা বলছেন, সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতায় রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে মিয়ানমার সরকারকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। নাসিম বলেন, রোহিঙ্গাদের সমস্যা নিয়ে শেখ হাসিনাকে দল-মতনির্বিশেষে সহযোগিতা করুন। বিএনপি নেতাদের বলছি, রোহিঙ্গাকে রাজনৈতিক ইস্যু বানাবেন না, ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করবেন না, অহেতুক সমালোচনা করবেন না। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানেবিশ্বের অন্য দেশগুলোকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মন্ত্রী নাসিম। তিনি বলেন, আমরা বিস্মিত হয়েগেছি, শান্তিতে নোবেলজয়ী সুচির দেশে কেন এত হত্যাকান্ড? মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের জন্য এবং মিয়ানমারের উপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য পৃথিবীর বড় দেশগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধনের বিষয়টি ১৪ দল কীভাবে দেখছে- জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিম বলেন, রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করে মিয়ানমারে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্যই সরকার বাযোমেট্রিক পদ্ধতিতে তাদের নিবন্ধন করে নিচ্ছে। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা যেন সারা দেশে ছড়িয়ে না পড়ে, সেদিকে নজর রাখার জন্য সরকারের সজাগ থাকার উপর জোর দেন ১৪ দলের নেতারা। পাশাপাশি মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা যেন সারা দেশে ছড়িয়ে না পড়ে এর জন্য সরকারের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। রোহিঙ্গা বিষয়ে সরকার সুবিধাবাদী অবস্থান নিয়েছে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের জবাবে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, সমগ্র বিশ্ব দেখছে কীভাবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার এই সমস্যা মোকাবিলায় কাজ করছে। সুতরাং বিএনপি নেতাদের বক্তব্য অর্থহীন এবং অবিবেচকতার পরিচায়ক। যেকোনো বিষয়কে ইস্যু করা উচিত না। এটি একটি মানবিক ইস্যু। এখানে কোনোরকম ইস্যু তৈরি না করে, ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার চেষ্টা না করে সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসুন। অন্য সময়ে যাই করে থাকুন না কেন এই ইস্যুতে সরকারকে সহায়তা করুন। সমালোচনা করার সময় এখন না এখন সরকারকে সহায়তা করার সময় বলেন নাসিম। বক্তারা বলেন, এই ইস্যুতে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত, চীনসহ পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্রের সহায়তা কামনা করা হয়েছে। আমাদের বিশ্বাস, সবাই এগিয়ে আসবে। জাতিসংঘ শুধু চিঠি দিয়ে নয়, সমস্যা সমাধানে কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান মজিবুল হক মাইজভান্ডারী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) একাংশের সাধারণ সম্পাদক শরীফ নূরুল আম্বিয়া, জাসদ অন্য অংশের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, তথ্য গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে বিমানমন্ত্রী ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার সার্থে আমাদের দেশের সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে রোহিঙ্গা সমস্যা মোকাবেলা করতে হবে। জাতিগত দ্বন্দ্বের জেরে ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে দেশটির উত্তর-পূর্ব রাখাইন রাজ্যে বসবাসরত মুসলিম রোহিঙ্গা স¤প্রদায়ের ওপর সহিংসতা চালাচ্ছে দেশটির সেনাবাহিনী। জাতিগতভাবে নির্মূল করতে রোহিঙ্গা স¤প্রদায়ের গ্রামে আগুন দিয়ে বসতবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়াসহ গণহত্যা ও গণধর্ষণ চালান সেনাবাহিনীর সদস্যরা। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) হিসাব অনুযায়ী, সহিংসতার শিকার হয়ে ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৭ সালের জুলাই পর্যন্ত সময়ে প্রায় ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে। গত ২৪ আগস্ট রাতে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা শুরুর পর শত শত রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ পালিয়ে বাংলাদেশের দিকে আসতে থাকে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর বলছে, গত দুই সপ্তাহে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে দুই লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। গত শুক্রবার জাতিসংঘের প্রতিনিধি ইয়াংহি লি বলেছেন, মিয়ানমারের সম্ভবত এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এর আগে ২০১২ সালের জুনেও রাখাইন রাজ্য সা¤প্রদায়িক দাঙ্গায় আক্রান্ত হয়েছিল। তখন প্রায় ২০০ রোহিঙ্গা নিহত হন। ওই সময় দাঙ্গার কবলে পড়ে প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিল। রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বিশ্বব্যাপী মিয়ানমার সমালোচনার মুখে পড়লেও এখন পর্যন্ত এ সমস্যা সমাধানে দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft