সম্পাদকীয়
রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন : এ অমানবিকতার শেষ কোথায়?
Published : Friday, 8 September, 2017 at 12:09 AM
বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের স্রোত বয়েই চলেছে। ঘর-বাড়ি হারিয়ে প্রাণ বাঁচাতে ছুটছে তারা। বস্তুত রাখাইন রাজ্যে রক্তক্ষয়ী সংর্ঘষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে ঢুকছে। এটা খুবই উদ্বেগজনক ব্যাপার। গত ২৪ আগস্ট মিয়ানমারের আরকান রাজ্যে পুলিশ পোস্টে হামলার ঘটনায় রোহিঙ্গাদের ওপর দোষ চাপানো হয়। এরই জের ধরে তাদের ওপর চলছে নির্মম নির্যাতন। নির্যাতন সইতে না পেরে সীমান্ত পার হয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসছে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার সর্বশেষ তথ্য বলছে, গত ১২ দিনে বাংলাদেশে প্রায় এক লাখ ৪৬ হাজার রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে। গত বছরের অক্টোবরে রাখাইনে একই ধরনের সহিংসতার ঘটনা ঘটে। সেসময়ও রোহিঙ্গাদের ঢল নামে বাংলাদেশ সীমান্তে। দুই দফার এ সহিংসতায় বাংলাদেশে প্রায় দুই লাখ ৩৩ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে এসেছে।
বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা বলছেন, বুধবার শতাধিক রোহিঙ্গাবাহী অন্তত তিনটি নৌকা নাফ নদে ডুবে গেছে। কোস্টগার্ড কমান্ডার এম এস কবির রয়টার্সকে বলেন, নৌকাডুবির ঘটনায় তিন শিশুসহ ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মিয়ানমারের আরাকানে কথিত মতে জঙ্গি রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর হামলায় অন্তত ৩২ জনের প্রাণহানির ঘটনার পর সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালায়। বস্তুত অনেকদিন ধরেই রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সরকার নির্যাতন চালাচ্ছে। তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে।মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবেও তাদের অস্বীকার করা হচ্ছে।
বিশ্ব বিবেককেও জেগে উঠতে হবে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধে।
সমস্যার সমাধান আসলে মিয়ানমারের হাতেই। আধুনিক সভ্যতায় কোনো জাতিগোষ্ঠীর অধিকার অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারেরই নাগরিক। তাদের দায়-দায়িত্ব মিয়ানমারকেই নিতে হবে। সমস্যা অস্বীকার করে সমাধান আশা করা বাতুলতা। আমরা আশা করবো, ক্ষমতার পাদপ্রদীপের নিচে থাকা অং সান সুচি এ ব্যাপারে মানবিক হয়ে তার শান্তিতে নোবেল লাভের সুখ্যাতির প্রতি সুবিচার করবেন। বিশ্ব বিবেককেও জেগে উঠতে হবে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধে।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft