স্বাস্থ্যকথা
সতর্কতা মুখের আলসারের চিকিৎসায়
কাগজ ডেস্ক :
Published : Thursday, 31 August, 2017 at 12:45 AM
সতর্কতা মুখের আলসারের চিকিৎসায় মুখের অভ্যন্তরে আলসার বা ঘায়ের চিকিৎসায় মাঝেমধ্যে জিঙ্ক প্রয়োগ করা হয়। তবে মুখে আলসারের একজন রোগীর রেনাল ফেইলিউর বা কিডনির অচলাবস্থা থাকতে পারে। সহজ কথায় কিডনির অচলাবস্থায় বা রেনাল ফেইলিউর রোগীর ক্ষেত্রে মুখের আলসারের চিকিৎসায় জিঙ্ক প্রয়োগ করলে জিঙ্কের জমাটবদ্ধতা হতে পারে। তাই এ ক্ষেত্রে সাবধানতার সঙ্গে জিঙ্ক সেবন করতে হবে। আয়রনের অভাবজনিত সমস্যায় মুখের আলসার হতে পারে। তাই মুখের আলসারের চিকিৎসায় আয়রন সেবন প্রয়োজন হতে পারে। আয়রন টেট্রাসাইক্লিন জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিকের শোষণ কমিয়ে দেয়। এ ছাড়া লিভোডোপা এবং মিথাইলডোপা জাতীয় ওষুধের শোষণও কমিয়ে দেয়। রোগীদের মধ্যে অনেকেরই মুখের ও জিহ্বার আলসারের চিকিৎসায় নিজেরাই অহেতুক ভিটামিন সি সেবন করেন, যদিও তা খুব কম ক্ষেত্রে কার্যকর হয়। মাত্রাতিরিক্ত ভিটামিন সি সেবন করলে মুখে আলসার না থাকলেও আলসার দেখা দিতে পারে। অনেকেই বুঝতে চান না, দৈনিক আমাদের শরীরে ভিটামিন সির চাহিদা মাত্র ৪০ মিলিগ্রাম। অতিরিক্ত ভিটামিন সি বা এসকরবিক অ্যাসিড আমাদের মুখগহ্বরের লাইনিংয়ের জন্য কোনো কাজে আসে না। অনেকে আবার ঠা-াজনিত সমস্যার কারণে বা জ¦র থাকলে অতিরিক্ত ভিটামিন সি সেবন বা গ্রহণ করেন, যা মোটেই ঠিক নয়। মাত্রাতিরিক্ত ভিটামিন সি সেবন করলে কিডনিতে পাথর পর্যন্ত সৃষ্টি হতে পারে। তাই সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।
মুখের আলসারের চিকিৎসা সফল হবে না যদি আমরা ক্রমাগত ভেজাল খাবার গ্রহণ করি। রোগীদের এবং সবার ফরমালিনমুক্ত খাবার গ্রহণ করতে হবে। ফল কেনার সময় যদি মনে হয় কার্বাইড দ্বারা ফল পাকানো হয়েছে, তবে এ-জাতীয় ফল খাওয়া যাবে না। বর্তমানে আনারস খাওয়াও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। আনারসে ফরমালিন মেশানো হয় না এ কথা সত্য। কিন্তু ফরমালিনের পরিবর্তে একধরনের রাসায়নিক পদার্থ আনারসে স্প্রে করা হয় যেন কাঁচা আনারস তাড়াতাড়ি পেকে যায় এবং আনারসের রং সুন্দর দেখায়। পাঠকদের জন্য শুধু একটু তথ্য দেয়া যায়, আনারস পাকে আনারসের গোড়ার অংশ থেকে ওপরের দিকে। যদি এর ব্যতিক্রম দেখেন তাহলে বুঝতে হবে ওই আনারসে রাসায়নিক দ্রব্য মেশানো হলেও হতে পারে। এ ছাড়া বাজারে দেখবেন আনারসের কোনো অংশ পাকা আবার কোনো অংশ কাঁচা। এতে বোঝা যায় আনারসের যে অংশে স্প্রে করা হয়েছে তা পেকে গেছে আর যে অংশে স্প্রে পড়েনি সেই অংশ সবুজ রয়ে গেছে। অতএব আনারস কেনার সময় দেখেশুনে কিনতে হবে। গুড়ে যেহেতু হাইড্রোজ মেশানো হয় তাই গুড় না খাওয়াই ভালো। খেতে চাইলে নিশ্চিত হয়ে নিন গুড় ভেজালমুক্ত কি না। রঙিন সেমাই না খাওয়াই ভালো। কারণ রঙিন সেমাইতে কাপড়ের রং মেশানো হয়। ঢাকা শহরের অধিকাংশ ঘিই ভেজাল। অতএব ঘি খাওয়ার সময় সাবধান হতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় না খেয়ে থাকতে পারলে। ঢাকা শহরে সর্বোপরি সারা দেশে গরমে প্রশান্তির জন্য বিভিন্ন নামে মাঠা পাওয়া যায়। কিন্তু সবচেয়ে লোমহর্ষক বিষয় হলো, কিছু দিন আগে এক অনুসন্ধানে দেখা যায় মাঠার মধ্যে কম দামের টিস্যু পেপার মেশানো হচ্ছে এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তা বোতলজাত করা হচ্ছে। একবার ভাবুন তো এসব মাঠা খেয়ে গরমে আপনার সাময়িক প্রশান্তি হলেও দীর্ঘমেয়াদে মুখের আলসার থেকে শুরু করে ভাইরাল হেপাটাইটিসসহ জটিল রোগ দেখা দিতে পারে। শুধু তাই নয়, যে কোনো বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আপনার পড়তে হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। মেয়েদের পছন্দের খাবার ফুসকা ও চটপটি। আবার এর মধ্যে যোগ হয়েছে দই ফুসকা। এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দেখা যায়, যেখানে ফুসকার আবরণী অংশ বানানো হয় সেটি অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে করা হচ্ছে। ফুসকার অংশ বানানোর এক পাশে শিশু মল ত্যাগ করছে আর অন্য পাশে সবাই খালি পায়ে ঘরের ভেতর-বাইরে আসা-যাওয়া করছে। এখানে থেকে ফুসকা কম দামের তেলে ভেজে ঢাকা শহরের সর্বত্র সরবরাহ করা হয়। এখন আপনি এবং আপনার পরিবার সিদ্ধান্ত নেবেন ফুসকা বা চটপটি খাবেন কি না। খেলে কী হতে পারে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
মুখে বা জিহ্বায় আলসার হলে সব ধরনের মাউথওয়াশ ব্যবহার করা যায় না। কোনো কোনো মাউথওয়াশ ব্যবহারের কারণে মুখ ও জিহ্বার আলসার ভালো হাওয়ার পরিবর্তে আরো খারাপ অবস্থার দিকে যায়। তাই মাউথওয়াশ ব্যবহারে সতর্ক হতে হবে। আপনি যদি অনবরত মানসিক চাপে থাকেন তাহলেও আপনার মুখে ও জিহ্বায় আলসার দেখা দেবে। কিছু দিন ভালো থাকার পর বার বারও দেখা দিতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, ক্রমাগত চাপে থাকলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়। তাই মুখের আলসার সহজে ভালো হতে চায় না।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft