ক্রীড়া সংবাদ
টাইগার স্পিন বিষে নীল অস্ট্রেলিয়া
বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়
আবুল বাসার মুকুল :
Published : Wednesday, 30 August, 2017 at 3:04 PM, Update: 30.08.2017 9:54:41 PM
বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বহুল প্রতীক্ষিত প্রথম টেস্টে অসাধারণ জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। আর এই জয়ের পিছনে মূল অস্ত্র হিসেবে কাজ করছে টাইগারদের স্পিন বোলিং আক্রমণ। যার বিষে নীল হয়েছে স্মিথ-ওয়ার্নাররা। তারা ঘুরে দাঁড়ানোর মরণ পণ চেষ্টা করেও বিফল।  
অজিদের বিপক্ষে এ জয় আরো একটি ঐতিহাসিক জয় লাল সবুজের বাংলাদেশের। এ জয়ের উৎসব মিরপুরের গন্ডী পেরিয়ে পালিত হয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। যোগ্য দল হিসেবেই যোগ্য প্রাপ্য পেয়েছে সাকিব-মিরাজ-তাইজুলরা। অজিদের বিপক্ষে এই প্রথম টেস্ট জয়। যা বাংলাদেশের ক্রিকেটকে নিয়ে গেছে আরো উন্নত চূড়ায়। দুই টেস্ট সিরিজের প্রমটিতে ২০ রানে জয়ী হয়ে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা।
নানা অভিযোগ তুলে বাংলাদেশে না আসা অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর একটা ব্রত ছিলো ক্রিকেটার থেকে শুরু করে ক্রিকেট প্রেমীদের মাঝে। যা দেশ সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান নিজেই প্রকাশ করেছেন গণমাধ্যমে। তার এই বক্তব্যে বিস্মিত হয়েছিলেন অজি অধিনায়ক স্মিথ। এখন দ্বিতীয় টেস্টেও হারানো প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন এই দেশ সেরা অলরাউন্ডার। বাংলাদেশের বর্তমান টেস্ট খেলোয়াড়দের মধ্যে কেউ এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ খেলেননি।
২০০৬ সাল। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ। বছর খানেক আগে অভিষেক হওয়া মুশফিকুর রহীমকে  নেওয়া হলো না সেই দলে। ১১ বছর পর সে আক্ষেপ দূর করতে পারলেন মুশফিক। তাও আবার অধিনায়ক হিসেবে। গল্পটা লেখা হতে পারতো ওখানেই। কিন্তু হয়নি। কিন্তু মুশফিকের দল ছাপিয়ে  গেল সেটিকে। একেবারে জয় দিয়েই রাঙিয়ে রাখলেন অজিদের বিপক্ষে নিজের অন্যরকম অভিষেক  টেস্ট। সাথে ঈদের আগাম উপহার তার দল তুলে দিল দেশের ক্রিকেট পাগল মানুষের হাতে।
বুধবার প্রথম টেস্টের চতুর্থদিন মুশফিকুর রহীমের দল অসাধারণ পারফরম্যান্সে তুলে নিয়েছে ২০ রানের জয়। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৬৫ রানের টার্গেটের পেছনে ছুটে ২৪৪ রানে অল আউট স্টিভেন স্মিথের দল। প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও ৫ উইকেট শিকার করে ম্যাচ জয়ের মূল নায়ক সাকিব আল হাসান। তিনিই ম্যান অব দ্য ম্যাচ। স্পিনাররাই হন্তারক। তাইজুল ইসলাম পেয়েছেন ৩ উইকেট। মেহেদী হাসান মিরাজের শিকার ২টি।
২০০৬ সালে ফতুল্লা টেস্টে জয়ের খুব কাছে গিয়েও হেরেছিলেন হাবিবুল বাশাররা। সে ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছিলেন রিকি পন্টিং। আর এবার করলেন ডেভিড ওয়ার্নার। তবে পার্থক্য পন্টিং পেরেছিলেন আর ওয়ার্নার পারলেন না।
মঙ্গলবারের শেষ বিকেলের মতোই বুধবার চতুর্থ দিনের সকালটা শুরু করেছিল অস্ট্রেলিয়া। আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান স্মিথ ও ওয়ার্নারের ব্যাটিং দেখে মনে হয়েছিল পুরোনো ইতিহাস নতুন করেই রচিত করতে যাচ্ছেন তারা। উপমহাদেশের মাঠে প্রথম সেঞ্চুরি তুলে সবার ভাবনাটা সেদিকেই নিয়ে গিয়েছিলেন ওয়ার্নার। সেঞ্চুরির পর তার উচ্ছ্বাসটাও ছিলো তেমন। স্মিথের সাথেও জুটিটাও বিশাল এই উইকেটে। ১৩০ রানের। তবে সাকিবের একটি ম্যাজিক্যাল ডেলিভারিই বদলে দেয় খেলার রঙ। এলবিডাব্লিউর ফাঁদে পড়লেন ওয়ার্নার। তৃতীয় উইকেটটা পড়ল ১৫৮ রানে। ১১২ করে ফিরলেন ওয়ার্নার।
ওখানেই বাংলাদেশের স্পিনারদের বিশেষ করে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া সাকিবের শুরু। তবে তখনও তো উইকেটে ছিলেন বিপজ্জনক স্মিথ। স্পিনে যার অন্যরকম সুনাম। চেষ্টাও করছিলেন। কিন্তু আবারও সেই সাকিব। অসি অধিনায়কের ক্যাচটা ধরলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। উল্লাস তখন বাধভাঙ্গা। ৩৭ করে বিদায় স্মিথের। ৪ উইকেটে ১৭১ রান অস্ট্রেলিয়ার। সাকিবের কারুকাজ চেয়ে চেয়ে  দেখছিলেন আরেক বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল। বিজয় মঞ্চে নিজের নাম লেখানোর জন্য আকুপাকু করছিলেন। পিটার হ্যান্ডসকম্ব ও অ্যাস্টন অ্যাগারকে ফিরিয়ে তিনিও অংশ হলেন মহাকাব্যের।
এরপর আবার সাকিব। ভয় ছিল গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও ম্যাথু ওয়েডকে নিয়ে। ৭ রানের ব্যবধানে এই দুই ব্যাটসম্যানকে বিদায় করে দলকে জয়ের দোড়গোড়ায় নিয়ে গেলেন সাকিব। শুধু তাই নয়, টেস্ট ক্যারিয়ারের এই নিয়ে ইনিংসে ১৭ বার হলো পাঁচ উইকেট শিকারের কীর্তি। পাশাপাশি দ্বিতীয়বার ১০ উইকেট নেওয়ারও কীর্তি।
অস্ট্রেলিয়ার জন্য টেল এন্ডার নিয়ে পথ অনেক দুরের। কিন্তু বাংলাদেশের জন্য কিছুটা শঙ্কার মেঘের ওড়াউড়ির দেখাও মিলল শেষে। কারণ ব্যাটিংটা খারাপ করছিলেন না করেন না প্যাট কামিন্স ও ন্যাথান লায়ন। প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টাও করলেন তারা। জুটি হলো ২৯ রানের। নবম উইকেট জুটি হিসেবে কম নয়। কিছুটা ভয় তো পাইয়ে দিয়েছেন টাইগারদের, সাথে এই দেশের সমর্থকদের। কারণ এই ম্যাচেই আগের ইনিংসে ৪৯ রানের জুটি গড়েছিলেন অ্যাগার ও কামিন্স। আর প্রতিপক্ষের নবম উইকেটে মুশফিকদের ভোগার ইতিহাসও আছে।
নবম উইকেট জুটিটা যখন বড় হয়ে উঠছিল তখন মিরাজকেই ফিরিয়ে আনলেন মুশফিক। আর অধিনায়কের আস্থার প্রতিদানটাও দিলেন তিনি। তবে লায়নকে সৌম্যর ক্যাচে পরিণত করলেন এই বিস্ময় অফ স্পিনারই।
তবে লায়ন আউট হওয়ার পর আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন কামিন্স। মিরাজকে এক ওভারেই দুটি ছক্কা  মেরে পিনপতন নিরবতা এনে দেন মিরপুরে। তবে এরপরই মিরাজের বদলে তাইজুলকে বল দেন অধিনায়ক। তাইজুল তেতে ছিলেন। দারুণ বল করেছেন পুরো ম্যাচে। সেই মতো উইকেট পাননি। কিন্তু এবার পেলেন এই বাঁহাতি স্পিনার। এলবিডাব্লিউর ফাঁদে ফেলেন জশ হ্যাজলউডকে।  তারপরই সারা মাঠ জুড়ে জয়! রোমাঞ্চকর! নাটকীয়! গর্জন মিরপুরে। গর্জন ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইলের এই  দেশে।
অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করার ঘোষণা দিয়ে সিরিজ শুরু করা বাংলাদেশ অর্ধেক কাজটা করে রাখলো মিরপুরে। বাকিটা শুরু হবে ৪ সেপ্টেম্বর থেকে চট্টগ্রামে। জমজমাট আরেকটি ম্যাচের অপেক্ষা টাইগার প্রেমীদের মাঝে। ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর : বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ২৬০/১০, দ্বিতীয় ইনিংস ২২১/১০। অস্ট্রেলিয়া াপ্রথম ইনিংস  ২১৭/১০, দ্বিতীয় ইনিংস ২৪৪/১০। বাংলাদেশ জয়ী ২০ রানে।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft