সারাদেশ
লালমনিরহাটে বন্যায় রেল ও স্থল যোগাযোগ বন্ধ
কাগজ ডেস্ক :
Published : Sunday, 13 August, 2017 at 7:32 PM
লালমনিরহাটে বন্যায় রেল ও স্থল যোগাযোগ বন্ধপ্রবল বর্ষণ আর উজানের ঢলে লালমনিরহাটে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। তিস্তা, ধরলা নদীর পাশাপাশি ছোট ছোট সানিয়াজান নদীর পানি বিপদসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার কারণে ডুবে গেছে লালমনিরহাট বুড়িমারী জাতীয় মহাসড়ক, রেললাইন, স্কুল কলেজ, বসতবাড়িসহ ফষলী জমি। বন্যার কারণে লালমনিরহাট জেলার সাথে রেল ও স্থল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। মনুষজন কোনো উপায় না পেয়ে আশ্রয় নিয়েছে রেলস্টেশনে।
ভোক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, এখন পর্যন্ত কোনো জনপ্রতিনিধিরা তাদের খোঁজখবর নেয়নি।
দোয়ানী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বর্তমান তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্যারাজ রক্ষায় সবকটি জল কপাট খুলে দেয়া হয়েছে। ভারত থেকে প্রচণ্ড গতিতে পানি আসায় তিস্তা ব্যারাজ হুমকির মুখে পড়েছে। তাই তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় রেড এলার্ট জারি করা হয়েছে। আর এলাকার লোকজনদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণ ও উজানের ঢলে তিস্তা ও ধরলা নদীর তীরবর্তি এলাকায় ফের বন্যা দেখা দিয়েছে । নদীর পাশাপাশি ভারি বৃষ্টিপাতের পানিতে ডুবে যাচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। এরই মধ্যে পাটগ্রামের পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডসহ উপজেলার তিস্তা তীরবর্তি দহগ্রাম, হাতীবান্ধার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, ডাউয়াবাড়ী, সিঙ্গীমারী, পাটিকাপাড়া, সিন্দুর্না, কালীগঞ্জের ভোটমারী, আদিতমারীর মহিষখোচা, দুর্গাপুর, পলাশী, লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্ডা, রাজপুর, মোঘলহাট কুলাঘাট ও খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের নদী বিধৌত এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে করে গোটা জেলায় লক্ষাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়েছে।
এসব মানুষজন তাদের গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। পানির নিচে ডুবে গেছে সদ্য রোপণ করা কয়েক হাজার হেক্টর জমির আমন ধান ক্ষেত, বিনষ্ট হয়েছে সবজি ও মরিচ ক্ষেত।
লালমনিরহাটের রেলওয়ের সহকারী ট্রাফিক সুপারিয়েন্টেন্ট (এটিএস) সাজ্জাত হোসেন জানান, লালমনিরহাট বুড়িমারী রেলরুটের অনেক স্থানে রেল লাইনের উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বন্যার পানি। বেশ কিছু স্থানে লাইনের নিচ দিয়ে পানি প্রবাহের কারনে লাইনের নিচে সুড়ঙ্গ গর্তের সৃষ্ট হয়েছে। তাই রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
এ বিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা (পিআইও) ফেরদৌস আহমেদ বলেন, উপজেলার ২৬ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণ চেয়ে জেলা প্রশাসকের দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
লালমনিরহাট জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার সুজা উদ দৌলা জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষনিক বর্নত্যদের খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। ত্রাণ হিসেবে জেলায় ২০২ মে. টন জিআর চাল ও সাড়ে ৪ লাখ টাকা মজুদ আছে। প্রয়োজনে আরো বরাদ্ধ নেয়া হবে।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শাফিউল আরিফ জানান, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। বন্যার্ত লোকজনের নিরাপদ স্থানে সরে আনাসহ তাদের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ চলছে।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft