দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
যমেকের পুরোনো ভবন পুরোটাই ঝুঁকিপূর্ণ
স্থায়ীভাবেই পরিত্যক্ত ঘোষণা
ফয়সল ইসলাম :
Published : Sunday, 13 August, 2017 at 12:23 AM
স্থায়ীভাবেই পরিত্যক্ত ঘোষণাধস ঠেকাতে বাঁশের ঠেকনো দেয়া যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুরাতন সেই ভবনটি স্থায়ীভাবে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ২৪ ঘন্টার মধ্যে পুরুষ সার্জারি ও গাইনী ওয়ার্ডের রোগীদেরও অন্যত্র স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। এর আগে ঝুঁকি এড়াতে ও দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেতে প্রথম অবস্থায় ভবনটির পূর্ব পাশের নিচতলায় অর্থো-সার্জারি ওয়ার্ড ও তারই উপরে মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের সরিয়ে নিয়ে অন্যত্র রেখে চিকিৎসা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। কিন্তু ওই ভবনেরই পশ্চিম পাশে নিচতলায় পুরুষ সার্জারি এবং উপর তলায় গাইনী বিভাগের চিকিৎসা কার্যক্রম চলমান রেখেছিলেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এতে নানা প্রশ্ন ওঠে।
একটি ভবনের একদিকে ধস নামা, ছাদ হেলে পড়া, বীম ও পিলারে ফাঁটল ধরার মানে পুরো ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ। ভবনটিতে স্থাপিত চারটি ওয়ার্ডের মধ্যে দু’টি থেকে রোগীদের সরিয়ে নেয়া হলেও অন্য দু’টি ওয়ার্ডের রোগীদের কেন দুর্ঘটনার আশংকার মধ্যে রাখা হয়েছে। সচেতন ও বিশেষজ্ঞ মহল থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও গণপূর্ত বিভাগ সমালোচিত হতে থাকেন। এরই মধ্যে ঢাকা থেকে গণপূর্ত বিভাগের ভবন বিশেষজ্ঞ দল হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ভবনটির কোন অংশই আপাতত ব্যবহারের উপযোগী নয়। যতদ্রুত সম্ভব ভবনটি খালি করতে হবে।
দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছেন, হাসপাতালের পুরনো ওই ভবনটির চারটি ওয়ার্ডে প্রতিদিনই দু’শতাধিক রোগী চিকিৎসাধীন থাকতেন। তাদের স্বজন, সেবাকর্মীসহ ৫/৬শ’জনের অবস্থান থাকতো ভবনটিতে। ভবনটির পূর্ব পাশের দ্বিতীয়তলার ছাদ হেলে পড়েছে আরো ৩/৪ মাস আগে। প্রথমে নিচতলার পিলার, বীম ও পরে ছাদের উপর প্রভাব পড়েছে। ১৯৪০ ও ১৯৭০ সালে নির্মিত ভবনটি রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে বরাবরই উদাসীন থাকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও গণপূর্ত বিভাগ। এছাড়াও ওই ভবনটির সামনে করোনারী কেয়ার ইউনিট স্থাপনের সময় দীর্ঘদিন ধরে পাইলিংয়ের কাজ চলেছে। গভীর পাইলিংয়ের কারণে পুরাতন ভবনটির ভীত অনেকটা নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। খসে যাওয়া পলেস্তারা ঢেকে দিয়েও কোন মতে জোড়াতালি দিয়ে ভবনটি চকচকে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। এমনকি চালাকি করা হয়েছে দ্বিতীয় তলার গাইনী ওয়ার্ডের সংস্কারে। এক প্রকার ‘আলগা মাটির উপর সোনার প্রলেপ’ দেয়ার মতো করেছে গণপূর্ত। নোনা লাগা দেয়াল ও ফ্লোরে লাগানো হয়েছে টাইলস। যাতে উপর থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ। সেখানে চিকিৎসা কার্যক্রম কোন মতেই চালানো যুক্তিযুক্ত নয়। স্থায়ীভাবেই পরিত্যক্ত ঘোষণা
এদিকে, বাঁশের ঠেকনো দিয়ে হাসপাতালের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে রোগী সেবার কাজ চালানো হচ্ছে এমন সচিত্র প্রতিবেদন গ্রামের কাগজসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশের পর সরেজমিন পরিদর্শন করার জন্যে গণপূর্ত বিভাগের প্রধান কার্যালয় থেকে ভবন ডিজাইন বিশেষজ্ঞ পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার সকালে ডিজাইন বিশেষজ্ঞ মুনিরুজ্জামান ভবনটির ছবি তোলা ছাড়াও হেলে পড়া ছাদ, ফাটল ধরা বীম, পিলারসহ বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করাসহ নির্মাণকালের নথিপত্র সংগ্রহ করেছেন। তার সাথে ছিলেন গণপূর্ত খুলনা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী জি এম এম কামাল পাশা, গণপূর্ত বিভাগ যশোর সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কাজী ওয়াসিফ আহমেদ, নির্বাহী প্রকৌশলী ফ্রান্সিস আশীষ ডি কস্তা, উপ-সহকারী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম প্রমূখ।
স্থায়ীভাবেই পরিত্যক্ত ঘোষণাপরিদর্শন দল ভবনটির সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত দিয়েছেন কোন অবস্থাতেই সেখানে রোগী ভর্তি রেখে চিকিৎসা কার্যক্রম চালানো যাবে না। এমনকি সব প্রকার কাজে ভবনটি ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গভীর পর্যালোচনা প্রয়োজনে আরো বিশেষজ্ঞ দলের পরিদর্শন ও মতামতের ভিত্তিতে ভবনটি পুনরায় ব্যবহার করা যাবে কিনা তার লিখিত সিদ্ধান্ত যতদ্রুত সম্ভব জানানো হবে।
এদিকে যশোর গণপূর্ত বিভাগের একটি সূত্র নাম না প্রকাশের শর্তে জানিয়েছেন, পুরাতন ভবনটির যে হাল তা কোন মতেই ব্যবহারের উপযোগী নয়। ভবনটি নির্মাণের সময় ব্যবহৃত ইট, বালি, সিমেন্ট ও রডের টেম্পার পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। যতই ঘসামাজা করা হোক ভবনটি যৌবন ফিরে পাবে না। যদি সংস্কার করে ভবনটি পুনরায় ব্যবহারের অনুমোদন দেয়া হয় তাহলে তা প্রতারণা করা হবে। সরকারের কিছু টাকা গচ্ছা যাবে। জনগণের কোন লাভ হবে না।
অপরদিকে, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার একেএম কামরুল ইসলাম বেনু, গ্রামের কাগজকে নিশ্চিত করেছেন ২৪ ঘন্টার মধ্যে পুরাতন ভবনের নিচতলার পুরুষ সার্জারি ও দ্বিতীয় তলার গাইনী ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হবে। পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডের ভর্তি হওয়া রোগীদের হাসপাতালের প্রধান গেটের সামনে অবস্থিত ইপিআই (টিকাদান কেন্দ্র) ভবনে রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। সেখানে অর্থো-সার্জারির রোগীরাও ভর্তি থাকবেন। যাদের গুরুতর অবস্থা বা অপারেশন হয়েছে শয্যার প্রয়োজন তাদের জন্যে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে মডেল সার্জারি ওয়ার্ডে রাখা হবে। এক্ষেত্রে কিছু শয্যা বৃদ্ধির প্রয়োজন পড়লে কর্তৃপক্ষ তাতে আপত্তি করবেন না।
গাইনী ওয়ার্ডের রোগীদের স্থানান্তর করা হচ্ছে হাসপাতালের মহিলা পেয়িং ওয়ার্ডে। সাধারণত এ ওয়ার্ডটিতে সরকার নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে শয্যায় থেকে মানুষ চিকিৎসা গ্রহণ করেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেখানে সাধারণ কোন শয্যা স্থাপন করা যাচ্ছে না। তাই গাইনী রোগীদের ফ্লোরে থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। যদি কেউ শয্যায় থেকে চিকিৎসা নিতে চান তাহলে তাকে সরকার নির্ধারিত ফি দিতে হবে। জরুরি এ অবস্থায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সবমহলের সহযোগিতা কামনা করেছেন। 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft