দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
মূল ঐতিহ্য সমুন্নত রেখে পর্যটন আর বিনোদনের কেন্দ্র হবে যশোর কালেক্টরেট চত্বর
এস এম আরিফ :
Published : Sunday, 13 August, 2017 at 12:24 AM
মূল ঐতিহ্য সমুন্নত রেখে পর্যটন আর বিনোদনের কেন্দ্র হবে যশোর কালেক্টরেট চত্বরপ্রায় আড়াইশ’ বছরের পুরাতন যশোরের কালেক্টরেট ভবনের মূল অবকাঠামোকে সমুন্নত রেখে ভবন ও চত্বরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
১৭৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত বৃটিশ-ভারতের প্রথম জেলা যশোর। গতকাল সকাল দশটায় কালেক্টরেট সভাকক্ষে সৌন্দর্য বর্ধন পরিকল্পনা নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। সভায় সভাপতিত্ব করেন যশোর জেলা প্রশাসক মোঃ আশরাফ উদ্দিন।
কালেক্টরেট চত্বরের সৌন্দর্য্য ম্লান করে দিচ্ছিল প্রবেশ পথে ময়লা আবর্জনার স্তুপ, অবহেলায় পড়ে থাকা জব্দ করা বিভিন্ন মামলার আলামত পুরোন গাড়ি। যা দেখে প্রথম দেখা অনেকেরই মনে হতো কালেক্টরেট এলাকা যেন আবর্জনা আর পুরনো গাড়ির ভাগাড়। যশোর জেলা প্রশাসক হিসাবে মোঃ আশরাফ উদ্দিন দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকে ঐতিহ্যবাহী ৩৬০ দুয়ারী কালেক্টরেট ভবনের সৌন্দর্য্য বর্ধণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সে মোতাবেক উন্নয়ন পরিকল্পনার সার্বিক দায়িত্ব প্রদান করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কে এম মামুন উজ্জামানকে। সেই থেকে শুরু স্বপ্নের পরিক্রমা। নানাবিধ পরিকল্পনায় শুরু হয় স্বপ্নের পথে হাঁটা। ঢাকার ক্রিয়েটিভ আর্কিটেকচার ফার্মের বিউটি ফিকেশন ডিজাইনার কবীর আহমেদকে সাথে নিয়ে মাসখানেক আগে পরিকল্পনা নিয়ে আলাপচারিতা শেষে ছবি সংগ্রহ করে থ্রিডি এনিমেশনের কাজ শুরু হয়। ১৮ জুলাই জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়  থেকে বিজ্ঞ সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ বরাবর পত্র প্রেরণ করা হয় মামলার দীর্ঘসূত্রিতায় কালেক্টরেট ভবন ও চত্বরে রক্ষিত বিভিন্ন মামলার আলামত দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে সরিয়ে নিতে। সে মোতাবেক চলতি মাসের ৮ তারিখে ৫০টি মোটর সাইকেলের নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। আরো ২০টি মোটরসাইকেল ও দ্বিতীয় দফায় ৬৮টি ছোট-বড় বিভিন্ন গাড়ি নিলাম প্রক্রিয়া চলমান।
গতকাল যশোরের সাংবাদিকদের সাথে উন্নয়ন পরিকল্পনার মতবিনিময় সভায় ক্রিয়েটিভ আর্কিটেকচার ফার্মের বিউটি ফিকেশন ডিজাইনার ও আর্টিস্ট কবীর আহমেদ দেশের সর্বপ্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী কালেক্টরেট ভবনকে ঘিরে নান্দনিক সৌন্দর্য পরিকল্পনার একটি থ্রি-ডি অ্যানিমেশন উপস্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, কালেক্টরেট চত্বরকে শহরের শ্রেষ্ঠ বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত করা, পুকুরকে আকর্ষণীয় করা এবং এর চারপাশ জুড়ে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিশেলে অনুপম এক নৈসর্গিক আবহ সৃষ্টি করা হবে। মূল ঐতিহ্য সমুন্নত রেখে পর্যটন আর বিনোদনের কেন্দ্র হবে যশোর কালেক্টরেট চত্বর
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, অত্যন্ত আকর্ষণীয় কালেক্টরেট ভবন এলাকাকে জঞ্জালমুক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। দেশসেরা এই কালেক্টরেট ভবনকে ঘিরে একটি মাস্টারপ্লান তৈরি হচ্ছে পর্যায়ক্রমে এর বাস্তবায়ন হবে। তিনি বলেন, এ উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় অংকের অর্থের প্রয়োজন। প্রারাম্ভিক ভাবে নিজ তহবিল থেকে কাজ শুরু হবে তবে তিনি যশোরবাসীকে অর্থসহ সার্বিক সহযোগিতার আহবান জানান।
সভায় উন্নয়ন পরিকল্পনা নানা দিক তুলে ধরে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক মো. মাজেদুর রহমান খান, পৌর মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কেএম মামুনউজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. হুসাইন শওকত, এডিসি (শিক্ষা ও আইসিটি) দেবপ্রসাদ পাল, এডিসি (রাজস্ব) রেজায়ে রাব্বী, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদ তামান্না, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফ্রান্সিস ডি কস্তা,  প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান তোতা, দৈনিক গ্রামের কাগজের সম্পাদক ও প্রকাশক মবিনুল ইসলাম মবিন, দৈনিক কালেরকণ্ঠের বিশেষ প্রতিনিধি ফখরে আলম, দৈনিক ইত্তেফাকের স্টাফ রিপোর্টার ফারাজী আহমেদ সাঈদ বুলবুল, গাজী টিভির জেলা প্রতিনিধি তৌহিদ মনি, দৈনিক গ্রামের কাগজের স্টাফ রির্পোটার প্রণব দাস, যশোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহাকারী শিক্ষক আহসান হাবীব পারভেজ প্রমুখ।
সভা শেষে জেলা প্রশাসক মোঃ আশরাফ উদ্দিন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও সুধীজনের সাথে নিয়ে পরিকল্পনার নানাদিক সরেজমিনে দেখান।  
ঐতিহ্যবাহী কালেক্টরেট ভবন ও চত্বরের উন্নয়ন পরিকল্পনা বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কে এম মামুন উজ্জামান জানান, গণপূর্ত বিভাগের তত্বাবধায়নে ছাদ এবং মূল ভবণের কিছু সংষ্কারের কাজ অচিরেই শুরু হচ্ছে। দীর্ঘদিনে ঐতিহ্যবাহী কালেক্টরেট ভবনের রং চটে গিয়ে বিকৃতি হয়ে গেছে। শুরুর সেই আদি রংয়ে আবার রাঙানো হবে কালেক্টরেট ভবন। ঢাকার কার্জন হলের রঙ য়ের আদলে মূল রঙে রাঙানো হবে কালেক্টরেট ভবন।
কালেক্টরেট পার্কের ভীতর দিয়ে হবে মূল গেইট এবং সড়ক। এখন পার্কের দিকটা কালেক্টরেট ভবনের পিছন পাশ হলেও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেটা হবে সামনের অংশ। পুরাতন নিয়াজ পার্কটিকে সাজানো হবে নতুন অবয়বে। পার্কের বাউন্ডারী ওয়াল, ওয়াক ওয়ে এবং সৌন্দর্য্যবর্ধক গাছগুলিকে পুনঃ বিন্যাস করা হবে।
কালেক্টরেট চত্ত্বরের পূর্বপাশে বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন বিভিন্ন মামলার আলামত হিসেবে রাখা অসংখ্য প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল, মোটরযান খোলা আকাশের নিচে পড়ে রয়েছে বছরের পর বছর। দীর্ঘদিন যাবৎ এ সব মোটরযান খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকায় কালেক্টরেট চত্ত্বরের পরিবেশ নষ্ট এবং বিষাক্ত সাপসহ পোকামাকড়ের উপদ্রব বৃদ্ধি পাচ্ছিল। এ ভবনের মালখানা হিসেবে ব্যবহৃত কক্ষের মালামালগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করে কক্ষগুলো ইতোমধ্যে খালি করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। খালি মালখানার ঘর গুলিতে যশোর ঐতিহ্য সংরক্ষণে যাদুঘর প্রতিষ্ঠা ও ভাগাড়ের গাড়ি অপসারিত হলে সেখানে কার পার্কি জোন তৈরীর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
বর্তমান কালেক্টরেট পুকুরকে নিয়েও আছে মহাপরিকল্পনা। পুকুর সংস্কার করে নির্মল স্বচ্ছ জলাধার নির্মাণ করা হবে। জলাধারে থাকবে ওয়াটার বোট, ওয়াটার রাইড। পুকুরের চারিদিকে নয়নাভিরাম ফুলের বাগান আর সৌন্দর্য্যবর্ধক বৃক্ষরাজীর সমারোহ। একপাশে থাকবে বিশ্রামাগার। থাকবে হাতি ঘোড়া সহ নান্দনিক রাইড।
পর্যটন আর বিনোদনের কেন্দ্র হবে যশোর কালেক্টরেট চত্বর। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে ঐতিহ্য আর নান্দনিকতার মিশেলে যশোর পাবে ভিন্নরুপ। পথ চলতে সহসাই কারো মনে হবে যেন কল্পলোকে মালয়েশিয়া কিম্বা সিঙ্গাপুরে এসে পড়েছেন। সে সোনালী সুপ্রভাতের অপেক্ষায় রয়েছে যশোরবাসী। 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft