আন্তর্জাতিক সংবাদ
তুরস্কে প্রচেষ্টাকারীদের মাথা কেটে নেওয়ার হুমকি এরদোয়ানের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
Published : Sunday, 16 July, 2017 at 6:11 PM
তুরস্কে প্রচেষ্টাকারীদের মাথা কেটে নেওয়ার হুমকি এরদোয়ানেরতুরস্কে প্রেসিডেন্ট রজব তায়্যিব এরদোয়ান ‘ব্যর্থ অভ্যুত্থানের’ প্রচেষ্টাকারীদের মাথা কেটে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। গত বছর ১৫ই জুলাই তুরস্কের সেনাবাহিনীর একাংশকে রাজপথে ট্যাংক নিয়ে এবং আকাশপথে যুদ্ধবিমান নিয়ে অভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টা করতে দেখা যায়। ওই দিনের সংঘর্ষে কমপক্ষে আড়াইশ মানুষ নিহত হন। কথিত সেই অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা সফল হয়নি। শনিবার 'ব্যর্থ অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার' প্রথম বর্ষপূর্তিতে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এরদোয়ান এ হুঁশিয়ারি দেন। অভ্যুত্থানকারীরা জনতার কাছে হেরে যায়। আটক করা হয় অসংখ্য মানুষকে। চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয় হাজার হাজার কর্মকর্তা, কর্মচারীকে। দিনটিকে উদযাপন করতে ১৫ জুলাইকে ‘গণতন্ত্র ও ঐক্য’ ঘোষণা দিয়ে তুরস্কে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। দিনভর আয়োজন করা হয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান। ইস্তাম্বুলের রাস্তাগুলোতে টানানো হয় বিশাল বিশাল বিলবোর্ড-পোস্টার। পোস্টারগুলোতে অভ্যুত্থানবিরোধী জনগণকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে লড়াই করতে দেখা যায়। দিনটি উপলক্ষ্যে গত শনিবার রাজধানী আঙ্কারায় এরদোয়ান সমর্থকরা র‌্যালি করেন। এদিন বসফরাস সেতুতে জমায়েত হওয়া সমর্থকদের উদ্দেশে ভাষণ দেন এরদোয়ান। এ সেতুতেই জনগণ অভ্যুত্থানের চেষ্টাকারী বিদ্রোহী সেনাদের মোকাবিলা করেছিল। আর ব্যর্থ অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার পর সেতুটির নাম দেওয়া হয়েছে জুলাই ফিফটিন মার্টায়ার’স ব্রিজ। ভাষণে এরদোয়ান অভ্যুত্থান প্রচেষ্টাকারীদের শাস্তি দেওয়ার ব্যাপারে বলেন, ‘সবার আগে আমরা ওই বিশ্বাসঘাতকদের মাথা কেটে ফেলব।’ মৃত্যুদন্ডের বিধান পুনর্বহাল করতে যেকোনও বিলে স্বাক্ষর করার কথাটিও পুনচ্চারিত করেন তিনি। এরদোয়ান বলেন, ‘আমাদের রাষ্ট্রটি আইনের শাসন দ্বারা পরিচালিত। পার্লামেন্ট হয়ে আমার কাছে যদি বিলটি আসে তবে আমি তাতে স্বাক্ষর করব।’ কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, মৃত্যুদন্ড পুনর্বহাল করা হলে তুরস্ককে ইউরোপীয় ইউনিয়নে সদস্যপদ পাওয়ার আশা জলাঞ্জলি দিতে হবে। গত বছরের ১৫ জুলাই অভ্যুত্থান-প্রচেষ্টায় অংশ নেওয়া ওইসব সেনাদের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে থামিয়ে দেয় প্রেসিডেন্ট এরদোগানের সমর্থকরা। তারা রাজপথে নেমে পড়ে। নিজেরা সংগঠিত হয়ে ট্যাংকের সামনে দাঁড়ায়। এতে অভ্যুত্থানকারীরা থমকে যায়। তাদেরকে আটক করা হয়। এখনও চলছে এর বিচার কার্যক্রম। অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার জন্য দায়ী করা হয় যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লাহ গুলেন ও তার অনুসারীদের। কিন্তু ফেতুল্লাহ গুলেন এতে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। ওদিকে অভ্যুত্থান চেষ্টার পর তুরস্কে জারি করা হয় জরুরি অবস্থা। তা এখনও অব্যাহত আছে। উল্লেখ্য, ওই ঘটনার পর কমপক্ষে অর্ধ লক্ষ মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে এক লাখেরও বেশি মানুষকে। ব্যর্থ ওই অভ্যুত্থানচেষ্টাকে কাজে লাগিয়ে প্রেসিডেন্ট তার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও স্বার্থ হাসিল করছেন বলে দাবি এরদোয়ান বিরোধীদের। কারণ অভ্যুত্থান ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই বিরোধীদের ওপর ব্যাপক দমনপীড়ন চালাচ্ছেন এরদোয়ান।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft