স্বাস্থ্যকথা
মুখে ও ঠোঁটে ভাইরাস
কাগজ ডেস্ক :
Published : Thursday, 13 July, 2017 at 6:14 PM
মুখে ও ঠোঁটে ভাইরাসমুখে ও ঠোঁটে বিভিন্ন ধরনের ভাইরাসের সংক্রমণ হতে পারে। আলোচ্য বিষয়ে হারপিস সিমপ্লেক্স ও হারপিস জসটার ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে আলোকপাত করা হলো। হারপিস এক ধরনের ডিএনএ ভাইরাস, যা প্রধানত লালা ও শরীরের অন্যান্য নিঃসৃত রসের মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়। হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস সাধারণত দুই ধরনের হয়থ ক. হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস টাইপ-১ ও খ. হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস টাইপ-২।
হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস দ্বারা প্রাথমিক সংক্রমণের ক্ষেত্রে মাড়ি ও ঠোঁটে প্রদাহ দেখা দিতে পারে, যা জিনজাইভো স্টোমাটাইটিস নামে পরিচিত। অনেক সময় শিশুদের ক্ষেত্রে মাড়িতে এ অবস্থার কারণে মনে হতে পারে দাঁত উঠছে। হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস প্রধানত লালার মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। ডেন্টাল সার্জনদের মধ্যে যারা হ্যান্ডগ্লোভস ছাড়া রোগী দেখেন তাদের ক্ষেত্রে হাতের আঙুলে হুইটলো হতে পারে, যা হারপেটিক হুইটলো নামে পরিচিতি। হুইটলো হলে আঙুলে ব্যথা হতে পারে।
সেকেন্ডারি হারপিস (কোল্ড সোর)
সেকেন্ডারি হারপিস সংক্রমণ হতে পারেথ
ক. আঘাতের কারণে।
খ. সূর্যের আলোয় বার বার এবং বেশিক্ষণ গেলে।
গ. মানসিক চাপযুক্ত অবস্থায় থাকলে।
হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাসের প্রাথমিক সংক্রমণ চলে যাওয়ার পর অনেক রোগীই আর কোনো কষ্ট অনুভব করেন না। ৩০ ভাগ রোগী পরবর্তী সময়ে বার বার সংক্রমণের শিকার হন। এসব রোগীর বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ঠোঁট আক্রান্ত হতে দেখা যায়, যা হারপিস ল্যাবিয়ালিস নামে পরিচিত। বার বার হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস সংক্রমণের কারণে ঠোঁটে ফুসকুড়ি হতে এবং প্রদাহ দেখা দিতে পারে, যা সিলাইটিস নামে পরিচিত। সাধারণ মানুষের মধ্যে এ অবস্থাটি জ¦রঠোসা নামে পরিচিত। তবে সিফিলিসের কারণেও ঠোঁটে ঘা দেখা দিতে পারে। প্রজনন অঙ্গের বাইরে সিফিলিসের সবচেয়ে বেশি লক্ষণ দেখা যায় পুরুষের ওপরের এবং মহিলাদের নিচের ঠোঁটে। এ সময় ঠোঁটে ক্ষত দেখা দিতে পারে।
রোগ নির্ণয় : রোগের লক্ষণগুলো ছাড়া রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস টাইপ-১ ও টাইপ-২ সহজেই নির্ণয় করা যায়। তবে রক্ত পরীক্ষাটি অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ ভাইরোলজিস্ট দ্বারা করাতে হবে যে কোনো নামকরা প্যাথলজি সেন্টার থেকে।
চিকিৎসা : অ্যাসাইক্লোভির গোত্রভুক্ত ট্যাবলেট ভাইরাক্স ৪০০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন একটি করে ৭ থেকে ১৪ দিন সংক্রমণের মাত্রা এবং ধরন অনুযায়ী খেতে পারেন। তবে যারা দীর্ঘমেয়াদি হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাসে আক্রান্ত তাদের ক্ষেত্রে অনেক সময় উপকার না-ও পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু সংক্রমণ দমনে অবশ্যই আপনাকে ওষুধ খেতে হবে। তা ছাড়া রোগীকে প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে হবে। জ¦র বা ব্যথা থাকলে ট্যাবলেট প্যারাসিটামল একটি করে দিনে তিনবার ভরা পেটে খেতে পারেন। সর্বোপরি মুখের অভ্যন্তর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। এজন্য ক্লোরোহেক্সিডিন মাউথওয়াশ ০.২% ব্যবহার করতে হবে দুই সপ্তাহের জন্য। গর্ভাবস্থায় ভাইরাক্স ট্যাবলেট সেবন করা যাবে না। তা ছাড়া দুগ্ধদানকারী মায়েদের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। যাদের কিডনির সমস্যা আছে অথবা রক্তে সিরাম ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বেশি থাকে তাদের কোনো অবস্থাতেই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া একটি ট্যাবলেটও সেবন করা ঠিক নয়। তবে কিডনির সামান্য সমস্যা থাকলে অ্যাসাইক্লোভির গোত্রভুক্ত ওষুধের ভ্যালাসাইক্লোভির গোত্রভুক্ত ওষুধ ৫০০ মিলিগ্রাম দিনে এক থেকে দুবার দুই সপ্তাহ অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করতে পারেন। ট্যাবলেট ভাইরাক্স সেবনকালে প্রয়োজনে রক্তের সিরাম ক্রিয়োটিনিনের পরিমাণ স্বাভাবিক আছে কি না তা দেখে নেয়া ভালো। ঠোঁটে ঘা বা ক্ষত থাকলে অ্যাসাইক্লোভির ক্রিম ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। মুখের অভ্যন্তরে বার বার সংক্রমণ আলসার রূপে দেখা যায়।
অতএব জ¦রঠোসা হোক আর ঠোঁটে ঘা-ই হোক, সব ধরনের রোগের সংক্রমণের চিকিৎসায় সচেতন হতে হবে। রোগের কারণ না জেনে ওষুধ সেবন করে অহেতুক সময় নষ্ট না করে যথাযথ চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ থাকুন।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft