অর্থকড়ি
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও এফএও ফুড সেফটির নন্দিত উদ্যোগ
ঈর্ষণীয়ভাবে এগুচ্ছে ব্রয়লার উৎপাদন
দেওয়ান মোর্শেদ আলম :
Published : Thursday, 13 July, 2017 at 12:01 AM
ঈর্ষণীয়ভাবে এগুচ্ছে ব্রয়লার উৎপাদন দেশে ঈর্ষণীয়ভাবে এগিয়ে চলেছে নিরাপদ ব্রয়লার মুরগি উৎপাদন। উৎপাদিত আর এই নিরাপদ ব্রয়লার মাংস ভোক্তা পর্যায়ে পৌছে দিতে নিরাপদ ব্রয়লার বিপণন কেন্দ্রও গড়ে উঠছে। আর এই উদ্যোগের কারণে ব্রয়লারের মাংস নিয়ে জনগনের মধ্যে আর ভীতির অবকাশ থাকছে না বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও এফএওএর যৌথ উদ্যোগে দেশের ১৩টি জেলার ২৫টি উপজেলায় নিরাপদ ব্রয়লার মাংস উৎপাদনের লক্ষ্যে ২০১৪ সাল থেকে এ কর্মসূিচ হাতে নেয়া হয়। যশোর সদর ও অভয়নগরের ৮০টি খামারে এখন নিরাপদ মুরগি উৎপাদন হচ্ছে। আর খামারীদের মুরগি পালন ও উৎপাদন সংক্রান্ত উত্তম চর্চার উপর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। আর ব্যক্তি উদ্যোগেও অনেক খামারী নিরাপদ ব্রয়লার উৎপাদন ও বিপণনে কাজ করছেন। যা ইতিমধ্যে প্রশংসিতও হয়েছে।
গত ১১ জুলাই খুলনা বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর যশোরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সাইন্টিফিক সেমিনারে এ তথ্য দেন দেশের শীর্ষ প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞরা। ওই সেমিনারে ক্রেতা, বিক্রেতা, ভোক্তা, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও এফএও ফুড সেফটি প্রোগ্রামের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। নিরাপদ ব্রয়লার উৎপাদন ও বিপণন শীর্ষক জনসচেতনতামূলক এ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (উৎপাদন) ডাক্তার মেহেদী হোসেন, খুলনা বিভাগীয় উপ-পরিচালক ডাক্তার নিজামউদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার পঙ্কজ ঘোষ, প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর ও প্রাণিসম্পদ হাসপাতালের উপ পরিচালক ডাক্তার সাইফুল ইসলাম, প্রকল্পের ডাটাবেজ কোÑঅর্ডিনেটর ডাক্তার শেখ শাহিনূর ইসলাম, এফএওফুড সেফটি প্রোগ্রামের কনসালটেন্ট ডাক্তার তাছলিমা আক্তার, যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার ভবতোষ কান্তি সরকার, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার তপনেশ্বর রায়সহ আরও কয়েক প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞ।
তারা জানান, ব্রয়লারের মাংস নিয়ে জনগনের মধ্যে অনেক ভীতি রয়েছে। এমনকি এটা খেলে মারাত্মক ধরণের রোগ হতে পারে, যা আমরা অনেক সময় এ ধরনের ভ্রান্ত তথ্য সোস্যাল মিডিয়াতে দেখে থাকি। সে কারনে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও এফএওএর যৌথ উদ্যোগে সারাদেশে নিরাপদ ব্রয়লার মাংস উৎপাদনের লক্ষ্যে কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়। এ কার্যক্রমের সুফলও পাওয়া যাচ্ছে। এ কার্যক্রমের আওতায় উৎপাদন পর্যায়ে ৫টি জীবানু ও ৫টি রাসায়নিক মিলিয়ে ১০টি উত্তম চর্চার মাধ্যমে বায়োসিকিউরিটি নিশ্চিৎ করা হয়েছে। খামারীরা ভাল উৎস হতে এক দিনের বাচ্চাসহ অন্যান্য উৎপাদন উপকরনাদি (খাদ্য, ঔষধ) ক্রয়ে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। খামারী পর্যায়ে এ সব উত্তম চর্চার মাত্রা ক্রমশঃবৃদ্ধি পেয়েছে। উত্তম চর্চা মেনে চলার ফলে মুরগি উৎপাদনে ব্যয় কমে এসেছে। এ ছাড়াও ওষুধ/এন্টিবায়োটিক খরচ কমে এসেছে, খামারের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে এবং খামারীরা লাভবান হচ্ছেন। আবার নিরাপদ আমিষও পাচ্ছেন ভোক্তারা।
এই প্রকল্পের আওতায় নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। খামার থেকে মুরগির মাংস, খাদ্য, পানির নমুনা গবেষণাগারে পরীক্ষা করা হয়েছে। এ সব ক্ষেত্রে জীবানু ও রাসায়নিক ঝুঁকির মাত্রা সহনীয় মাত্রার মধ্যে ছিল। একই সাথে মুরগির মাংসে এন্টিবায়োটিকের মাত্রা সহনীয় মাত্রার মধ্যে ছিল, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়। অন্যদিকে মুরগির কাঁচা বাজার থেকে প্রাপ্ত নমুনায় সালমনেলা, ই-কলাই ও ক্যামপাইলোব্যাক্টর এর সংক্রমন ছিল, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুরগির মাংস বিপণন ব্যবস্থাপনা স্বাস্থ্যকর না হওয়ার কারনে জীবানুর আন্তঃসংক্রমণ ঘটে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য অস্বাস্থ্যকর। খামার পর্যায়ে উৎপাদিত নিরাপদ ব্রয়লার মাংস ভোক্তা পর্যায়ে পৌছাতে নিরাপদ ব্রয়লার বিপণনে বেশি বেশি দোকান চালুর কার্যক্রম জোরালোভাবে এগুচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ১১ জুলাই বেজপাড়ায় নিরাপদ “ব্রয়লার মাংস বিপণন দোকান” নামে একটি বিপণন কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। আরও একাধিক নিরাপদ বিপণন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে।
ব্যক্তি উদ্যোগেও জেলায় শতাধিক বিপণন কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা পোল্ট্রি খামারী সমিতির সভাপতি মামুন অর রশিদ। তিনি বলেছেন, সরকারি ওই কনসেপ্টের আগেই তিনি এই উদ্যোগটি নিজেই নিয়েছেন। আর এখন প্রাণিসম্পদ বিভাগকে অত্যন্ত যত্মশীলভাবে তাদের পাশে পাচ্ছেন। তিনি নয়া উদ্যমে কাজ করতে পারছেন। আর দেশের আমিষ চাহিদা মেটাতে এটা একটা নয়া বিপ্লব বলেও জানান তিনি।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft