সম্পাদকীয়
বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ান
Published : Thursday, 13 July, 2017 at 12:02 AM
উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।বন্যার পানি উপচে তিস্তাতীরবর্তী নীলফামারী, রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম গাইবান্ধাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ফলে পানিবন্দি হয়ে লাখো মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছে।  ভারতের পশ্চিমবঙ্গে কয়েক দিনের টানা বর্ষণে বেড়ে যায় তিস্তার পানি। এতে ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের সব কটি গেট খুলে দেয় তারা। ফলে ভাটিতে থাকা বাংলাদেশে পানি আসতে শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিস্তা ব্যারাজের সব কটি জলকপাট খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলায় অবস্থিত বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজে বিপদসীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় দেখা দেয় খাদ্য, পানি ও জ্বালানির সংকট। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয় হাজার হাজার পরিবার। এ অবস্থায় ভাঙন প্রতিরোধ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, জরুরি ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমসহ নানামাত্রিক পদক্ষেপ নিতে হবে। বন্যার্ত মানুষ যেন কোনো অবস্থায়ই দুর্ভোগে না পড়ে সেটি নিশ্চিত করতে হবে। দুর্গত এলাকায় স্বাভাবিকভাবেই বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যার পানিতে ডুবে গেছে শত শত একর ফসলি জমি। রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় অনেক এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পানিবন্দি হয়ে পড়ায় অনেক এলাকায় শ্রমিকদের কাজকর্ম বন্ধ হয়ে গেছে। স্বাভাবিকভাবেই এসব অতিদ্ররিদ্র শ্রেণির মানুষের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় হয়ে পড়েছে।
বন্যা আমাদের দেশে নতুন নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, আঞ্চলিক ও স্থানীয় অতিবৃষ্টি ও ভৌত অনেক কারণ বাংলাদেশে বন্যা হওয়ার জন্য দায়ী। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন, স্থানীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে বন উজাড়করণ এই প্রক্রিয়ায় বেশ খানিকটা প্রভাবকের ভূমিকা পালন করছে বলে গবেষকরা প্রায় নিশ্চিতভাবে সাক্ষ্য উপস্থাপন করেছেন। ভৌত কারণগুলোর মধ্যে স¤প্রতি হিমালয়ে অস্বাভাবিকভাবে বরফের আস্তরণ গলে যাওয়া, নদী-উপনদী ও খালগুলোর পানি নির্গমন ক্ষমতা বিভিন্ন কারণে হ্রাস পাওয়া, অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ ও নির্বিচারে বন উজাড় হওয়া অন্যতম।
বন্যা মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতিও অনেক প্রাণহানি ও সম্পদের বিনাশ থেকে রক্ষা করতে পারে। বন্যার্তদের সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রশাসনকে সার্বিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। মানুষজন যেন বন্যাজনিত কারণে কোনো দুর্ভোগের শিকার না হয় তা নিশ্চিত করাটাই এই মুহূর্তের জরুরি কর্তব্য। 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft