অর্থকড়ি
হাকা হচ্ছে দ্বিগুন দাম :
যশোরের মুরগি খামারে ৫৩ হাজার বাচ্চা অবিক্রিত
দেওয়ান মোর্শেদ আলম :
Published : Tuesday, 11 July, 2017 at 12:08 AM
যশোরের মুরগি খামারে ৫৩ হাজার বাচ্চা অবিক্রিত  দেশের উত্তরাঞ্চলের প্রাইভেট হ্যাচারিগুলোর ব্যবসায়ীক প্রতিযোগিতার প্রভাব পড়েছে যশোরাঞ্চলে। ৮ থেকে ১০ টাকায় এক দিনের বাচ্চা পাওয়ায় এ অঞ্চলের খামারীরা মুরগির বাচ্চা কিনতে উত্তরাঞ্চলে ঝুঁকে পড়েছেন। ফলে বাচ্চা প্রতি সরকার নির্ধারিত মূল্য ২০ টাকা থাকায় প্রতিকূল প্রভাব পড়েছে যশোর সরকারি হাঁসমুরগি খামারে। অর্ডার দিয়েও অর্ধশত খামারী বাচ্চা না নেয়ায় খামারে অবিক্রিত রয়েছে বিভিন্ন বয়সী ৫৩ হাজার বাচ্চা। আর মজুদ রয়েছে দশ হাজারেরও বেশি ডিম। সব মিলিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে সময় কাটছে খামারের কর্মকর্তা কর্মচারিদের।
কয়েক সপ্তাহ পর থেকে মাংশ হিসেবে ওই মুরগি বিক্রি ও সপ্তাহের প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার সরকার নির্ধারিত মূল্যে ডিম বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।
যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দরিদ্র মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ১৯৪৯ সালে তৎকালীন পাকিস্তান আমলে শহরের শংকরপুর রেল গেটের পাশে ৯ একর জমির উপর নির্মিত হয় হাঁস মুরগি খামার। খামারটিতে প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে মুরগির বাচ্চা উৎপাদন ও বিপননের কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে এ খামারটি এ অঞ্চলের খামারীদের বাচ্চার চাহিদা মেটাতেও সক্ষম হয়। খামারের হ্যাচারির ৬টি ইনকিউবেটরের মধ্যে বিদেশী তিনটির ২টি সেটর ও ১টি হ্যাসারে ডিম ফুটানো হয়। ২টি সেটরে বর্তমানে ডিম ফুটানোর ধারণ ক্ষমতা ৬৬ হাজারের মত। গত কয়েক বছরে এ খামারের সোনালী ও ফাউমি বাচ্চা নিয়ে এ অঞ্চলের খামার সেক্টর উন্নত হয়েছে। সাবলম্বী হয়েছে অনেকে। এ খামারের মুরগির বাচ্চা বৈজ্ঞানিক উপায়ে ফোটানো ও মানসম্মত হওয়ায় খামারীরা এখানে ঝুঁকে পড়েন। আগাম অর্ডার দিতে থাকেন বাচ্চার। সরকারি নির্ধারিত মূল্য একদিনের বাচ্চা ২০ টাকা। অথচ সম্প্রতি এখানে অর্ডার নেই বললেই  চলে। অর্ধশত খামারী তাদের বাচ্চা না নেয়ায় এখানে অবিক্রিত হয়ে আছে ৫৩ হাজার বাচ্চা।
সরকারি মূল্য একদিনের বাচ্চা ২০ টাকা, ২ থেকে ২৮ দিনের বাচ্চা ৪০ টাকা, ২৯ থেকে ৪০ দিনের বাচ্চা ৬০ টাকা। কিন্তু উত্তরবঙ্গের, বিশেষ করে রংপুর ও জামালপুরে অর্ধশত প্রাইভেট হ্যাচারি এখন বাচ্চা বিকিকিনিতে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে। তারা ৮ থেকে ১০ টাকায় একদিনের ফাউমি ও সোনালী বাচ্চা বাজারে ছাড়ায় এ অঞ্চলের খামারীরা সেদিকে ঝুঁকেছে। যশোর সরকারি মুরগি খামারের অর্ডার ক্যান্সেল করেছে। ৮ থেকে ১০ টাকায় বাচ্চা কিনে যশোরে আনছে। যে কারণে সরকারি মুরগি খামারে নিয়োজিত দায়িত্বশীলরা অনেকটা অসহায় হয়ে পড়েছেন।
মুরগির বাচ্চা অবিক্রিত থাকার পাশাপাশি মজুদ রয়েছে দশ হাজারেরও বেশি ডিম। প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের সিদ্ধান্ত ছাড়া বাচ্চার দাম কমাতে পারছেন না যশোর খামারের দায়িত্বশীলরা। বাচ্চার চাহিদা না থাকায় ডিম ফোটাতে বসানো কমিয়ে দেয়া হচ্ছে। যে কারণে ডিমও মজুদ রয়েছে।  
এসবের সত্যতা স্বীকার করেছেন সরকারি মুরগি খামারের সহকারি পরিচালক এনামুল হক ও পোল্ট্রি ডেভোলপমেন্ট অফিসার (পিডিও) রেফায়েত উদ্দিন হাসান। তারা বলেছেন, মাস কয়েক আগেও খামারের মুরগির বাচ্চার ব্যাপক চাহিদা ছিল। আগাম অর্ডারও দিত তারা। তবে সম্প্রতি মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। উত্তরাঞ্চলের প্রাইভেট হ্যাচারিতে ৮ থেকে ১০ টাকায় বাচ্চা পাওয়ায় সরকারি খামারের বাচ্চা ২০ টাকায় নিতে চাইছেন না খামারীরা। বাচ্চা প্রতি ১০ টাকা লস না করতে অর্ডার ক্যান্সেল করছে। আগাম ৫ হাজার টাকা জমা দিয়েও মুরগির বাচ্চা নিতে আসেননি অর্ধশত খামারী। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ডিম বিক্রি করা হবে। প্রতি সপ্তাহের সোম ও বৃহস্পতিবার অফিস সময়ের মধ্যে সরকারি মূল্য হালি ২৮ টাকা ডিম বিক্রি হবে। এছাড়া আগামী কয়েক সপ্তাহ পরে মাংস হিসেবে বয়স ৭০ দিন হলে ওই মুরগি বিক্রি করা হবে।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft