দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
যশোর জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন আজ
নেতৃত্ব নির্বাচনে ইলেকশন না; সিলেকশন!
প্রণব দাস :
Published : Monday, 10 July, 2017 at 12:15 AM
যশোর জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন আজ  সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ছয় বছর পর যশোর জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন আজ। ব্যাপক উৎসাহ উদ্দিপনায় যশোর শহরের ঈদগাহ ময়দানে জাকজমকপূর্ণ আয়োজনে সকাল শুরু হবে ১০টায় ১৭তম সম্মেলন। এ সম্মেলনের মাধ্যমেই নির্ধারণ করা হবে শিক্ষা, শান্তি ও প্রগতির পতাকাবাহী সংগঠন যশোর জেলা ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব। তবে সংশ্লিষ্ট সকলেরই একই কথা; নতুন  সভাপতি- সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনে ইলেকশন নাকি সিলেকশন হবে? এ প্রশ্নে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীসহ রাজনীতি সচেতন ব্যক্তিদের মাঝে চলছে চাপা উত্তেজনা। সম্মেলন শেষেই সব জল্পনা কল্পনার অবসান হবে।
এদিকে সম্মেলনকে ঘিরে নেতা-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দিপনা দেখা দিলেও উৎকণ্ঠা, ভয় ও সংশয় রয়েছে সকলের মনেই। বিগত সম্মেলনে সহিংসতা হওয়ায় এবার সতর্ক সবাই। সুষ্টু ও শান্তিপূর্ণ সম্মেলন উপহার দিতে আয়োজক ও আইনশৃংখলা বাহিনী তৎপর রয়েছে।
এদিকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুটি গ্রুপের বিভাজনে ২০১০ সালের ১৪ মার্চ জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনে ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সম্মেলন স্থগিত করতে বাধ্য হন। এ ঘটনার পরদিন সদর উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক দাদা রিপন হত্যার শিকার হন। পরবর্তীতে ২০১১ সালের ১০ জুলাই সমঝোতার ভিত্তিতে কেন্দ্র থেকে আরিফুল ইসলাম রিয়াদকে সভাপতি ও আনোয়ার হোসেন বিপুলকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করে  যশোর জেলা ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি  ঘোষণা করা হয়।
বর্তমানেও স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে দুই গ্রুপ সক্রিয় থাকায় ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনেও প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এক গ্রুপ চাচ্ছেন ইলেকশনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিকপন্থায় নেতৃত্ব নির্বাচন হোক। তাদের বক্তব্য এতে তৃণমূলের মতামতের প্রতিফলন ঘটবে। আবার অপর গ্রুপের একাধিক প্রার্থী জানান, ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে অগণতান্ত্রিক পন্থায় নিজেদের মত করে কমিটি করে কাউন্সিলর মনোনীত করা হয়েছে। যাতে তৃণমূলের মতামত প্রতিফলিত হবে না। তাই ভোট হলে সঠিক নেতৃত্ব গড়ে উঠবে না। এতে বিভেদ সৃষ্টি হবে। সম্মেলনের উদ্দেশ্য ব্যহত হবে।
তারপরও সম্মেলনকে ঘিরে রয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য। সভাপতি পদে ১৮ ও সাধারণ সম্পাদক পদে ২২ প্রার্থী নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণে জোরেশোরে প্রচারণা শুরু করেছেন।  সম্মেলন উপলক্ষে কমিটিতে পদপ্রত্যাশীদের চলছে শেষ মূহুর্তের দৌঁড়ঝাঁপ।
সম্মেলনে  ৪শ’ ৫০ জন কাউন্সিলর মনোনীত করা হয়েছে। আগামী দিনের যশোর জেলা ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নির্বাচনে যদি ভোট হয় তবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন এ কাউন্সিলররাই।
সম্মেলনের নির্বাচন কমিশনার জামাল হোসেন শিমুল জানান, সম্মেলনে জেলা ছাত্রলীগের কমিটির ১শ’২৫, ৮ উপজেলা ও তিন পৌরসভা ছাত্রলীগ কমিটি থেকে ২৫ জন করে মোট ৩শ’ ২৫ জন এবং যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজ, যশোর সরকারি সিটি কলেজ, যশোর পলিটেকনিক ইনসটিটিউট ও যশোর মেডিকেল কলেজ থেকে ২৫ জন করে ১শ’জন, মোট ৪শ’৫০ কাউন্সিলর নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
এদিকে উৎসাহ উদ্দীপনা থাকলেও সংশয়ের মধ্যে দিয়েই সভাপতি ও সম্পাদক পদে ৪০জন প্রার্থী তাদের যোগ্যতা প্রমাণে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন। দিন-রাতকে একাকার করে প্রার্থীরা জেলা, উপজেলা, পৌর ও কলেজের ১৫টি ইউনিটে চষে বেড়িয়েছেন প্রার্থীরা। মতবিনিময়, ব্যানার পোস্টার ও মিছিলে সরগরম করে তুলেছিলেন তারা। আজই এ সবের অবসান হচ্ছে।
তৃণমূলের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, গঠনতন্ত্রে ২৭ হলেও প্রথা অনুযায়ী ছাত্রলীগের নেতৃত্বে থাকার বয়সসীমা ২৯ বছর। কিন্তু এরই মধ্যে বর্তমান কমিটির বেশির ভাগ নেতার বয়স সে গন্ডি পেরিয়ে গেছে। নিয়মিত কাউন্সিল না হওয়ায় তারা সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আবার যারা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হয়েছেন তাদের অনেকেরই বয়স গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নেই; এদের মধ্যে কেউ কেউ আবার বিবাহিত। এ বিষয়ে অসন্তোষ থাকলেও কেউই মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।
সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক ও জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নিয়ামতউল্লাহ বলেন, এ সম্মেলনে প্রধান অতিথি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও  সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সম্মানিত অতিথি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য পিযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য, বিশেষ অতিথি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, সদস্য এসএম কামাল হোসেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী-২ সাইফুজ্জামান শেখর, ছাত্রলীগের সহসভাপতি ও খুলনা বিভাগের সাংগঠনিকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত আনোয়ার হোসেন আনু,  ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এইচএম বদিউজ্জমান সোহাগ, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জয়দেব নন্দী। উদ্বোধক ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ। প্রধান বক্তা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন। এছাড়া অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, জেলার ৬ সংসদ সদস্য, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র। সভাপতিত্ব করবেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফুল ইসলাম রিয়াদ। সম্মেলন পরিচালনা করবেন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল। 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft