অর্থকড়ি
যশোর সদরে ১১টি সমবায়ের বিরুদ্ধে মামলা, ২৭ টির নিবন্ধন বাতিল
শতকোটি টাকা নিয়ে নিস্ক্রিয় শতাধিক সমিতি
দেওয়ান মোর্শেদ আলম :
Published : Monday, 19 June, 2017 at 12:07 AM
শতকোটি টাকা নিয়ে নিস্ক্রিয় শতাধিক সমিতিযশোর সদর উপজেলার শতাধিক সমবায় সমিতি প্রতারণা ও নানা অনিয়মে জাড়িয়ে নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। পাবলিকের শতকোটি টাকা নিয়ে অর্ধশত প্রতিষ্ঠান গুটিয়ে লাপাত্তা হয়েছে। আর গ্রাহকদের সাথে অব্যাহত প্রতারণা ও বিধি ভূলুণ্ঠিত করে ১১টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে প্রতারকেরা পালিয়েছে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আর নজরদারিতে থাকা ডজন দুয়েক প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ করেছে উপজেলা সমবায় অফিস। ২৭টি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন বাতিল করে দেয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে মাল্টিপারপাস ও সমবায় সমিতি সেক্টরে চলছে সমবায় অধিদপ্তরের হুঁশিয়ারি। অনিয়ম হলেই ব্যবস্থা। আর এখন সহজে মিলছে না নিবন্ধন।
সূত্র জানিয়েছে, এক যুগেরও বেশি সময়ে যশোর শহর, শহরতরী ও সদর উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে ওঠে সাধারন সমবায় সমিতি। যশোর সদর উপজেলায় এর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪শ’৬৪টি। এর মধ্যে ৪শ’৮ টি রয়েছে সাধারণ সমবায় সমিতি। আর গত ৯ বছরে মাল্টিপারপাস সমবায় সমিতি গজিয়েছে ডজন দুয়েকের বেশি। নানা অনিয়ম দুর্নীতির কারনে সদর উপজেলার বেশিরভাগ মাল্টিপারপাসের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। আর  সাধারণ ও মাল্টিপারপাস মিলিয়ে শতাধিক সমবায় সমিতি নিস্ক্রিয় ও স্থবির হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে যশোর শহর ও শহরতলীতেই রয়েছে অর্ধশত প্রতিষ্ঠান। মাল্টিপারপাস সমবায় সমিতি গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হওয়ার নজির দেখিয়েছে ডজন দেড়েক প্রতিষ্ঠান।  
অনিয়ম আর প্রতারনা করে মামলায় জড়িয়ে পড়া প্রতিষ্ঠান গুলো হচ্ছে আল এহসান শরীয়া মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড, সেবক মালিটপারপাস কো অপারেটিভ সোসাইটি, প্রত্যয় মাল্টিপারপাস, এহসান এস ইসলামী মাল্টিপারপাস, প্রাইম মাল্টিপারপাস, যমুনা মল্টিপারপাস, উদ্যোগ মাল্টিপারপাস, ম্যাক্সিম মাল্টিপারপাস লিমিটেড, মডার্ণ মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ, পপুলার ইসলামী  সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি ও জনতা সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি।
নিবন্ধন বাতিল করা সমবায় সমিতি গুলো হচ্ছে কদমতলা মাদার ল্যান্ড সমবায়, শেখহাটির সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি, চুড়ামনকাটির রুপান্তর সমবায় সমিতি, মতি শপিং মলের এক্সিম সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি, রুদ্রপুরের প্রবৃদ্ধি সমিতি, আব্দুলপুরের মুক্তিযোদ্ধা সমবায় সমিতি, কেফায়েত নগরের কেফায়েত নগর  যুব সমবায় সমিতি,  প্রতিভা যুব সমবায় সমিতি,  ইউনাইটেড সমবায় সমিতি, যশোর জেলা ফটো মালিক বহুমুখি সমবায় সমিতি, দাইতলা সমবায় সমিতি, গোয়ালদাবাজার একতা সমবায়, আরবপুর মহিলা কৃষি উন্নয়ন সমবায়,  ডাকাতিয়া  মহিলা কৃষি উন্নয়ন সমবায়, চৌঘাটা কৃষি উন্নয়ন সমবায় সমিতি,  বাঁশবাড়িয়া সমবায়, বোলপুর মহিলা কৃষি উন্নয়ন সমবায়,  দৌলতদিহি ঋন কৃষি উন্নয়ন সমবায় সমিতি ছাড়াও আবরপুর,  আরিচপুর, সেনেকুড়, ধানঘাটা, বিজয়নগর, হামিদপুর, পোলতাডাঙ্গা কচুয়া কৃষি উন্নয়ন সমবায় সমিতির নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, নিস্ক্রিয়দের মধ্যে অনেকগুলো সেরেফ প্রতারণামূলক কর্মকান্ড করে টাকা হাতিয়ে লাপাত্তা হয়েছে।  আবার অনেকগুলো কার্যক্রম না চালিয়ে বন্ধ রেখেছে। ডজনখানেক মাল্টিপারপাস সাধারনকে পথে বসিয়ে সটকে পড়েছে। আর এখন মামলায় জড়িয়ে তা থেকে উত্তোরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।  স¤প্রতি ১১ টি মাল্টিপারপাসের ব্যাপারে নড়েচড়ে বসেছে উপজেলা সমবায় অফিস। যা উপরে উল্লেখ করা হয়েছে। মাল্টিপারপাসগুলো পাবলিকের শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে।
পাবলিকের টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যাওয়া মাল্টিপারপাস ও সাধারণ সমবায় সমিতি নিয়ে অনুসন্ধানে জনা গেছে, এখানে অনুমোদন দেয়ার সময় সমবায় আইন মানা হয়নি। পাঁচ/দশ বছর আগে সমবায় কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে অনুমোদন নেয়া হয়। সেখানে দেখা গেছে যারা কমিটিতে খাতা কলমে রয়েছেন, তাদের অনেকেই জানেন না তারা কমিটির সদস্য। আবার একই কমিটিতে স্বামী সভাপতি স্ত্রী সম্পাদক বোন সহ-সভাপতি। আবার পিতা সভাপতি ছেলে সম্পাদক বোন সহসভাপতি। আবার পরিবারের অন্য সদস্যরা দায়িত্বশীল পদ দখল করে আছেন। আর একারণে পাবলিকের টাকা আমানত নিয়ে সহজেই তারা হজম করেছে। এখানে সমবায় অফিসার স্বচ্ছভাবে তদন্ত করলে একই পরিবারের সভ্যদের দিয়ে কমিটি করা মাল্টিপারপাস কখনও অনুমোদন দেয়া সম্ভব হতনা। বছর দুয়েক আগেও মিস্টি কথা বলে অভিযোগকারীদের পাঠিয়ে দেয়া ছাড়া প্রকৃত পক্ষে সমবায় অফিসাররা কিছুই করেননি। আর এখন যেমন জেলা সমবায় অফিসার মঞ্জুরুল ইসলাম রয়েছেন সতর্ক অবস্থানে। অনিয়মে জড়ানো কোন সমবায় ছাড় পাচ্ছে না। আবার আবেদন করলেই নিবন্ধন মিলছে না। তার দুরদর্শীতার কারণে এবং সমবায় বিধি মেনে এখন কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় গত এক বছরে নতুন সমবায় নিবন্ধন কম হয়েছে।
এদিকে সমবায় সমিতি নিস্ক্রিয় হয়ে পড়া, পাবলিকের টাকা আত্মসাৎ, মামলা ও নিবন্ধন বাতিল করা প্রসংগে কথা হয় যশোর সদর উপজেলা সমবায় অফিসার দ্বীপক কুমার রায়ের সাথে। তিনি জানান, এব্যাপারে বেশ আগে থেকেই কাজ শুরু করে যশোর সদর উপজেলা সমবায় অফিস। এ অফিস অভিযুক্ত মাল্টিপারপাস ও সমবায় সমিতিগুলোকে প্রথমে নোটিশ করে। পরে অভিযুক্ত ও অনিয়মে জড়ানো সমবায় গুলোর উপর নজরদারি রাখে। আর প্রতিবেদন দাখিল করে। সদরে ২৭টি নিবদ্ধন বাতিল হয়েছে।  আর ১১টির বিরুদ্ধে মামলা চলছে আদালতে। পাবলিকের টাকা আত্মসাৎ করা প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে সজাগ রয়েছে উপজেলা সমবায় অফিস। পাবলিকের টাকা ফেরত ও তাদের ন্যায় বিচার দেয়ার চেষ্টা করবে সমবায় অফিস। আবার নতুন করে অনেকে পাবলিকের টাকা আত্মসাৎ করেছে তাদের ব্যাপারে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। দ্রুতই টাকা ফিরিয়ে দিয়ে স্বচ্ছতা প্রমাণ করতে না পারলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হবে।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft