সম্পাদকীয়
‘মন মোর মেঘের সঙ্গী। উড়ে চলে দিগদিগন্তের পানে ’
Published : Saturday, 17 June, 2017 at 12:48 AM
আবার এসেছে আষাঢ় আকাশ ছেয়ে/ আসে বৃষ্টির সুবাস বাতাস বেয়ে। গতকাল ছিল আষাঢ়ের প্রথম দিন। গাছে গাছে কদম কেয়া ফোটার দিন। বর্ষাকে বলা হয় কবিতার ঋতু আবেগের ঋতু। বর্ষায় বৃষ্টির রিমঝিম শব্দের মধ্যে আমাদের সমস্ত আগে যেন উথলিয়ে ওঠে। তাই তো কবি আনন্দে গেয়ে ওঠেন- পাগলা হাওয়ার বাদল দিনে, পাগল আমার মন নেচে ওঠে।
গ্রীষ্মের প্রচ- তাপদাহের পর বর্ষা আসে শ্যামল সুন্দর রূপে। তাপ শুষ্ক পৃথিবীকে সুধারসে ভরিয়ে দেওয়ার জন্য। যেখানে বিরহী হৃদয় চাতক পাখির ধেয়ান নিয়ে চেয়ে আছে আকাশে। বিছিয়ে দিয়েছে তার ব্যথিত হৃদয়। তমাল কুঞ্জপথে সজল ছায়াতে। নয়নে করুণ রাগ-রাগিণী জাগিয়ে। বকুল ফুলের মালা গেঁথে নিয়ে আগন্তক বসে আছে। কখন মিলনের বাঁশি বাজবে তার জন্য।
একটু বৃষ্টি হলেই মাঠ-ঘাট বৃষ্টির পানিতে সয়লাব। কোথাও বেরুনোর এতটুকু অবসর মিলে না। রাস্তায় জমে যাওয়া পানিতে পথ হাঁটা তো দূরের কথা গাড়ি ঘোড়াও অচল। কিন্তু তবু বর্ষায় অভ্যস্ত পরিচিত সংসার হতে বিক্ষিপ্ত হয়ে মন বাইরের দিকে যেতে চায়। ‘মন মোর মেঘের সঙ্গী। উড়ে চলে দিগদিগন্তের পানে। নিঃসীম শূন্যে শ্রাবণ বর্ষণ সঙ্গীতে। রিমঝিম রিমঝিম রিমঝিম।’
এ কারণে বর্ষাকে স্বাগত জানাতে হয়। হে নব ঘনশ্যাম হে শ্যামল সুন্দর। আমরা তোমাকে অভিবাদন করি। এসো এসো জগতের যত অকর্মণ্য, এসো এসো ভাবের ভাবুক, রসের রসিক আষাঢ়ের মৃদঙ্গ ঐ বেজে উঠল, এসো সমস্ত খেপার দল, তোমাদের নাচের ডাক পড়েছে। বিশ্বের চিরবিরহ বেদনার অশ্রু-উৎস আজ খুলে গেল, আজ তা আর বাঁধ মানলো না। এসো গো অভিসারিকা, কাজের সংসারে কপাট পড়েছে, হাটের পথে লোক নাই। চকিত বিদ্যুতের আলোকে আজ যাত্রায় বের হবে। জাতীয় পুষ্প সুগন্ধি বনান্ত হতে সজল বাতাসে আহ্বান আসলো কোন ছায়া বিতানে বসে আছে বহু যুগের চির জাগ্রত প্রতীক্ষা।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft