স্বাস্থ্যকথা
নতুন চিকিৎসায় অ্যালার্জি থেকে জীবনব্যাপী সুরক্ষা দেয়া সম্ভব
কাগজ ডেস্ক :
Published : Friday, 16 June, 2017 at 12:57 AM
নতুন চিকিৎসায় অ্যালার্জি থেকে জীবনব্যাপী সুরক্ষা দেয়া সম্ভব অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন যে, তারা এমন একটি উপায় খুঁজে পেয়েছেন যার মাধ্যমে অ্যাজমার মত তীব্র অ্যালার্জির ইমিউন প্রতিক্রিয়াকে বন্ধ করা যায়।
জেসিআই ইনসাইট এ প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে যে, যাদের সাধারণ কিছু উপাদান যেমন - চিনাবাদাম ও চিংড়ি মাছে অ্যালার্জি আছে, যার কারণে নাটকীয় উপসর্গ দেখা যায়, তাদের এই খাবারগুলো খেতে আর ভয় পেতে হবেনা।
এই কৌশলটি টি সেল নামক ইমিউন কোষের স্মৃতি মুছে ফেলার উপর ভিত্তি করে তৈরি। এরা চিকিৎসা প্রতিরোধী স্মৃতি তৈরি করে। কিন্তু জিন থেরাপি ব্যবহার করে এই দলটি ইমিউন সিস্টেমের সংবেদনশীলতা কমাতে সক্ষম হয় যা স্থায়ী সুরক্ষা দিতে পারে।
গবেষণার নেতৃত্বদানকারী অধ্যাপক রে স্টেপটু এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যখন কারো অ্যালাজি বা অ্যাজমা বৃদ্ধি পায়, তাদের মধ্যে যে লক্ষণ দেখা যায় তা হয়ে থাকে অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী উপাদানের প্রোটিনের সাথে ইমিউন কোষের প্রতিক্রিয়ার ফলে’।
‘আমাদের কাজটিতে পরীক্ষামূলক অ্যাজমা সৃষ্টিকারী উপাদান ব্যবহার করা হয়, কিন্তু এই গবেষণাটি প্রয়োগ করা যেতে পারে যাদের চিনাবাদাম, মৌমাছির বিষ, খোলসযুক্ত মাছ এবং অন্য জিনিসের প্রতি তীব্র অ্যালার্জির সমস্যা হতে দেখা যায় তাদের নিরাময়ে’।
এই গবেষণায় গবেষকেরা রক্তের স্টেম সেল গ্রহণ করেন এবং এর মধ্যে একটি জিন প্রবেশ করান যা অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী প্রোটিনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তারা দেখেন যে, ইমিউন প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে অ্যালার্জির স্মৃতিকে মুছে ফেলা সম্ভব। সুতরাং অ্যালার্জেন (অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী উপাদান) এর পুনরায় প্রকাশের উপর প্রতিক্রিয়ার পথকেও বন্ধ করতে পারবে।
বর্তমানে গবেষণাটি প্রি-ক্লিনিক্যাল দশায় আছে, অর্থাৎ এটি মানুষের উপর পরীক্ষা করা হয়নি। গবেষক দলটি এটি নির্দিষ্ট অ্যাজমার অ্যালার্জেন যুক্ত ইঁদুরের উপর প্রয়োগ করে এবং তারা অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়াকে প্রতিরোধ করতে সক্ষম হন। পরবর্তী পদক্ষেপ হচ্ছে পরীক্ষাগারে মানুষের কোষের উপর পরীক্ষা করা।
অধ্যাপক স্টেপটু একটি ভিডিওতে উদ্ভাবনটি নিয়ে বলেন, ‘উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, যে শিশুদের চিনাবাদামের অ্যালার্জি আছে তারা অন্য শিশুদের খাবার থেকে সংক্রমিত হওয়ার ভয় ছাড়াই স্কুলে যেতে পারবে’।
বিজ্ঞানীরা আশা করছেন যে ক্রমান্বয়ে সম্ভাব্য প্রাণঘাতী অ্যালার্জি ও নিরাময় করা সম্ভব হবে মাত্র একটি ইঞ্জেকশনের মাধ্যমেই। আপনার চিকিৎসকের কাছ থেকে পাওয়া একটি ইনজেকশনই আপনাকে স্থায়ী সুরক্ষা দিতে পারবে। বর্তমানে অ্যালার্জিতে আক্রান্তদের স্বল্প মেয়াদী চিকিৎসাকে প্রতিস্থাপন করতে পারবে এটি।
হিসাব করে দেখা গেছে যে এটি মানুষের উপর পরীক্ষা করার আগে আরো ৫ বছর পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করতে হবে। একটি ইঞ্জেকশনের মাধ্যমেই নিরাময় লাভ করার চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনের জন্য আরো ১০ থেকে ১৫ বছর সময় প্রয়োজন। যেমন আশা করা হচ্ছে তেমন ফল পাওয়া গেলে এটি অ্যাজমায় আক্রান্তদের জন্য একটি যুগান্তকারী আবিষ্কার বলে বিবেচিত হবে।
সূত্র: আই এফ এল সায়েন্স



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft