দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
যশোরে কলগার্ল ব্যবসা ও ব্লাকমেইল ৯
সুলতানপুরের আকরামের চরম নোংরামির নাম কেয়া-পিয়ার মা সিন্ডিকেট
অভিজিৎ ব্যানার্জী :
Published : Thursday, 15 June, 2017 at 12:18 AM

সুলতানপুরের আকরামের চরম নোংরামির নাম কেয়া-পিয়ার মা সিন্ডিকেটযশোরের আরও একটি সংঘবদ্ধ দেহ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ও ব্লাক মেইলিং কলগার্ল সিন্ডিকেটের নাম সুলতানপুরের আকরাম সিন্ডিকেট। এক্ষেত্রে আকরাম করে চলেছে চরম নোংরামি। যা থেকে রেহাই পাচ্ছে না তার মেয়ে ও ছেলে বৌও।
নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী, তার আগের ঘরের মেয়ে (হেতো) ও ছেলে বউকে দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে তার কলগার্ল ব্যবসা ও দেহ ব্যবসার রমরমা কারবার। কয়েকটি আবাসিক হোটেল ম্যানেজার, হোটেল বয় ও ডজনখানেক দালাল তার ব্যবসার হাতিয়ার। আকরাম সিন্ডিকেটের অপর নাম কেয়া ও পিয়ার মা সিন্ডিকেট।
কলগার্ল ব্যবসায় খরিদ্দার সংগ্রহে আকরাম পরিচালিত কেয়া-পিয়ার মা সিন্ডিকেট এখন এগিয়ে আছে। প্রতিবেশিদের বোকা বানাতে খরিদ্দার ও কলগার্লদের তাদের বিভিন্ন সম্পর্কের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে চলছে ধুরন্ধর আকরাম গং। কলগার্ল লেলিয়ে দিয়ে খরিদ্দারকে ব্লাকমেইল ফাঁদে ফেলে ৫০ হাজার থেকে দু’লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিয়ে কুখ্যাতি অর্জন করেছে এই সিন্ডিকেট। বছর কয়েক আগেও নুন আনতে পান্তা ফুরানো আকরাম গংয়ের সদস্যরা এখন চলছে ঠাঁটে বাটে।
বছর পাঁচেক আগে যশোরের নীলগঞ্জে এক দেহ পসারিনির ডেরায় অনৈতিক কাজে গিয়ে সুলতানপুরের আকরামের সাথে পরিচয় হয় আলোচিত কলগার্ল কেয়ার মার। আর ওই ডেরায় নিয়মিত আসা যাওয়ার সুবাদে এই কেয়ার মায়ের সাথে প্রেমজ সম্পর্ক গড়ে ওঠে সুলতানপুরের মাদক কারবারী আকরামের। শেষেমেষ এক মেয়ে ও এক ছেলেসহ ওই কেয়ার মাকে বিয়ে করে এই আকরাম। সেখান থেকে শুরু তাদের নতুন সিন্ডিকেট। কলগার্ল আর দেহপসারিনি বাজারে নাম হয় আকরাম পরিচালিত কেয়া-পিয়ার মা সিন্ডিকেট। আকরাম ওই কেয়া পিয়ার মাকে নিয়ে শহরের কয়েকটি ফ্লাট ভাড়া করে চালায় কলগার্লের রমরমা কারবার। ডজন দেড়েক কলগার্ল এই চক্রের দখলে রয়েছে। এর মধ্যে মধ্যম ও সাধারণ মানের কলগার্ল এই চক্রে বেশি।
প্রিয়াংকা, অনন্যা, সাগর, জুঁই, লাবনী, রানী, জুলেখা, অনামিকা, সোহেলীসহ আরও নানা নাম ধারণ করে চিহ্নিত কতিপয় কলগার্ল আকরাম সিন্ডিকেটের ডেরা সমৃদ্ধ করছে। সিন্ডিকেটটি এখন এতটাই বেপরোয়া আর নির্লজ্জ হয়ে পড়েছে যে, তারা ব্যবসায় আরও বেশি লাভ ও মুনাফার জন্য নিজের হেতো মেয়ে ও হেতো ছেলে বউকে দিয়ে করাচ্ছে কলগার্লের জমজমাট ব্যবসা। এখন এই ব্যবসা চলছে খোদ সুলতানপুরে আকরামের নিজের বাড়িতে।
আকরামের কলগার্ল স্ত্রী কেয়া-পিয়ার মা খ্যাত মহিলার নেতৃত্বে  হেতো মেয়ে ও হেতো ছেলে বউ সুলতানপুরের বাড়িতে চালাচ্ছে হরদম অনৈতিকতা। প্রতিবেশিদের থেকে কৌশলে একটু দুরে ফাঁকা জায়গায় বাড়ি করে আকরাম এই ব্যবসা আড়াল করে চলেছে। এখানে প্রতিনিয়ত আত্মীয়রূপি খরিদ্দাররা আসা যাওয়া করছে। বাড়ির সামনে বিভিন্ন ব্রান্ডের মোটর সাইকেল, এমনকি প্রাইভেট দাড়িয়ে থাকে মাঝে মধ্যেই। আর এক ঘন্টা আধা ঘন্টা পরে ওগুলো একে একে সরে যায়। এভাবে কাড়ি কাড়ি টাকা কামিয়ে নেয়া হচ্ছে এই বিনা পুঁজির ব্যবসা করে। প্রতিবেশিরা লোকজন আসা যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন করলে আকরাম ও তার কলগার্ল স্ত্রীর মুখস্ত বক্তব্য, কেউ ছেলে বউয়ের বাড়ির আত্মীয়, কেউ আকরামের বন্ধু, কেউ কেয়া-পিয়ার মায়ের পিতার বাড়ির লোকজন আরও কত কি!
প্রতিবেশিদের চোখে ধুলো দিয়ে নানা মিথ্যা বুলি আওড়িয়ে পরিবেশ বিঘিœত করা এই আকরাম ও কেয়া-পিয়ার মা সিন্ডিকেট যশোর শহরে ৫/৭টি আবাসিক হেটেলেও কলগার্ল সাপ্লাই দিয়ে যাচ্ছে। সব টাকা সিন্ডিকেটে রাখতে প্রথমে নিজের হেতো মেয়ে ও  হেতো ছেলের বউকে পাঠাচ্ছে। খরিদ্দাররা অন্য কিছু ডিমান্ড করলে সেখানে অন্য কলগার্লদের পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। কলগার্ল ব্যবসায় টাকা তিন ভাগে ভাগ হচ্ছে। একটি  আকরাম সিন্ডিকেট,  কলগার্ল আর তৃতীয় হচ্ছে মধ্য সত্ত্বভোগী দালাল ও হোটেল সংশ্লিষ্টরা। বাসা বাড়ির ডেরায় সিন্ডিকেট ও কলগার্লের চার্জের পাশাপাশি ৫শ’ থেকে ৭শ’ টাকা অতিরিক্ত গুনতে হয় খরিদ্দারদের। আর দু’হাজার থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়া হয় খরিদ্দার প্রতি এক ঘন্টা সময় কাটাতে। খরিদ্দারের পছন্দ মত জায়গায় কলগার্ল চাইলে সেখানে রুম ভাড়া কমলেও আকরাম মোটরসাইকেল ভাড়া হিসেবে কলগার্ল ট্রাভেল চার্জ অতিরিক্ত দুশো টাকা হাতিয়ে নেয়।
মূলত কয়েক বছর ধরে যশোর শহর ও শহরতলীসহ আরও কয়েকটি এলাকা চষে বেড়াচ্ছে কলগার্লদের হোতা আকরাম পরিচালিত এই কেয়া পিয়ার মা চক্র। কলগার্ল ও খরিদ্দারের সাথে মোবাইলে চুক্তি করে বিকাশে টাকা নিয়ে থাকে এই সিন্ডিকেট। আর পাঠিয়ে দিচ্ছে চক্রের পছন্দের ডেরায়। আর এই চক্রে বিভিন্ন নামে আত্মীয় পরিচয়ে থাকা কয়েক কলগার্লকে দিয়ে ফ্লিমি স্টাইলে ব্লাকমেইল করাচ্ছে আকরাম। কলগার্লের মিস কলের মাধ্যমে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হওয়ার সংকেত পেয়ে মিলন সিন্ডিকেটের মতই মিনিট দশেক পরে দরজায় টাক টাক করছে আকরামের সাজানো লোকজন। তারা প্রাথমিকভাবে খরিদ্দারকে চড় থাপ্পড় মারছে। আর পরিকল্পনা আগে থেকে জানা কলগার্লকেও মারছে দু’একটা। এরপর তাদের থানায় দিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়। আবার বিয়ে দেয়ার কথাও বলা হয়। এমনকি খরিদ্দারের স্ত্রী ছেলে-মেয়েদের খবর দেয়ার হুমকি দেয়া হয়। এভাবে ৫০ হাজার থেকে দু’লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেয়া হয়। এই টাকার ৫০ শতাংশ পেয়ে থাকে আকরাম সিন্ডিকেট। বাকি ৫০ শতাংশের ২০ শতাংশ পায় কলগার্ল। আর বাকি ৩০ শতাংশ পাচ্ছে সাজানো চক্রটি।
ব্লাকমেইলিংয়ের শিকার লোকজন মান সম্মানের ভয়ে কাড়ি কাড়ি টাকা দিতে বাধ্য হলেও মুখও খুলতে পারছে না। গ্রামের কাগজে কলগার্ল ব্যবসা ও ব্লাকমেইল সংক্রান্ত সিরিজ সংবাদ প্রকাশের পর অনেকে টেলিফোনে ও মোবাইলে তথ্য দিচ্ছে। নিজে প্রতারিত হওয়া বা পরিচিত কারো ব্লাকমেইলের শিকার হওয়ার তথ্য দিচ্ছে। কিন্তু লজ্জায় নিজের পরিচয় গোপন করছে।  
সুপ্রিয় পাঠক, আপনাদের কেউ এই কলগার্ল চক্রের প্রতারণার শিকার হন কিংবা ব্লাক মেইলিংয়ের শিকার হলে পত্রিকা দপ্তরে তথ্য দিতে পারেন। আপানার পরিচয় শতভাগ গোপন রেখে সংবাদ প্রকাশ করা হবে এবং ওই চক্রের মুখোশ উন্মোচন করা হবে।



আরও খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft