ক্রীড়া সংবাদ
সেরা সাতারুর খোঁজে বাংলাদেশ সেরা কেয়া’র স্বপ্ন পূরণে সারথী হলেন যশোর জেলা প্রশাসক
কাগজ সংবাদ :
Published : Wednesday, 7 June, 2017 at 12:25 AM
সেরা সাতারুর খোঁজে বাংলাদেশ সেরা কেয়া’র স্বপ্ন পূরণে সারথী হলেন যশোর জেলা প্রশাসকযশোরের মেয়ে ফাতেমা আক্তার কেয়া। ‘সেরা সাতারুর খোঁজে বাংলাদেশ’ এর তৃতীয় পর্বের প্রতিযোগিতায় ৫০ মিটার বাটারফ্লাই ইভেন্টে ৩৪.০৪  সেকেন্ড টাইমিংয়ে প্রথম হন। গত ২৫ মে ঢাকাস্থ নৌবাহিনী সদর দপ্তরের সুইমিং পুলে সব প্রতিযোগীদের পিছে ফেলে অদম্য এ সাতারু প্রথম হয়ে পুরস্কার গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে। তবে তার সফলতার পেছনের গল্পটি জলের মতো তরল ছিলনা কখনো। সুইমিং পুলের জলের মতো চোখের জলেও প্রতিনিয়ত সাঁতরাতে হয়েছে কেয়াকে। যশোর জেলা প্রশাসক ড. মোঃ হুমায়ুন কবীরের একটি অনুকরণীয় উদ্যোগে গতকাল থেকে নির্ভার কেয়া। এখন শুধু সোনালী স্বপ্নের পিছে ছোটাই তার ধ্যানজ্ঞাণ।
যশোর রায়পাড়ার মধু গাজী আর পলি বেগমের ৫ সন্তানের মধ্যে  ৪র্থ কেয়া। যশোর ইসলামিয়া গার্লস হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী কেয়া। ২০০৭ সালে সিভিল কোর্ট মোড়ের চা দোকানী মধু গাজীর মৃত্যুর পর সংসারে নেমে আসে দারিদ্র্যতার অন্ধকার। একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তির অনুপস্থিতে সংসারের প্রয়োজনে কেয়ার মা পলি বেগমকে সিভিল কোর্ট মোড়ের ফুটপাতে চা বিক্রি পেশা হিসেবে বেছে নিতে হয়। কিন্তু বাস্তবতা বড় নির্মম। আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন নারী পলি বেগম পরিবেশ পরিস্থিতিতে সন্তানদের অনাগত ভবিষ্যতের কথা ভেবে ইস্তফা দেন চা দোকানী পেশার।  সন্তানদের মানুষ করতে অন্যের বাড়িতে কাজ করেছেন পলি বেগম। এ ভাবেই চলছিল কেয়াদের জীবন পরিক্রমা। যশোরের সাঁতারের দিকপাল আবদুল মান্নানের নিবিড় পরিচর্যায় অভাবের মাঝেও চলতে থাকে সাঁতার প্রশিক্ষণ। গেল বছর ৫০ মিটার ফ্রি স্টাইলে বিকেএসপির রুপাকে হারিয়ে প্রথম হয় কেয়ার ছোট বোন রিয়া। বাংলাদেশ আনসার কর্তৃপক্ষ ক্ষুদে এই প্রতিভাকে নিজেদের করে নেন। সেই থেকে আনসারের একজন নিয়মিত সদস্য রিয়া। আনসার থেকে পাওয়া পাঁচ হাজার টাকায় নিজের খরচ মেটানোর পর প্রতি মাসে দেড় হাজার টাকা মায়ের হাতে তুলে দিতেন রিয়া। র্দুমূল্যের এ বাজারে যা ছিল যত সামান্য।
গত বছর ‘সেরা সাতারুর খোঁজে বাংলাদেশ’ জেলা পর্যায়ে যশোর কালেক্টরেট পুকুরে প্রিয় ইভেন্ট বাটার ফ্লাইতে ৩৬  সেকেন্ড সময় নিয়ে প্রথম হন কেয়া। তখন থেকে কেয়া সকলের আলোচনায় আসেন। ১ হাজার ২’শ ৭৫ জন প্রতিযোগীদের পিছে ফেলে দেশের মধ্যে ডায়মন্ড নির্বাচিত হন কেয়া। সেই থেকে কেয়ার সার্বিক খোঁজ খবর নিয়েছেন যশোর জেলা প্রশাসক। তাকে জুগিয়েছেন মানসিক শক্তি ও সাহস।
শত প্রতিকূলতার জলরাশিকে অতিক্রম করে কেয়া যেন তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেন সে জন্য পৃষ্ঠপোষকতা করে গেছেন যশোর জেলা প্রশাসক। কিন্তু প্রতিনিয়ত দারিদ্র্যতার চোখ রাঙানীতে বারবার স্বপ্ন হোঁচট খাবার উপক্রম হয়েছে কেয়ার। এতদূর এসেও কেয়া শঙ্কিত ছিল তার স্বপ্নময় আগামী নিয়ে। সে শঙ্কাকে দূরীভূত করে দিলেন যশোর জেলা প্রশাসক ড. মোঃ হুমায়ুন কবীর। গতকাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কেয়াকে ডেকে নিয়ে ২৫ হাজার টাকার চেক তুলে দেন। সেই সাথে কেয়া আর রিয়া পড়ালেখার দায়িত্বভার তুলে নিলেন নিজ কাঁধে। পরিবারের স্বচ্ছলতা আনতে আজ কেয়ার ভাইয়ের হাতে তুলে দিচ্ছেন একটি একটি ভ্যান গাড়ি।
জেলা প্রশাসকের এ মহানুভবতায় গতকালও কেয়ার চোখে ছিল জল। তবে সে জল দুঃখের নয় সুখের। পিতৃহীন কন্যার পাশে পিতার ভূমিকায় যশোর জেলা প্রশাসকের এ সহযোগিতা চোখের কোনায় চিকচিক করা জলের ভিতর হাতছানি দিয়েছে সুন্দর সমৃদ্ধ আগামীর।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft