অর্থকড়ি
দেশজুড়ে নকল রাজস্ব স্ট্যাম্প সরকার হারাচ্ছে বিপুল রাজস্ব
কাগজ ডেস্ক :
Published : Wednesday, 17 May, 2017 at 6:02 PM
দেশজুড়ে নকল রাজস্ব স্ট্যাম্প সরকার হারাচ্ছে বিপুল রাজস্বদেশের সরকারি-বেসরকারি অফিসগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা উত্তোলন এবং বিভিন্ন বিল-ভাউচারের টাকা পরিশোধের ক্ষেত্রে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার রাজস্ব স্ট্যাম্প ব্যবহৃত হচ্ছে। ওই স্ট্যাম্পগুলোর মূল্য ৫ টাকা ও ১০ টাকা। আরো বেশি দামের স্ট্যাম্পও আছে। সাধারণ কাগজ দিয়েই ওসব স্ট্যাম্প ছাপা হয়। তাতে কোনো সিকিউরিটি সিল থাকে না। ফলে সাধারণ মানের প্রেসেই ওই ধরনের স্ট্যাম্প ছাপানো যায়। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দেশজুড়ে জাল রাজস্ব স্ট্যাম্প ছড়িয়ে দিচ্ছে অসাধু চক্রের সদস্যরা। পাশাপাশি ওই চক্র নন-পোস্টাল স্ট্যাম্প, নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, কপি স্ট্যাম্পও একইভাবে জাল করছে। দেশজুড়েই রাজস্ব স্ট্যাম্প জালিয়াতি চরম আকার ধারণ করেছে। অসাধু সিন্ডিকেট বিভিন্ন স্থানে সরকারি-বেসরকরি অফিস-আদালতে জাল রাজস্ব স্টাম্প ছড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে সরকার হারাচ্ছে শত শত কোটি টাকার রাজস্ব। ইতিমধ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীগুলো রাজস্ব স্ট্যাম্প জালিয়াতির বেশ কয়েকটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে। কয়েকজনকে গ্রেফতারর করে চাঞ্চল্যকর তথ্যও পেয়েছে। আরো কয়েকটি চক্রকে ধরার চেষ্টা চলছে। জাল টাকা শনাক্তের জন্য দেশে অনেক উদ্যোগ নেয়া হলেও জাল স্ট্যাম্প শনাক্তের ক্ষেত্রে তেমন কোনো ব্যবস্থা না থাকায় জালিয়াতচক্র এক্ষেত্রে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। অসাধু চক্রের সদস্যরা নিজেরাই প্রেস বসিয়ে স্ট্যাম্প ছাপাচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ডাক বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, শত শত কোটি টাকার রাজস্ব স্ট্যাম্প জালিয়াতি দীর্ঘদিন ধরে অব্যাহত থাকলেও তা ঠেকাতে ডাক বিভাগের কোনো উদ্যোগ নেই। জাল স্ট্যাম্প ব্যবহার না করার জন্য সরকারি ওই দফতরের চোখে পড়ার মতো কোনো সতর্কীকরণ পদক্ষেপ নেই। আর বেশির ভাগ মানুষই আসল-নকল স্ট্যাম্প চেনে না। প্রশাসন থেকেও জাল স্ট্যাম্পের ব্যাপারে খুব একটা খোঁজ-খবর নেয়া হয় না। ফলে অনেকটা নির্বিঘেœই স্ট্যাম্প জালিয়াতির কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে চক্র। কয়েকটি চক্র দেশের বিভিন্ন পোস্ট আফিস, আদালত, গার্মেন্ট ও কলকারখানা, সরকারি হাসপাতাল, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিসে জাল স্ট্যাম্প বিক্রি করছে। সেজন্য তারা নিজস্ব এজেন্টও নিয়োগ করেছে। ১০ টাকার স্ট্যাম্প দুই টাকায় কিনে তারা ৫ টাকায় বিক্রি করে। তবে ওই চক্রের রাঘব-বোয়ালদের অনেকেই ঢাকায় থেকেই স্ট্যাম্প জালিয়াতির ব্যবসা পরিচালনা করছে।
সূত্র জানায়, সম্প্রতি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের জাল স্ট্যাম্পসহ জালিয়াত চক্রের কয়েক সদস্যকে সরঞ্জামসহ আটক করেছে। পুলিশের জিজ্ঞাবাসাদে আটককৃতরা জানিয়েছে, জাল ১০ টাকার রাজস্ব স্ট্যাম্প বিক্রি করা হয় দুই টাকা দরে। ঢাকার আশপাশে বেশ কয়েকটি জালিয়াতচক্র স্ট্যাম্প নকলের কাজে সক্রিয়।  দীর্ঘদিন ধরে তারা স্ট্যাম্প জালিয়াতি কওে আসছে। জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ  জানতে পারে. ঢাকায় অন্তত ৩০ সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে জাল রেভিনিউ স্ট্যাম্প তৈরিতে সক্রিয় রয়েছে। জাল রাজস্ব স্ট্যাম্প বাণিজ্য তিন ধাপে সম্পন্ন হয়। একটি দল জাল স্ট্যাম্প তৈরির করে। দ্বিতীয় দলটি সেগুলো বিভিন্ন দোকানে সরবরাহ করে এবং তৃতীয় দলটি সরাসরি সেগুলো গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেয়। জালিয়াত চক্রের কেউ কেউ বিদেশি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিল রেজিস্ট্রি করার সময় ব্যবহৃত কোটি কোটি টাকার রেভিনিউ স্ট্যাম্প সরবরাহ করে থাকে। কারণ বিদেশি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিলের সময় ওই ধরনের রেভিনিউ স্ট্যাম্প যাচাই করার সুযোগ কোনো রেজিস্ট্রি অফিসে নেই। ফলে নির্বিঘেœ সেখানে জাল রাজস্ব স্ট্যাম্প ব্যবহৃত হচ্ছে।
সূত্র আরো জানায়, ৫ ও ১০ টাকা মূল্যের রাজস্ব স্ট্যাম্প বিক্রি হয় দেশের বিভিন্ন পোস্ট অফিসে। ওই ধরনের রাষ্ট্রীয় ডকুমেন্টস নকলের বিষয়ে সম্পূর্ণ দায়িত্বও ডাক বিভাগেরই। অভিযোগ রয়েছে ডাক বিভাগেরই কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ওই জালিয়াতির সাথে জড়িত। কোনো কোনো পোস্টমাস্টার জাল স্ট্যাম্প বিক্রি করে কোটিপতি হওয়ার তথ্যও জানা যায়।
এ প্রসঙ্গে ডাক বিভাগের পরিচালক (স্ট্যাম্প) মনসুর রহমান জানান, ডাক বিভাগের কোনো কর্মচারী ওসব অপকর্মের সাথে জড়িত না। বাংলাদেশ ডাক বিভাগ ওই জালিয়াতি প্রতিরোধে আধুনিক প্রযুক্তি বা ইউভি ফাইবারযুক্ত কালিতে মড়া লেখা বিশেষ পেপারে স্ট্যাম্প বা রেভিনিউ স্ট্যাম্প ছাপিয়ে পোস্ট অফিসগুলোতে সরবরাহ করছে। জালিয়াতচক্রের পক্ষে এ ধরনের স্ট্যাম্প তৈরি করা সম্ভব নয়।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft