সম্পাদকীয়
সাইবার সিকিউরিটি: বাংলাদেশ কি প্রস্তুত?
Published : Tuesday, 16 May, 2017 at 12:11 AM
‘ওয়ানাক্রাই’ নামে ছড়িয়ে পড়া র‌্যানসামওয়্যার ভাইরাসে ইংল্যান্ড, স্পেন, ফ্রান্স, রাশিয়া এবং চীনসহ বিশ্বের ১শ’টি দেশের দু’লাখের বেশি কম্পিউটার আক্রান্ত হয়েছে। ইংল্যান্ডে স্বাস্থ্যখাতে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি। সেখানে রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা ন্যাশনাল হেলথকেয়ার সার্ভিসেস (এনএইচএস)-এর অধীনে থাকা ৪৮টি ট্রাস্ট এবং স্কটল্যান্ডে ১৩টি এনএইচএস-ভুক্ত প্রতিষ্ঠান সাইবার হামলার শিকার হয়। এতে অনেক হাসপাতাল সার্জারিসহ বিভিন্ন চিকিৎসা ব্যবস্থা বন্ধ করতে বাধ্য হয়। হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স সেবায় দেখা দিয়েছে মারাতœাক বিভ্রাট। কম্পিউটার ও সার্ভার ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করে সাময়িকভাবে কাজ শুরু হলেও আবারও হুমকির মুখে ইংল্যান্ডসহ সারা বিশ্ব। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার রিজার্ভ চুরির ঘটনা ঘটে। এর বেশিরভাগটাই শেষ পর্যন্ত গিয়েছিল ফিলিপিন্সের বিভিন্ন ক্যাসিনোতে। নানা পদক্ষেপের পর অল্প কিছু উদ্ধার হলেও বেশির ভাগ অর্থই উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এটা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অন্যতম সাইবার অ্যাটাক বলে এখন পর্যন্ত চিহ্নিত।
তথ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশের ৫২ শতাংশ ব্যাংক, যার মধ্যে ভয়াবহ মাত্রায় নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে ১৬ শতাংশ, আর ৩৬ শতাংশ রয়েছে উচ্চ মাত্রার নিরাপত্তা ঝুঁকিতে বলে কয়েকদিন আগে জানিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম)। বিদেশি সফটওয়ার ব্যবহার, দক্ষ জনশক্তির অভাব ও কর্মকর্তাদের অসৎ উদ্দেশ্যই এসব ঝুঁকির জন্য দায়ী বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া দেশের জাতীয় পরিচয়পত্র প্রকল্পসহ পাসপোর্ট, জনশক্তি রপ্তানি, কাষ্টমস, রেলওয়ে, ব্যাংক ও টেলিকমখাতের বিভিন্ন তথ্য ভান্ডার অনলাইনে রয়েছে। যেগুলো এখন পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবে চললেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কোন জরিপ বা তথ্য আমরা জানি না। সার্বিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশও রয়েছে প্রচন্ড সাইবার অ্যাটাকের মুখে। উন্নত দেশগুলো সাইবার অ্যাটাকে আক্রান্ত হলে তাদের ব্যাকআপ ও বিকল্প ব্যবস্থায় ফিরে আসার যে প্রস্তুতি রয়েছে, তা বাংলাদেশের কতোটুকু রয়েছে তা নিয়ে আমরা যথেষ্ঠ সন্দিহান। এছাড়া সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ে পর্যাপ্ত লোকবলের সঙ্গে বাজেট ঘাটতি রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্টরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ডিজিটাল বাংলাদেশের ইতিবাচক স্লোগানে ও সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগে দেশের নাগরিক সেবার যে ডিজিটাল ব্যবস্থা বিদ্যমান তা মোটাদাগে হুমকির মুখে বলে আমরা মনে করি। কাজেই আক্রান্ত হবার আগেই সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঝুঁকি চিহ্নিত করা দরকার এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে চলমান ডিজিটাল সেবা সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট সকলে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন বলে আমরা আশা করছি।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft