স্বাস্থ্যকথা
গলাকাটা বাণিজ্য অসাধু ডাক্তারদের!
কাগজ ডেস্ক :
Published : Friday, 12 May, 2017 at 8:12 PM
গলাকাটা বাণিজ্য অসাধু ডাক্তারদের!অসুস্থ মানুষের ডায়গনস্টিক পরীক্ষার নামে অসাধু ডাক্তারদের কমিশন বাণিজ্য বেপরোয়া ভাবে বেড়ে চলেছে। এক্ষেত্রে তাদের নীতি হলো ‘যত টেস্ট তত টাকা’।
একাধিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ডাক্তার পরীক্ষার মোট বিলের শতকরা ৩০ থেকে ৬০ ভাগ পর্যন্ত কমিশন পান। আর এ কমিশনের লোভে রাতারাতি টাকা আয়ের সহজ পথ হিসেবে রোগীকে ধরিয়ে দিচ্ছেন নানা অপ্রয়োজনীয় টেস্ট। কারণ, প্রেসক্রিপশনে যত বেশি ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার বিষয় উল্লেখ থাকবে, সংশ্লিষ্ট ডায়গনস্টিক সেন্টার থেকে ততই কমিশন পাবেন তিনি।
রাতারাতি অর্থপ্রাপ্তির জন্য এসব ডাক্তাররা শুধু টেস্ট ধরিয়ে দিয়েই ক্ষান্ত হচ্ছেন এমনটি নয়। একইভাবে প্রাইভেট হাসপাতালে রোগী ভর্তি, নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের ওষুধ প্রেসক্রাইব, বিনা প্রয়োজনেও অপারেশন করানো, প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে লাইফ সাপোর্টে পাঠানো, কেবিনে রোগী ধরে রাখা, এমনকি রোগীর মৃত্যুর পরও রোগীর আত্মীয়দেরকে ‘মারা যায়নি’ বলে লাইফ সার্পোট দেওয়ার নাটক করা ইত্যাদিসহ লাশ হিসেবে হস্তান্তর পর্যায়ের নানা ধাপেই কমিশন লেনদেন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
দেশে বৈধ লাইসেন্সে মাত্র ৭ হাজার ৬০০ প্রাইভেট হাসপাতাল-ক্লিনিক এবং ৬ হাজার ৮৬৮টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থাকলেও অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে প্রায় দেড় লাখ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান। রাজধানীসহ দেশের সর্বত্র ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে হাসপাতাল, ক্লিনিক, নার্সিং হোম। সাইনবোর্ড-সর্বস্ব এসব প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাসেবার নামে চলছে গলা কাটা বাণিজ্য।
সাইনবোর্ড-সর্বস্ব এসব প্রতিষ্ঠানে হাতুড়ে টেকনিশিয়ান দিয়েই চলে রোগ নির্ণয়ের সব পরীক্ষায় মনগড়া রিপোর্ট তৈরি করে ঠকাচ্ছে নিরীহ মানুষকে। একই রোগ পরীক্ষায় একেকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে একেক রকম রিপোর্ট পাওয়ার অসংখ্য নজির রয়েছে।
সরকারি হাসপাতালের একশ্রেণির ডাক্তারের সহায়তায় এসব কর্মকা- দিন দিন বেড়েই চলছে। ডাক্তাররা রোগী নিজের পছন্দের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সেই টেস্ট করালে ডাক্তার সে রিপোর্ট গ্রহণ করেন না। এছাড়া কমিশনের লোভে বেশির ভাগ সরকারি হাসপাতালের প্যাথলজিক্যাল বিভাগটিকে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে পরীক্ষার ফি বাবদ ইচ্ছামাফিক টাকা-পয়সা আদায় করা হচ্ছে। বেশি টাকা দিয়ে টেস্ট করিয়েও সঠিক রোগ নির্ণয়ের নিশ্চয়তা পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা।
ডাক্তাররা এখন সামান্য জ¦র, ঠা-া, কাশির জন্যও ডজন ডজন পরীক্ষা লিখে দেওয়া, প্রয়োজন না থাকলেও হাসপাতালে ভর্তি করানো, অপ্রয়োনীয় অপারেশন করিয়ে লাইফ সাপোর্টের পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হয় রোগীকে। সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী বাগিয়ে নিয়ে অভিজাত হাসপাতালে ভর্তি করাতে পারলেই শতকরা ৪০ ভাগ ‘ভর্তি ফি’ সংশ্লিষ্ট ডাক্তারের পকেটে যাচ্ছে।
চিকিৎসার নামে নানা কৌশলে রোগী ও তার স্বজনদের পকেট খালি করেও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ক্ষান্ত হচ্ছে না, উপরন্তু রোগীকে বন্দী রেখে বা রোগীর লাশ জিম্মি করেও লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসাক্ষেত্রে এরূপ বাণিজ্যের প্রভাবে চিকিৎসা ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে গরিব মানুষ চিকিৎসা নিতে গিয়ে আরও নিঃস্ব হয়ে পড়ছে।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft